ধোপে টিকল না শুভেন্দুদের আপত্তি! কেন্দ্রের টাকা অবশেষে পেল বাংলার সরকার
কেন্দ্রের টাকা যাতে রাজ্য সরকার না পায়, সেই লক্ষ্যে একাধিকবার প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যান্য বিজেপি নেতারাও একইভাবে সরব হয়েছে রাজ্যের বিপক্ষে।
কেন্দ্রের টাকা যাতে রাজ্য সরকার না পায়, সেই লক্ষ্যে একাধিকবার প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যান্য বিজেপি নেতারাও একইভাবে সরব হয়েছে রাজ্যের বিপক্ষে। তবে শুভেন্দু অধিকারীদের 'ফরমান' উপেক্ষা করে কেন্দ্র সরকার রাজ্যকে তাঁর প্রাপ্য টাকা পাঠাল। তবে এবার শুধু টাকা মিলল শিক্ষাখাতে।

বঙ্গ বিজেপির আপত্তি উড়িয়ে রাজ্যকে টাকা
কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি আর রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত লেগেই রয়েছে। রাজ্যের অভিযোগ ছিল তাঁদের প্রাপ্য টাকা দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যের বিজেপি নেতারাও বারবার আপত্তি তুলেছিলেন ওই টাকা নিয়ে। রাজ্যের বিরুদ্ধে হিসেবে গরমিল-সহ টাকা অন্যখাতে লাগানোর অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছিল রাজ্যকে বিভিন্ন খাতের টাকা পাঠানো বন্ধ করতে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এক হাজার কোটি টাকা
তবে শেষপর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার বঙ্গ বিজেপি নেতাদের আপত্তিতে আমল না দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এক হাজার কোটি টাকা পাঠাল। সর্বশিক্ষা মিশন খাতে এই টাকা দেওয়া হয়েছে বাংলার তৃণমূল সরকারকে। রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীনে চলে সর্বশিক্ষা মিশন। এই প্রকল্পের অধীনে স্কুলের নতুন ক্লাসরুম তৈরি, নতুন ভবন তৈরি, মডেল স্কুল তৈরি-সহ স্কুলশিক্ষার একাধিক কাজকর্ম পরিচালিত করতে এই টাকা প্রেরণ করা হয়েছে।

পাঁচ মাস ধরে এই খাতে কেন্দ্রীয় সরকারে কাছে বকেয়া
উল্লেখ্য, গত পাঁচ মাস ধরে এই খাতে কেন্দ্রীয় সরকারে কাছে বকেয়া ৯৫০ কোটি টাকা দাবি করে আসছে রাজ্য সরকার। সেই বকেয়া টাকা অবশেষে মিটিয়ে দিল কেন্দ্র। সর্বশিক্ষা মিশন প্রকল্পে কেন্দ্রের অংশীদারিত্ব ৬০ শতাংশ, রাজ্যের অংশীদারিত্ব ৪০ শতাংশ। সর্বশিক্ষা মিশনের টাকা কেন্দ্র সরকার বিগত পাঁচ মাস ধরে আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ করে এসেছে রাজ্য। নবান্নের তরফে তা পেতে বারবার আর্জি জানানো হয়েছিল।

শুভেন্দুর আপত্তিকে পাত্তা না দিয়ে রাজ্যকে টাকা কেন্দ্রের
এদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রকে চিঠি লিখে প্রকল্পের টাকা না দেওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন এর আগে। তারপর থেকে রাজ্য কোনও টাকা পাচ্ছিল না। বিশেষ করে রাজ্য একশো দিনের টাকা পেতে মুখিয়ে ছিল। এখনও তারা একশো দিনের কাজের টাকা পাননি। এই টাকা নিয়ে এখনও টানাপোড়েন চলছে। শুভেন্দুর আপত্তিকে পাত্তা না দিয়ে সর্বশিক্ষা মিশনে রাজ্যের প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দিল কেন্দ্র। এবার একশো দিনের প্রকল্পের টাকা কবে দেয় কেন্দ্র, সেদিকে তাকিয়ে রাজ্য সরকার।

তৃণমূল সাংসদদের প্রতিনিধি দল দিল্লি যাওয়ার পর
প্রসঙ্গত উল্লেখ, শুধু একশো দিনের কাজের টাকা নয়, বাংলা আবাস যোজনার টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে একাধিকবার সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। নবান্নের তরফে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের সঙ্গে দেখাও করেছিলেন। টাকা কেন আটকে রাখা হয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁরা। তারপর একটি খাতের অন্তত টাকা মিলেছে।












Click it and Unblock the Notifications