"পরাণটা যদি থাকে...", বাংলাদেশ থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে ভারতে এলেন বিশ্বজিৎ সাহা
চোখেমুখে আতঙ্ক। প্রাণ বাঁচিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এলেন বিশ্বজিৎ সাহা। রাতে প্রাণ বাঁচাতে লিচু বাগানে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলায় এলেন তিনি৷ কেঁদে ফেললেন কথা বলতে বলতেই।
মাঝেমধ্যেই হাত - পা কেঁপে উঠছে৷ আতঙ্কের ছাপ চোখেমুখে স্পষ্ট৷ সীমান্ত পেরিয়ে এসেও উদ্বেগ কাটছে না। কারণ, বাংলাদেশে তার নিজের পরিবার আছে। বাবা, মা, স্ত্রী, সন্তানের কী হবে?

শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে আপাতত আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। এরপর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী? তাই নিয়ে চলছে চুলচেঁড়া বিশ্লেষণ। তার মধ্যেই চলছে হিংসা, রক্তপাত, আগুন জ্বালানো, লুটপাট। সবই চলছে বাংলাদেশ জুড়ে। বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বঙ্গভবনে প্রায় সর্বস্ব লুট হয়ে গিয়েছে।
আওয়ামি লিগের নেতাদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে। বহু মন্ত্রী নেতা পালিয়ে গিয়েছেন বাড়ি থেকে। কেউ বা দেশের বাইরে আশ্রয় নিয়েছেন। আওয়ামি লিগ করতেন বিশ্বজিৎ সাহা। তার বাড়ি বাংলাদেশের কচুয়া বাগেরহাটে। তিনি আওয়ামি লিগের বড় নেতা নন৷ রাজনীতি থেকেও তিনি এখন দূরে ছিলেন৷ সরকারের পতন হওয়ার পরেই হুমকি আসতে শুরু করে৷
বিশ্বজিৎ সাহার কথায়, বিএনপি ও জামাতরা মনে করছে, তারা ক্ষমতায় চলে এসেছে। বিএনপি নেতারা না কী নামের তালিকা তৈরি করছে৷ যারা আওয়ামি লিগ করে, তাদের উপর অত্যাচার শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী কোনও কাজ করছে না। প্রাণ বাঁচাতেই দেশ থেকে পালিয়ে এলেন ভারতে।
বিশ্বজিৎ সাহা জানান এলাকার বেশ কিছু দোকান লুট হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে ঘরবাড়ি৷ এলাকা থেকে চলে না গেলে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ বাড়িতেও ভাঙচুর, লুট হয়েছে। তার ছেলে বাবাকে বলেছিল, বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে।
রাতে প্রাণ বাঁচাতে লিচু গাছের বাগানে লুকিয়ে ছিলেন। সঙ্গে পাসপোর্ট সহ অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে বেরিয়েছিলেন। সকালে রিকশা ভাড়া করে নজর এড়িয়ে রওনা হন। সোজা সীমান্তে চলে আসেন। খানিক কথা বলার পরেই কেঁদে ফেলছেন বিশ্বজিৎ।
তার পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট নেই৷ ফলে বাবা, মা, স্ত্রী, সন্তানদের বাংলাদেশেই রেখে দিয়ে আসতে হয়েছে। তারা সক্রিয় রাজনীতি করে না৷ তাই কেউ তাদের এসে আক্রমণ করবে না। এই সান্তনা তিনি মনের মধ্যে রেখেছেন।
এপারে দত্তপুকুর, গোবরডাঙা এলাকায় তার কিছু আত্মীয় থাকেন। তাদের বাড়িতেই আপাতত কিছু দিন থাকবেন তিনি। কিন্তু কবে দেশে ফিরবেন তিনি? আদৌ কি ফিরতে পারবেন? কবে পরিবারের সঙ্গে তিনি আবার থাকতে পারবেন?












Click it and Unblock the Notifications