রাজ্যপালের বদলে মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করতে চেয়ে বিল পাশ বিধানসভায়
রাজ্যপালের বদলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আচার্য করতে চেয়ে বিল পাশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। গত কয়েকদিন আগেই রাজ্য মন্ত্রিসভা সমস্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আচার্য হিসাবে মুখ্যমন্ত্রীর নামেই শিলমোহর দেয়।
রাজ্যপালের বদলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আচার্য করতে চেয়ে বিল পাশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। গত কয়েকদিন আগেই রাজ্য মন্ত্রিসভা সমস্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আচার্য হিসাবে মুখ্যমন্ত্রীর নামেই শিলমোহর দেয়। আর এরপরেই বিধানসভায় বিল পাশ করানো হবে বলে জানানো হয় সরকারের তরফে।
অবশেষে সেই বিল পাশ বিধানসভায় পাশ হয়ে যায়। এবার রাজ্যপালের কাছে এই বিল পাঠানো হবে বলেই খবর।

আলোচনা শেষে এই বিল পাশ
আজ বিধানসভায় দীর্ঘ আলোচনা হয় রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনী বিল নিয়ে। যেখানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বলেন, মহারাষ্ট্র সরকার, তামিলনাড়ু সরকার ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত বিল নিয়ে এসেছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হিসাবে কেন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আসা সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ভোটাভুটি হয়। আর সেখানে বিলের পক্ষে ১৮৩ টি ভোট পড়ে। অন্যদিকে ৪০ টি ভোট পড়ে বিলের বিপক্ষে। আর এরপরেই পাস হয়ে যায় রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনী বিলটি।

রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য যাবে সংশোধনী বিল
বিধানসভায় রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনী বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পরেই এই বিল রাজ্যপালকে পাঠানো হবে। খুব শিঘ্রই সেটি রাজভবনে পাঠানো হবে বলে জানা বিধানসভা সূত্রে খবর। তবে এই বিল রাজ্যপালের সই করা নিয়ে একটা আশঙ্কা রয়েই গিয়েছে। তবে আগেই এই বিষয়ে ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, রাজ্যপাল যদি সই না করেন তাহলে অ্যামেডমেন্ট সেক্ষেত্রে আনা হবে। যদিও সেই সম্ভাবনা তৈরি হবে না বলেই এদিন জানান ব্রাত্য বসু।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কেন আচার্য
তবে এদিন বিধানসভায় এই বিলের বিপক্ষে সরব হন বিজেপি বিধায়করা। তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসাবে কেন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আনা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে পালটা জবাব দেয় শাসকদলের বিধায়করা। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদী কেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রয়েছেন সে বিষয়টি তুলে আনা হয়। তবে বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগেই এই বিষয়ে বিশিষ্ঠরা চিঠি দিয়েছেন। যেখানে কৌশিক সেন সহ একাধিক বুদ্ধিজীবী সই করেছেন। কিন্তু কার্যত সমস্ত কিছু উপেক্ষা করেই বিল পাস।

জোর বিতর্ক
তবে এই বিল নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিলে রাজ্যপাল যাতে সম্মতি না দেন, তার জন্য কথা বলবেন তিনি। এরপর বিষয়টি যুগ্ম তালিকা ভুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে হবে। তবে তা রাজ্যের নাম পরিবর্তনের মতোই সেখানে গিয়ে পড়ে থাকবে। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করতে মন্ত্রিসভা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আপাতত কার্যকরী হচ্ছে না। যা নিয়েকটাক্ষ করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, দিদিমনি অসবর নিলেও আচার্য হতে পারবেন না। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাজ্যপাল কি করবেন তা বিজেপি বিধায়করাই বলে দিচ্ছেন। এবার উনি বিজেপি বিধায়কদের শুনে কথা বলবেন নাকি নিজের মতো চলবেন সেটা তাঁর ব্যাপার। তবে উনি সবার রাজ্যপাল মনে রাখা উচিৎ বলে কটাক্ষ।












Click it and Unblock the Notifications