"দেশ ভাগ করার জন্যই ওয়াকফ বিল," পদ্মশিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আর কি বললেন?

ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে ইতিমধ্যেই সড়গরম বঙ্গ-রাজনীতি। বৃহস্পতিবার বিজেপির বিরুদ্ধে দেশ ভাগ করার জন্য ওয়াকফ বিল আনার অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে নতুন সরকার গঠনের পরে সংশোধনীর মাধ্যমে এটি বাতিল করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

এদিন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জানান, "বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে যখন নতুন সরকার গঠিত হবে, তখন আমরা বিজেপির আনা এই ওয়াকফ বিল বাতিল করার জন্য একটি নতুন সংশোধনী আনব।" এদিকে বিরোধীরাও এককাট্টা হয়ে বিলের বিপক্ষে ভোট দেবেন বলেই জানিয়েছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপিকে নিশানা করে দলের সাংসদদের পাশে দাঁড়ান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Mamata Banerjee

"দেশ ভাগ করার জন্য বিজেপি এই ওয়াকফ বিল এনেছে," তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন। বুধবার এক বিবৃতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির "বিভাজনমূলক এজেন্ডা"র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, "আমাদের সাংসদেরা আজ ওয়াকফের জন্য লড়াই করছেন। আমার সাংসদরা ওয়াকফ ইস্যুতে কথা বলতে দিল্লিতে আছেন।"

এরপর বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, "জুমলা পার্টির একমাত্র কর্মসূচি হল, দেশ ভাগ করা। তারা 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' নীতিতে বিশ্বাস করে, যা আমরা করি না। আমরা আমাদের সংবিধান অনুসরণ করি।" তিনি আরও বলেন, "বিজেপির টার্গেট বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা। বাংলাকে আর কত হেনস্থা করবে," বিজেপি প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর আগে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাজ্যসভায় ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫ পেশ করেছেন। জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রস্তাবিত আইনটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়, বা তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ওয়াকফ সম্পত্তির কার্যকারিতা উন্নত করতে, জটিলতা দূর করতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তি-চালিত ব্যবস্থাপনা চালু করতে চায়।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে লোকসভায় প্রায় ১২ ঘন্টা বিতর্কের পর বিলটি পাশ হয়। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, ৪৪টি সংশোধনী এনে ওয়াকফ বোর্ডের উপর সরকারি কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করতে চাইছে মোদী সরকার। বিলটি ১৯৯৫ সালের আইন সংশোধন এবং ভারতে ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে। এর লক্ষ্য পূর্ববর্তী আইনের ত্রুটিগুলি কাটিয়ে ওঠা, ওয়াকফ বোর্ডগুলির দক্ষতা বৃদ্ধি, নিবন্ধন প্রক্রিয়া উন্নত করা এবং ওয়াকফ রেকর্ড পরিচালনায় প্রযুক্তির ভূমিকা বৃদ্ধি করা।

প্রসঙ্গত, বুধবার গভীর রাতে লোকসভায় পাশ হল সংশোধিত ওয়াকফ বিল। বিলের পক্ষে ভোট দেন ২৮৮ এবং বিপক্ষে ২৩২ জন সাংসদ। ব্যবধান ছিল ৫৬। মোট ভোট পড়ে ৫২০। বৃহস্পতিবার বিল পেশ হয় রাজ্যসভায়। এদিকে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, এনসিপি (শরদ), ডিএমকে, আরজেডির পাশাপাশি বুধবার লোকসভায় সংশোধিত ওয়াকফ বিলের বিরোধিতা করেছে 'একদা হিন্দুত্ববাদী' উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+