শুরু হল ১৪৩২ সন, সারা বছর ভালো থাকার আশীর্বাদ নিতে জয়রামবাটিতে উপচে পড়ল ভক্তদের ভিড়
নববর্ষের প্রথম দিন শুরু হয়ে গেল আজ সকাল থেকে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৪৩১ সন কাটিয়ে আমরা আজ থেকে পা দিলাম ১৪৩২ সনে। আজ বাংলার, বাংলীদের শুভ নববর্ষ। এই বিশেষ দিনটিতে আগামী দিনগুলির জন্যে পুজো দিচ্ছেন অনেকেই। তাই মন্দির গুলিতে আজ ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ার মত।
আর এই বিশেষ দিনটিতে শ্রী শ্রী মা সারদা দেবীর পবিত্র জন্মভূমি জয়রামবাটিতে উপচে পড়ল পুণ্যার্থীদের ভিড়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ আসতে শুরু করেছেন 'মাতৃমন্দিরে'। ছোট থেকে বড় সকলে ভিড় জমাচ্ছেন মন্দির প্রাঙ্গণে।

বছরভর মায়ের এই পবিত্র জন্মস্থানে ভক্তদের আনাগোনা লেগেই থাকে। কিন্তু বছর শুরুর দিনটিতে সেই সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এবছরও তার অন্যথা হল না। পরিবার পরিজনের মঙ্গলকামনায় এদিন অসংখ্য মানুষ জয়রামবাটিতে এসে হাজির হন এবং পুজো দেন।
১৮৫৩ সালের ২২ ডিসেম্বর (বাংলা ১২৬০ সালের ৮ পৌষ) বৃহস্পতিবার পৌষ মাসের কৃষ্ণা সপ্তমী তিথিতে বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম জয়রামবাটির এক দরিদ্র ধর্মপরায়ণ ব্রাহ্মণ পরিবারে সারদা দেবীর জন্ম। তাঁর বাবা রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও মায়ের নাম শ্যামাসুন্দরী দেবী।
তাঁদের পরিবার বংশানুক্রমে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের উপাসক ছিলেন। সারদা দেবী ছিলেন তাঁদের প্রথম সন্তান। পরে পার্শ্ববর্ত্তী হুগলির কামারপুকুর গ্রামের গদাধরের (শ্রীরামকৃষ্ণ) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে তাঁর জন্মস্থানেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে মাতৃমন্দির। ১৯২৩ সালে স্বামী সারদানন্দ প্রথম জয়রামবাটিতে, সারদাদেবীর জন্মস্থানে প্রতিষ্ঠা করেন 'মাতৃমন্দির'-এর। আর তারপর থেকেই মায়ের আশীর্বাদ নিতে এখানে আসছেন ভক্তরা।
ভক্তদের কথায়, বছরের প্রথম দিনটা এখানে কাটাতে ভাল লাগে। সন্তান সহ সকলের সুস্থতা কামনাই মায়ের কাছে আসেন তারা। বছরের প্রথম দিন মায়ের দর্শন পেলে সারাটা বছর ভাল যায়, পরিবারের সকলে সুস্থ থাকে। অন্তত এমনটাই মনে করেন পুণ্যার্থীরা। আর এই টানেই পয়লা বৈশাখে সারদা মায়ের স্মরণাপন্ন হন ভক্তরা।












Click it and Unblock the Notifications