কোন পথে মিলবে গোর্খাল্যান্ড, নবান্ন বৈঠকে সেই দিশা দিয়ে গেলেন তামাং
বিনয় তামাংও দায়িত্ব পেয়ে পাহাড়ে শান্তি রক্ষার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এদিন বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ বৈঠকেই মিলবে গোর্খাল্যান্ড সমস্যার সমাধান।
গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের আগুনে পথ থেকে সরে এসে তিনি এখন পাহাড় বোর্ডের মাথায় বসেছেন। তাঁর দায়িত্বও এখন বেড়েছে। কিন্তু তিনি যে গোর্খ্যাল্যান্ডের পথ থেকে সরে আসেননি, তা স্পষ্ট করে দিলেন বিনয় তামাং। সোমবার নবান্নে সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, কোন পথে গোর্খাল্যান্ড মিলবে।

সোমবার পাহাড় নিয়ে নবান্নে তৃতীয় সর্বদল বৈঠক হল। এই বৈঠককে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শীঘ্রই জিটিএ কাজ পুর্ণ উদ্যমে শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। পাহাড় তথা দার্জিলিংয়ের অর্থনৈতিক অবস্থা দ্রুত ফেরাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এদিন পাহাড় বোর্ডের চেয়ারম্যান বিনয় তামাংয়ের গুরুত্ব আরও বাড়ানো হল। তাঁকে জিটিএ-র দায়িত্ব দেওয়া হল সরকারিভাবে।
বিনয় তামাংও দায়িত্ব পেয়ে পাহাড়ে শান্তি রক্ষার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এদিন বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হাতে তিনি স্মারকলিপি তুলে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, শান্তিপূর্ণ পথেই গোর্খাল্যান্ডের দাবি মিটবে পাহাড়বাসীর। এ বিশ্বাস তাঁর রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, হিংসার আগুন জ্বালিয়ে কোনও জিনিস সৃষ্টি করা যায় না। বিনয় তামাংয়ের অঙ্গীকার, শান্তিপূর্ণ পথেই পাহাড়বাসীর মুখে হাসি ফোটাবেন তিনি।
বিনয় বলেন, 'আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছি। ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমেই শান্তির খোঁজ মিলবে। এছাড়া জিটিএ কর্মীদের বেতব সংক্রান্ত আলোচনাও হয় মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে।' জিটিএ কর্মীদের তিনমাসের বেতন যাতে মিটিয়ে দেওয়া হয় সেই আবেদনও রাখেন তিনি। সেইসঙ্গে চা-বাগানকর্মীদেরও বেতন মেটানোর প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রীকে।
রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া হয়। তিনি জানান, শীঘ্রই নোটিশ জারি করা হবে। এদিন নেপালি ভাষা চালু নিয়েও প্রস্তাব দেন বিনয় তামাং। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাহাড়বাসীর প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। আগামী ২১ নভেম্বর ফের সর্বদল বৈঠক হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার সর্বদল হবে পিনটেল ভিলেজে।
বিনয় তামাং এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর আগুনের পথে নেই। গান্ধীগিরিকেই তিনি আন্দোলনের মুখ করতে চান। তিনি বলেন, পাহাড়ের বাসিন্দারা বুঝতে পেরেছেন, অশান্তি পাকিয়ে হিংসা ছড়িয়ে মিলবে না কিছুই। আদায় করে নিতে হবে আলোচনার মাধ্যমে।












Click it and Unblock the Notifications