গুরুংকে পাল্টা! পাহাড় রাজনীতির দখল নিতে কৌশলী বিনয় তামাং
একদিকে তৃণমূলের মিছিল, অন্যদিকে মোর্চার বিদ্রোহী শিবিরের মিছিল। দুই দলের মিছিল থেকেই এদিন আওয়াজ ওঠে বনধ প্রত্যাহার করার।
পাহাড় রাজনীতির দখল নিতে এবার পাল্টা চাল দিলেন মোর্চার বিদ্রোহী নেতা বিনয় তামাং। কৌশলী পদক্ষেপ নিয়ে পাহাড়বাসীকে নিজের দিকে টানতে বদ্ধপরিকর তিনি। সেই লক্ষ্যেই বিনয় তামাং এদিন টার্গেট করলেন চা শ্রমিকদের।
তিনঘরিয়ায় জনসভা করে বিনয় ঘনিষ্ঠ অনীত থাপা বার্তা দিলেন, তাঁরা চা শ্রমিকদের পাশে থাকবেন। পাহাড়ের মানুষের পাশে থাকবেন। তাঁদের পাশে থেকে দাবি আদায়ের আন্দোলন করবেন। তবে সেই আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ পথেই। প্রয়োজনে অনশনে বসবেন তাঁরা, কিন্তু হিংসা ছড়াবেন না শান্তির পাহাড়ে।

এদিন চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে পাহাড় রাজনীতির দখল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিনয় তামাং। বিমল গুরুংকে বার্তা দিতে চেয়েছেন, আড়াল থেকে রাজনীতি নয়। সামনে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের মানুষকে নেতৃত্ব দিতে তিনি তৈরি। এদিন ফের কার্শিয়াং বনধ বিরোধী মিছিল করেন বিনয়পন্থীরা।
পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবও এদিন ফের পাহাড়ে যান। গাড়িধুরায় মিছিলে করে সাফল্য পেয়েছিল তৃণমূল। সেই সাফল্যের নিরিখেই এদিন পাহাড়ে দু-টি মিছিল বের করে তৃণমূল কংগ্রেস। একটি পানিঘাটায়, অপরটি লোহাগড়ে। মুখ্যমন্ত্রীর দার্জিলিং সফরের আগে বনধ প্রত্যাহারের আর্জি তিনি পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন পাহাড়বাসীর কাছে। সেই কাজে অনেকটাই সফল গৌতমবাবু।
একদিকে তৃণমূলের মিছিল, অন্যদিকে মোর্চার বিদ্রোহী শিবিরের মিছিল। দুই দলের মিছিল থেকেই এদিন আওয়াজ ওঠে বনধ প্রত্যাহার করার। আবেদন জানানো হয় দোকান-বাজার খোলার। উল্লেখ্য, শনিবারই সরকারি অফিস থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক, দোকান-বাজার খুলেছিল দার্জিলিংয়ে। চলেছিল যানবাহনও। অনেকটাই স্বাভাবিক দেখা গিয়েছিল পাহাড়কে। পুজোর আগে যেভাবেই হোক পাহাড়কে শান্ত করাই এখন লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূলের।
এদিন বিনয় তামাংকে রাজ্যের তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে, উত্তরকন্যায় বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য। তবে গুরুংয়ের দূত হিসেবে পাহাড়ের দুই বিধায়ক এদিন মমতার বাড়িতে গেলেও মমতা তাঁদের সময় দেননি। তাঁরা চিঠি দিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত থাকতে চেয়ে। মুখ্যমন্ত্রী তা অনুমোদন করবেন কি না তাও স্পষ্ট হয়নি এদিন।












Click it and Unblock the Notifications