মদের পর এবার লটারি টিকিট বিক্রি করে 'রেকর্ড' রাজ্যের
মদের পর এবার লটারি টিকিট বিক্রি করে 'রেকর্ড' রাজ্যের
মদ বিক্রির রেকর্ড আগেই হয়েছে। এবার লটারির টিকিট বিক্রির নতুন রেকর্ড তৈরি গড়ল রাজ্য সরকার। বিগত আর্থিক বছরে টিকিট বিক্রির আয়ের নিরিখে সর্বকালীন রেকর্ড তৈরি করে ইতিহাস গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারি। যা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, শিক্ষা বা কর্ম সংস্থানে যাই হোক না কেন, মদ, লটারি বিক্রিতে যে 'এগিয়ে বাংলা' তা প্রমাণিত।

অর্থ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে রাজ্য সরকার লটারি বিক্রি করে মোট ২২৩ কোটি ৭৬ লক্ষ ৪ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেছে।
অর্থ দপ্তরের অধীনস্থ ডাইরেক্টরেট অব স্টেট লটারিজের ইতিহাসে এই আয় সর্বকালের রেকর্ড বলে দাবি করা হয়েছে।
অর্থ দপ্তর সূত্রের দাবি, আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারির সপ্তাহে একবার করে খেলা হতো। বছরে সবমিলিয়ে ৫৪টি ড্র (খেলা) হতো। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৮ সালের ১৪ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারির প্রতিদিন খেলা হয়। বর্তমানে সরকারি লটারি খেলার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৬৮টি। বঙ্গলক্ষ্মী, বঙ্গশ্রী সুপার এবং বঙ্গভূমি ক্যাটিগরি মিলিয়ে এখন 'দৈনিক ড্র' হয় বছরে ৩৬২টি।
পাশাপাশি বছরে ছয়টি (নিউ ইয়ার, রথ, হোলি, নববর্ষ, পুজা এবং দীপাবলি) বাম্পার ড্র-এর আয়োজন করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, আগে সরকারি ছাপাখানায় দৈনিক সর্বোচ্চ সাড়ে ১৭ লক্ষ লটারির টিকিট ছাপা হতো। বর্তমানে প্রতিদিন এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৪০ লক্ষ।
বিগত অর্থবর্ষগুলিতে লটারি খাতে রাজ্যের মোট আয় ৮ থেকে ৩০ কোটির মধ্যে ঘোরাফেরা করত। বিগত অর্থবর্ষে তা প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নবান্ন সূত্রের দাবি, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে রাজ্যজুড়ে মোট ২১০০ কোটি টাকার লটারি বিক্রি করেছিল রাজ্য সরকার। পুরস্কার মূল্য, ডিস্ট্রিবিউটরদের পাওনা, এজেন্টদের কমিশন সহ বিবিধ খাতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে সরকারের ঘরে নিট ২২৩ কোটি টাকা ঢুকেছে।
এ প্রসঙ্গে নবান্নের এক কর্তা বলেন, দৈনিক তিনটি ক্যাটিগরির লটারির দাম ৬ টাকা এবং বাম্পারের দাম ২০ টাকা রাখা হয়েছে। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ এখন চটজলদি হাতেনাতে ফলাফল চায়। তাই আগে একবার রাজ্য লটারি কিনলে ভাগ্যপরীক্ষার জন্য ক্রেতাদের সাতদিন হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হতো। মাঝখান থেকে ভিন রাজ্যের লটারি সংস্থাগুলি প্রতিদিন নগদ পুরস্কারের টোপ দিয়ে ব্যবসা করে বেরিয়ে যেত। আর এখন প্রতিদিন বিকেল চারটেয় কলকাতার গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের অফিসে রাজ্য সরকারি লটারির ফলাফল ঘোষণা হয়। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গোটা প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করে তা ইউটিউবে পোস্ট করা হয়।
যদিও সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী সরকার লটারির উপর পণ্য পরিষেবা কর (জিএসটি) ১২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২৮ শতাংশ করেছে। আগামী মার্চ থেকে ওই বর্ধিত জিএসটি কার্যকর হবে। রাজ্যের লটারি ব্যবসার ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications