এনআরসি চাপে টনক নড়ল বাংলার, বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দিতে জমি কিনছে নবান্ন
বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য খুব দ্রুত জমি কিনতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য খুব দ্রুত জমি কিনতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সূত্রের খবর, রাজ্যে নাগরিকপঞ্জী নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বের প্রয়াসকে ব্যর্থ করতেই সরকারের এই উদ্যোগ।

গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য নবান্নকে জমি কেনার কথা ক্রমাগত বলে চলেছে। যদিও জমি-নীতির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ধীরগতিতে চলাই পছন্দ করে। তাই দিল্লি নবান্নকে জানিয়েছে, জমি অধিগ্রহণের বদলে সরকার তা কিনে নিক।
রাজ্য সরকারের এক সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, 'সরকারের নীতি আচমকাই বদলে গেল। জরুরি অবস্থায় করে জমি কেনার কাজ শুরু করে দিয়েছে।' প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ৪,০৯৬ কিমি সীমান্ত রয়েছে। যার মধ্যে ২২১৬ কিমি সীমান্ত বাংলায়। নরেন্দ্র মোদী সরকার তাঁর প্রথম ক্ষমতার সময় সীমান্তের ৯০০ কিমি বেড়া দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিল, বিশেষ করে দক্ষিণ বঙ্গে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গে নদীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবং শক্ত ভূখণ্ডের কারণে সেখানে বেড়া লাগানোর প্রয়োজন ছিল না। শেষ চার বছরে রাজ্য সরকার ৮০০ একর জমি হস্তান্তর করে ৪০০ একরেরও বেশি জমিতে বেড়া লাগাতে পারত। কিন্তু এমনটা হয়নি। জানায় রাজ্য সরকারের এক বিশ্বস্ত সূত্র।
সরকারিভাবে বলা হয়েছে, 'এখন নাগরিকপঞ্জী প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই রাজ্য এরকম অবস্থায় কোনও সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। অবৈধ অভিবাসনকে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন সমর্থন করেছে বলে বিজেপি অভিযোগ তুলে জানাবে যে সেই কারণেই রাজ্য সরকার তাদের সহযোগিতা করেনি, এই অভিযোগ নিজেদের ওপর যাতে না ওঠে তাই জন্যই নবান্নর পক্ষ থেকে জেলায় জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
উত্তর ২৪ পরগণা, নদীয়া, মূর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহারের জেলা প্রশাসনকে চাপ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে জমি কেনার কথা বলা হয়েছে। সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, 'জেলাগুলি চেষ্টা করছে ১০০০ একর জমি কেনার।
নবান্ন গোটা বিষয়টির ওপর নজর রেখেছে। কিছু মাস আগেই হাজার একর জমি কেনার জন্য জেলাগুলিতে অনমোদন পাঠানো হয়েছে। দ্রুতগতিতেই চলছে জমি কেনার কাজ।' অন্য এক সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য আরও ৪০০ একর জমি কেনার অনুমোদন পাঠানো হয়েছিল জেলাগুলিকে। আর কিছুমাসের মধ্যেই মোট ১,৪০০ একর জমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে তুলে দিতে পারবে নবান্ন। গত একবছরের মধ্যে এই প্রকল্পের অন্তর্গত মাত্র ৮০০ একর জমি কিনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। যদিও এই প্রকল্পটি চারবছর পুরনো।
বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি হবে। প্রতিবেশি দেশ থেকে অবৈধ অভিবাসীরা এসে রাজ্যের সাধারণ নাগরিকের সমস্যা তৈরি করছে। তা বন্ধ করতেই বাংলায় এনআরসি হবে।












Click it and Unblock the Notifications