অমিতের ভোকাল টনিকেও কাজ হল না, বঙ্গ বিজেপি তিমিরেই! কোন্দলে জট আন্দোলনে
অমিতের ভোকাল টনিকেও কাজ হল না, বঙ্গ বিজেপি তিমিরেই! কোন্দলে জট আন্দোলনে
অমিত শাহও চাঙ্গা করতে ব্যর্থ বঙ্গ বিজেপিকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলা সফরে এসেছিলেন এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত। তিনি ভোকাল টনিকে বঙ্গ বিজেপিকে চাঙ্গা করার নিদান দিয়েছিলেন। কিন্তু সেসবই সার, বঙ্গ বিজেপি যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসার পরও বিজেপি নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করেই চলেছে।

স্বস্তি দিতে পারলেন না অমিত শাহও
বিজেপিতে সমানে চলছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হওয়ার পর বঙ্গ বিজেপিতে যে গ্রহণ লেগেছে, তা থেকে মুক্তি মিলছে না কিছুতেই। একের পর এক নির্বাচনে হার আর হার। তারপর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব লেগেই রয়েছে। আদি বিজেপি বনাম নব্য বিজেপি। আবার এখন তৎকাল বিজেপিরও বাড়বাড়ন্ত। স্বস্তি দিতে পারলেন না অমিত শাহও।

শাহের ভোকাল টনিকেও কাজ হয়নি
রাজনৈতিক মহলের মতে এই মুহূর্তে বঙ্গ বিজেপি লড়াইয়ের জায়গা নেই। যে ক্ষেত্র তারা তৈরি করেছিলেন ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে আগে, তা এখন অস্তাচলে। বিজেপিতে এখন লড়াই চলছে নিজেদের মধ্যে। অমিত শাহের পরিকল্পনাও ব্যর্থ। বিজেপিকে বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাহারণ দিয়ে সক্রিয় করতে চেয়েছিলেন অমিত শাহ। কিন্তু সেই টনিকে কাজ হয়নি।

মমতার উদাহারণও বৃথা গেল
অমিত শাহ বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক সভায় বলেছিলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে গেলে লড়াইয়ের ময়দান ছাড়লে হবে না। লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মার খেলেও লড়াইয়ের ক্ষেত্র ছাড়লে হবে না। বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কম মার খাননি। কিন্তু তিনি লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েননি। তাই তিনি আজ ওই জায়গায়।

নিজের উদাহারণ দিয়েছিলেন শাহ
নিজের উদাহারণ দিয়েও বলেছিলেন, বিরোধী থাকাকালীন তাঁকেও কম হেনস্থার শিকার হতে হয়নি। কিন্তু রাস্তার আন্দোলন ছাড়েননি তাঁরা। মিথ্যা মামলা দেওয়া হবে, মার খেতে হবে, তবু লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেই ক্ষমতায় আসতে হবে। মনে রাখতে হবে একটা বহুমত নিয়ে জিতে আসা নির্বাচিত দলকে ক্ষমতা থেকে সরানো যায় না ৩৫৫ বা ৩৫৬ করে।

বিজেপি আর জেগে উঠল কই
কিন্তু অমিত শাহের সেই নির্দেশের পরও কোনও আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বিজেপি। জেলায় জেলায় বিজেপিকে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। নামমাত্র কয়েকটি মিছিল হয়েছে। দেউচা-পাঁচামিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে বিজেপি। কিন্তু লাগাতার আন্দোলন কোথায়, যে আন্দোলন দেখে মনে হবে বিজেপি এবার জেগে উঠেছে।

হাতে গোনা কয়েকটা আন্দোলন
ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু আন্দোলনকে বৃহত্তর রূপ দেওয়া হচ্ছে না। দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীরা দাবি করেছেন, নেতারা জেলায় জেলায় যাচ্ছেন, আন্দোলন হচ্ছে। মাঝে ঝিমিয়ে পড়লেও এখন আন্দোলনের তীব্রতা বেড়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হল, ১১ মের মধ্যে জেলায় জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ করার কথা থাকলেও এখনও হাতে গোনা কয়েকটা জেলাতেই তা হয়েছে। নতুন কোনও কর্মসূচির পরিকল্পনা করতে পারেনি বিজেপি।

ইস্তফার হিড়িকে জল্পনা অব্যাহত
বিজেপির নীচুতলায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছবিই ফুটে উটছে এই কর্মসূচি রূপায়ণের ক্ষেত্রে। একের বিরুদ্ধে অপরের অভিযোগ। কর্মসূচি রূপায়ণের লোক নেই। দলেরই দাবি, দলকে লিড করার মতো উপযুক্ত নেতা নেই। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সাংগঠনিক জেলায় ইস্তফার হিড়িক পড়েছে। মুর্শিদাবাদে দল ছাড়ছেন বিজেপি নেতারা। নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেই দলে পতন চলছে। তারপরও নীরব বিজেপি নেতৃত্ব। শীর্ষ নেতারা এর দায় এড়াতে পারেন না।












Click it and Unblock the Notifications