তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসছে, একুশের নির্বাচনে বিজেপির কি লাভ হবে
বিজেপি মূলত হিন্দুত্ববাদের উপর জোর দিয়েছে। আর সেই কারণেই মুসলমানদের কাছে পৌঁছতে পারছে না তারা। মুসলমান ভোটারদের নগণ্য সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে তারা।
বিজেপি মূলত হিন্দুত্ববাদের উপর জোর দিয়েছে। আর সেই কারণেই মুসলমানদের কাছে পৌঁছতে পারছে না তারা। মুসলমান ভোটারদের নগণ্য সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে তারা। ফলে তৃতীয় পক্ষের মুসলিম ভোটের বিভাজনের দিকে চেয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। যদি কেউ বিভাজনে সক্ষম হয়, উপকৃত হবে বিজেপি।

একুশের নির্বাচনে কি বিজেপি ফায়দা তুলতে পারবে?
বিগত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় চমকপ্রদ ফল করেছে। মুসলিম ভোটের নগণ্য সমর্থনেই তারা ২ থেকে ১৮-য় পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কি বিজেপি ফায়দা তুলতে পারবে? আরও মুসলিম ভোট যে তাদের দিকে আসবে তা জোর দিয়ে বলা যায় না। তাই মিম-আব্বাসদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে বিজেপিকে।

বাংলায় ভোটারদের মেরুকরণে সহায়তা উভয়েরই
বিজেপি নেতারা তৃণমূল ও কংগ্রেসের মুসলিম তুষ্টির রাজনীতিকে তুলে ধরেছে বারবার। পরোক্ষ বিজেপি হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি করে। এর ফলে হিন্দুত্ববাদী ভোট যেমন একীকরণ এবং পাল্টা মেরুকরণ হয় সামগ্রিকভাবে। উভয়পক্ষই বাংলায় ভোটারদের মেরুকরণে সহায়তা করছেন বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের।

বাংলা ভোট মেরুকরণের দিকে এগিয়ে চলেছে ক্রমশ
তৃণমূল ভাবছে, এবার তারা ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট তাঁদের পক্ষে নিয়েই ময়দানে নামবে। আর ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোট ভাগ হয়ে ২০-২৫ শতাংশ এলেই পোয়াবারো। বিজেপি আবার তার পাল্টা ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটকে একত্রিত হতে আবেদন জানাচ্ছেন। ফলে বাংলা ভোট মেরুকরণের দিকে এগিয়ে চলেছে ক্রমশ।

তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক থাবা বসতে পারে মহাজোট
কংগ্রেস-বাম-সিদ্দিকি-ওয়েইসি একজোট হতে চাইছেন মুসলিম ভোটকে সঙ্ঘবদ্ধ করার লক্ষ্যে। এই সমীকরণে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক থাবা বসতে পারে। তাহলে আদতে লাভ হবে বিজেপির। তৃণমূলের শক্তি যেখানে সেখানেই মহাজোট ঘা দিতে চলেছে। ফলে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক এবার ভেঙে খানখান হতে পারে।

বাংলার কত আসনে মুসলমান কত সংখ্যক
বাংলার ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে ৪৬টি আসনে মুসলিম ঘনত্ব ৫০ শতাংশের বেশি। ১৬টি আসন রয়েছে যেখানে জনসংখ্যার ৪০-৫০ শতাংশ মুসলমান, ৩৩-৪০ শতাংশ মুসলমান ৩৩টি আসনে, ৫০টি আসন রয়েছে যেখানে মুসলমান ভোটার ২০-৩০ শতাংশ। মুসলমানরা বাংলার প্রায় অর্ধেক নির্বাচনী নির্ণায়ক শক্তি হয়ে রয়েছেন।

মুসলিম ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর যে সব জেলায়
বাংলায় প্রায় শতাধিক নির্বাচনী এলাকা রয়েছে যেখানে মুসলিম ভোটাররা নির্বাচনে নির্ধারক শক্তি। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদিয়া ও বীরভূম জেলায় মুসলিম ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। বিশেষত তিনটি জেলা- মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরে হিন্দুদের চেয়ে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি। প্রত্যাশিতভাবে রাজনৈতিক দলগুলি ওই জেলার আসনগুলিতে মুসলিম ভোটকে টার্গেট করে।

মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হলে বাংলার সমীকরণে বদল
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি তৃণমূলের থেকে তিন শতাংশ ভোট পিছনে রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ২০১৯ সালে বিজেপির চেয়ে বেশি তৃণমূল বেশি আসন জিতেছে কারণ ৬৫ শতাংশ মুসলিম ভোট তাদের দিকেই গিয়েছে। কংগ্রেস-বাম মহাজোট, তৃণমূল এবং ওয়েইসি-সিদ্দিকীর দলের মধ্যে মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হলে বাংলার সমীকরণে বদলে যেতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications