মমতার মাস্টারস্ট্রোকে তৃণমূলের পাশে সিপিএম-বিজেপিও, রাজ্য রাজনীতিতে নয়া ‘সমীকরণ’
মমতার মাস্টারস্ট্রোকে তৃণমূলের পাশে সিপিএম-বিজেপিও, রাজ্য রাজনীতিতে নয়া ‘সমীকরণ’
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতার একটা ছোট্ট ঘোষণা। তাতেই সিপিএম থেকে শুরু করে এই মুহূর্তে বাংলায় তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপিও শাসকদল তথা রাজ্যের সরকারের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হল। মমতার দুয়ারে সরকারে এক অদ্ভুত সমাপতন দেখল রাজ্যবাসী। তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকল্প রূপায়মে সহায়তার হাত বাড়াল সিপিএম-বিজেপি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
সম্প্রতি রাজ্যে শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এবার নির্বাচনী ইস্তাহারে এই প্রকল্প যে মানুষের মনে দাগ কেটেছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে এখন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারী মন জয় করতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড মহিলাদের নামে করার পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রতি পরিবারের এক মহিলাকে ৫০০ টাকা বা ১০০০ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের ১০০০ টাকা, বাকিদের ৫০০ টাকা করে প্রতি মাসে দেওয়া হবে। ভোটের পর সরকার গড়ার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা রূপায়িত করে জানান, সেপ্টেম্বর থেকেই মহিলারা তাঁদের অ্যাকাউন্টে ৫০০ বা ১০০০ টাকা পাবেন।

বিজেপিও হেল্প ডেস্ক চালু করেছে সিপিএমের মতো
সেইমতো তৃতীয় তৃণমূল সরকারের প্রথম দুয়ারে সরকারেই ভিড় জমান স্থানীয় মহিলারা। দুয়ারে সরকার থেকে ফর্ম নিয়ে তা ফিলাপ করে জমা দিতে হবে। তারপরই সেপ্টেম্বর থেকে মিলবে ৫০০ বা হাজার টাকার ভাতা। আর এই ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে যখন সংশয়ে পড়ছেন মহিলারা, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সিপিএম, এমনকী বিজেপিও হেল্প ডেস্ক চালু করেছে সিপিএমের মতো। আর তৃণমূল তো আছেই।

মেদিনীপুরের দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পের সামনে হেল্প ডেস্ক সিপিএমের
এতদিন বাংলার রাজনীতিতে দেখা গিয়েছে কোনও সরকারের প্রকল্প রূপায়ণে বাধা দিয়েছেন বিরোধীরা। কিন্তু এক্ষেত্রে একেবারে পাশে দাঁড়িয়ে প্রকল্প রূপায়ণে সহায়তা করছে সিপিএম ও বিজেপি। প্রথমে এই সংস্কৃতির উদাহারণ সামনে রাখে সিপিএম। মেদিনীপুরের একটি দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পের সামনে হেল্প ডেস্ক খুলে সাধারণ মানুষের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সিপিএম নেতা-নেত্রীরা।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হেল্প ডেস্ক খুলেছে বিজেপি
সিপিএমের পর বিজেপিও দুয়ারে সরকারের শিবিরের সামনে হেল্প ডেস্ক খুলে মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এল। সরকারি আধিকারিকরা সসম্ত বিষয়ে আবেদনকারী মহিলাদের সহায়তা করছেন। সহযোগিতা করছেন শসাক দল তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। এবার বিজেপি ও সিপিএমও নেমে পড়েছেন এই সহায়তা দান কর্মসূচিতে। পশ্চিম মেদিনীপুরে সিপিএমকে দেখা গিয়েছে যে ভূমিকায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একই ভূমিকা নিয়েছে বিজেপি।

নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে ভাঁওতা বলা হয়েছিল
বিজেপির পক্ষ থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প রূপায়ণের জন্য মহিলাদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপ থেকে শুরু করে যাবতীয় সহযোগিতা করছে। নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকল্পের ঘোষণাকে বিজেপির তরফে বলা হয়েছিল ভাঁওতা। কিন্তু প্রকল্প রূপায়ণের ঘোষণার পর সেই বিজেপিই সহায়তার হাত বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

মমতা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প রূপায়ণ করে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন
তৃণমূল যেভাবে সরকার গঠনের পর প্রকল্পগুলি রূপায়ণে উদ্যোগী হয়েছে, তারপর বিজেপি বা সিপিএমসহ বিরোধীদের হাতিয়ার ভোঁতা হয়ে গিয়েছে। তাঁদের পক্ষে সহযোগিতার হাত বাড়ানো চাড়া আর কোনও উপায় নেই। কেননা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু হলে মহিলাদের একাংশের আর্থিক সুরাহা হবে। বাংলার গরিব পরিবারের মহিলারা এই প্রকল্পে সবাই আকৃষ্ট। মমতা যেভাবে এই প্রকল্প রূপায়ণ করে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন, তাতে বিরোধীদের আর কোনও পথ নেই।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে তৃণমূলের পাশেই দাঁড়াল বিজেপি ও সিপিএম
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিজেপি বা সিপিএমের মতো দলগুলি অনুধাবন করতে পেরেছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত প্রকল্পে সহায়তা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। তাই তাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সিপিএম শনিবার বাংলার রাজনীতিতে একেবারে একটি ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে। তৃণমূলের সঙ্গে বৈরিতা ভুলে সিপিএমকে দেখা যায় জনস্বার্থে কাজ করতে। সেই ছবি সত্যিই বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে একেবারেই বিরল। দুয়ারে সরকারে লক্ষ্মীভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপের জন্য দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের কাছেই একটি পৃথক হেল্প ডেস্ক খেলে সিপিএম নেতৃত্ব। মেদিনীপুর শহরের কর্নেলগোলা এলাকায় সিপিএম নেতারা সাধারণ মানুষকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন। এরপর












Click it and Unblock the Notifications