নরেন্দ্র মোদী, দিলীপ ঘোষদের বিরুদ্ধে নালিশ তৃণমূলের! নন্দীগ্রামের ঘটনায় ঝড় দিল্লিতে
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আহত হওয়ার ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আগেই সরব হয়েছে তৃণমূল৷ রাজ্য নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও জানিয়েছে তারা৷ এবার সেই দাবিকেই আরও জোরদার করতে দিল্লি গেল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল৷ রাজধানীতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে গিয়ে তারা বিজেপির বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে ধরল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল৷ প্রমাণ হিসেবে তারা সঙ্গে রেখেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতার বক্তব্যের ক্লিপিং৷

বৃহস্পতিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছিল তৃণমূল
বৃহস্পতিবার রাজ্য নির্বাচন অফিসে গিয়ে নিজেদের অভিযোগ জানিয়েছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল৷ সেই দলে ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷ সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের পার্থ বলেন, 'প্রথমে এডিজি আইনশৃঙ্খলাকে অপসারণ করা হল৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের প্রার্থী হওয়ার পর অপসারিত হলেন ডিজি৷ আর তার ঠিক পরই দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর উপর এমন আঘাত নেমে এল৷ বিজেপি সাংসদদের বক্তব্যে আগেই এটা পরিষ্কার ছিল যে তৃণমূল নেত্রীর উপর আক্রমণ হতে পারে৷ এই হামলার দায়িত্ব কার? রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে রাজ্যকে নিয়ন্ত্রণের এই প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা করছি৷'

মোদীর বিরুদ্ধে সুর চড়ান সৌগত রায়
এরপর কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় অভিযোগ করেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিগেডের সমাবেশে বলেছিলেন, ভবানীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্কুটার যদি নন্দীগ্রামে গিয়ে কোনও দুর্ঘটনায় পড়ে, তবে তার দায় বিজেপি নেবে না। আর প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা ঘটল।' এর থেকেই তৃণমূল ষড়যন্ত্রের সন্দেহ করছে৷

দিলীপ ঘোষ, সৌমিত্র খাঁয়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তৃণমূলের
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ-র মন্তব্যও তুলে ধরেছেন সৌগত রায়৷ তিনি বলেন, 'বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও যুব মোর্চা সভাপতি সৌমিত্র খাঁও বলেছিলেন, ১০ তারিখের পর কী হবে দেখতে পাবেন। ঠিক ১০ তারিখেই মুখ্যমন্ত্রীর উপর এমন হামলার ঘটনা ঘটল।' এই বক্তব্যগুলির ফুটেজ সংগ্রহ করে দিল্লি নিয়ে যাচ্ছেন সৌগত রায়, বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, জয়নগরের প্রতিমা মণ্ডল, বীরভূমের শতাব্দী রায় ও রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন৷ বিজেপি উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ জানাচ্ছে তৃণমূল৷

প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের রদবদল নিয়েও প্রশ্ন
এছাড়াও ভোটের মুখে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের রদবদল নিয়েও প্রশ্ন তুলে কমিশনকে জানাবে তৃণমূল৷ আজ বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল৷ যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে তাদের কমিশনের পাল্টা কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে৷ নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে যে, বুধবার সন্ধ্যার সমস্ত রিপোর্ট ও ভিডিও খতিয়ে দেখা হয়৷ তার পরই তৃণমূল কংগ্রেসকে ভর্ৎসনা করে জবাব দেয় কমিশন৷

'তৃণমূলের অভিযোগ একেবারেই অনৈতিক'
নির্বাচন কমিশন জানায়, তৃণমূলের অভিযোগ একেবারেই অনৈতিক। কারণ, নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ সংস্থা। এইভাবে আঙুল তোলা মানে হল নির্বাচন কমিশনের মৌলিক অধিকারকে সন্দেহ করা। উল্লেখ্য, বুধবার এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই কমিশনের তরফে রিপোর্ট তলব করা হয় রাজ্যের কাছে৷ পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক তথা ওই জেলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশ সুপাররে কাছেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট তলব করা হয়৷












Click it and Unblock the Notifications