৪ লক্ষেরও বেশি করোনার ভ্যাকসিন এল বাংলায়! এটাও পর্যাপ্ত নয় বলছেন সরকারি আধিকারিকরা
পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নেই, এমন অভিযোগ বারবার তুলেছে রাজ্য। এরই মধ্যে বুধবার কেন্দ্র থেকে ৪ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন এসেছে বাংলায়। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, অভাব মেটাতে এটুকু যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্য দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়
পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নেই, এমন অভিযোগ বারবার তুলেছে রাজ্য। এরই মধ্যে বুধবার কেন্দ্র থেকে ৪ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন এসেছে বাংলায়। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, অভাব মেটাতে এটুকু যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্য দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, বাংলায় ৪ লক্ষ ৫ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন এসেছে বুধবার।

সপ্তাহের শেষে আরও ৪ লক্ষ ভ্যাকসিন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু চাহিদা মেটানোর জন্য এটুকু যথেষ্ট নয়। প্রত্যেকদিন বাংলায় ৩ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনগুলিকে বলা হয়েছে যাতে ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিনের ডোজ সরিয়ে রাখা হয়।
অনেকের দ্বিতীয় ডোজ বাকি আছে, তাদের চাহিদা মেটাতেই এই সিদ্ধান্ত। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২৯ পর্যন্ত বাংলায় এসেছে ১ কোটি ৯০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন, এরমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ডোজ। বাংলা কোনও ভ্যাকসিন নষ্ট হয়নি। বুধবার ভ্যাকসিন নিয়ে কার্যত তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগের সরব হন তিনি। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভ্যাকসিন নিয়ে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে সরব হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। বাংলাতে সবথেকে ধীরে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, ভুয়ো ভ্যাকসিন ক্যাম্প করা হচ্ছে বলেও রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে সরব হন নাড্ডা। আর তাতে ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি। বুধবার ভ্যাকসিন নিয়ে ফের কেন্দ্রকে ফের নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের কাছে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নেই বলেই টিকাকরণ কর্মসূচিতে সমস্যা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে যথেষ্ট ভ্যাকসিন নেই, তাই কলকাতায় এখন শুধু দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে।' পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'উত্তরপ্রদেশ সাড়ে ৩ কোটি, মহারাষ্ট্র ৩ কোটি ডোজ পাচ্ছে, এমনকি রাজস্থানের মতো ছোট রাজ্যগুলোকেও বেশি ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে কিন্তু বাংলাকে নয় কেন?' এর আগে তিন কোটি ভ্যাকসিন চাওয়া হয়েছিল কেন দেওয়া হয়নি তা নিয়েও বুধবার প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর দাবি, গুজরাটে বিজেপির পার্টি অফিস থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে আর বাংলার মানুষ সুযোগ হারাচ্ছে। আর এরপর মাতব্বররা বড়বড় কথা বলছে! এভাবেই বিজেপি নেতাদের একহাত নেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। রাজ্যকে কালিমালিপ্ত করার জন্যেই এই কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
উল্লেখ্য, হিসেব এখনও দ্বিতীয় ডোজ পাননি রাজ্যের প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ মানুষ। স্বাস্থ্য ভবনের তরফেও জানানো হয়েছে , কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন নিয়ে মোট ৮ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮৪৭ জনকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়নি। এদের মধ্যে অনেকেরই নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications