পঞ্চায়েতে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী বিজেপির, সাম্প্রদায়িক তকমা ঝেড়ে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলকে
বাংলা দখলের লক্ষ্যে সাম্প্রদায়িক তকমা ঝেড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। সেই কারণেই এবার রেকর্ড সংখ্যক সংখ্যালঘু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে পদ্মশিবির।
বাংলা দখলের লক্ষ্যে সাম্প্রদায়িক তকমা ঝেড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। সেই কারণেই এবার রেকর্ড সংখ্যক সংখ্যালঘু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে পদ্মশিবির। লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির এই সিদ্ধান্তকে মাস্টারস্ট্রোক হিসেবেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পূর্ব পরিকল্পনা করেই এবার পঞ্চায়েতে ৮৫০ জন মুসলিমকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি।

২০১৩ সালের বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির সংখ্যালঘু প্রার্থী ছিল ১০০-র কম। কিন্তু এবার তা একলাফে বেড়ে হয়েছে ৮৫০। যা এক কথায় রেকর্ড। বিজেপি বুঝিয়ে দিয়েছে, বাংলা দখলের লক্ষ্যে, সর্বোপরি আসন্ন ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করতে বিজেপি কতটা মরিয়া। তা এবার দেখা গেল পঞ্চায়েতে বিজেপি-প্রার্থীর মনোনয়ন পরিসংখ্যানেই।
বিজেপি যে এবার বাংলাকে টার্গেট করেছে, তা আগে থেকেই ফলাও করে জানিয়ে দিয়েছিল নেতৃত্ব। বিশেষ করে ত্রিপুরায় ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটানোর পর, তা আরও স্পষ্ট হয়েছিল। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বঙ্গ নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেইমতোই নয়া কৌশল প্রয়োগ করে এগোতে চাইছে বিজেপি।
বিজেপি শিবির মনে করছে, বাংলায় ঘাঁটি গাড়তে সবার আগে দরকার দলের সাম্প্রদায়িক তকমা ঝেড়ে ফেলা। কেননা বাংলায় সংখ্যালঘু ভোট নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে তৃণমূলের দিকেই সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক। তৃণমূলের দিক থেকে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক ভাঙাতে হবে, তবেই দুর্বল করা সম্ভব হবে।

সেই লক্ষ্যেই বিজেপি এবার রেকর্ড সংখ্যক সংখ্যালঘু মুসলিমকে প্রার্থী করে এগোতে চাইছে। অতীতে কোনওদিনই এত সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী দিতে পারেনি বিজেপি। এবার তাঁরা সফল হল। সেইসঙ্গে বার্তা দিল সংখ্যালঘুদের। বিজেপি যে তৃণমূলের বিকল্প শক্তি হতে চাইছে, তাঁরা যে সাম্প্রদায়িক নয়, তা বুঝিয়ে দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
২০১৩ সালের নিরিখে সংখ্যালঘু প্রার্থী বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতারা। এই বৃদ্ধি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের কাছেও অকল্পনীয় বলে মনে করা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর, বীরভূম ও দুই ২৪ পরগনায় সবথেকে বেশি সংখ্যালঘু প্রার্থী করেছে বিজেপি।
রাজ্যের সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আলি হোসেন বলেন, বাংলার মানুষ বুঝতে শুরু করেছে বিজেপি তাঁদের শত্রু নয়। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, বাংলার প্রথম নয়, ২০টি রাজ্যে বিজেপির শাসন চলছে, সেখানে সংখ্যালঘুরা শান্তিতে বসবাস করছেন, বাংলাতেও তাঁরা শান্তি আনবেন।












Click it and Unblock the Notifications