মালদহে মুসলিম ধর্মগুরুদের ফতোয়া, ফুটবল খেলবে না মেয়েরা, মুখে কুলুপ প্রশাসনের
মালদহ, ১৭ মার্চ : মহিলাদের ফুটবল খেলা নিয়ে এবার ফতোয়া জারি করলেন মালদহের মুসলিম ধর্মীয় নেতারা। মহিলাদের ফুটবল খেলার পোশাক খুব আঁটোসাটো। মহিলাদের এধরণের পোশাক পরা উচিত নয়। আর তাই বন্ধ করতে হবে মহিলাদের ফুটবল খেলা।
মুসলিম নেতাদের বিরোধিতার জেরে শেষ পর্যন্ত জাতীয় স্তরের খেলোয়াড়দের নিয়েই ফিরে যেতে হয় আয়োজকদের। শুধু এরাজ্যের নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহিলা ফুটবলাররা এসেছিলেন খেলায় অংশগ্রহণ করতে।

ক্লাবের স্বর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে হরিশচন্দ্রপুর থানার চন্ডীপুর গ্রামে প্রোগ্রেসিভ ইউথ ক্লাব একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছিল।
টাইমস অফ ইন্ডিয়া পত্রিকায় এই ক্লাবের সভাপতি রাজা রাজি জানিয়েছেন, এদিনের ফুটবল ম্যাচটি কলকাতা একাদশের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ একাদশের হওয়ার কথা ছিল। কৃষ্ণা দাস, সুজাতা কর, শান্তি মালিক, ফিফা রেফারি, অনামিকা সেম, জাতীয় হ্যান্ডবল দলের অধিনায়ত অনিতা রায়ের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। স্থানীয় মানুষদের মধ্যে এই খেলা নিয়ে চরম উন্মাদনা ছিল।
স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য আইনসৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে ম্যাচ বন্ধ করাতে চাইছে। কিন্তু আসল কারণ মুসলিম ধর্ম নেতাদের ফতোয়া বলেই মনে করছেন ক্লাব কর্তারা। রাজির কথা, "গত সপ্তাহে মহিলাদের ফুটবল খেলা নিয়ে ফতোয়া জারি করেছিলেন কয়েকজন মৌলভি।"
পাশাপাশি রাজি এও বলেন, ১১ মার্চ স্থানীয় বিডিওকে সামনে রেখে ওই মুসলিম ধর্মনেতাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করি, যাঁরা এই খেলার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু এর পরের দিন আরও বহু মুসলিম নেতাই বিরোধিতায় এগিয়ে আসেন। তাঁরা বলেন, মহিলাদের খেলা ইসলাম ধর্মবিরুদ্ধ। এর অবমাননা হলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার আহ্বাণ জানান। এই নিয়ে একটা কথা বলেননি বিডিও। উল্টে ম্যাচ বন্ধের নির্দেশ দেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন যে রাজ্য সরকার মহিলাদের ক্ষমতায়ণের কথা বলেন, তাঁরা মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কের জন্য এভাবে মহিলাদের ক্ষেত্রে তুঘলকি আচরণ করছে।












Click it and Unblock the Notifications