বঙ্গ বিজেপি অক্সিজেন পেতে চাইছে ত্রিপুরায় তৃণমূলকে হারিয়ে! পুরসভা নির্বাচনে বিপুল জয়
বঙ্গ বিজেপি অক্সিজেন পেতে চাইছে ত্রিপুরায় তৃণমূলকে হারিয়ে! পুরসভা নির্বাচনে বিপুল জয়
২০১৮-য় ত্রিপুরা-জয়ের পর 'এবার বাংলা পারলে সামলা' স্লোগান তুলেছিল বিজেপি। ২০১৯-এর লোকসভায় বিজেপি সেই স্লোগানে ভর করে ধাক্কা দিতে সমর্থ হলেও ২০২১-এ বাংলারা বিধানসভা নির্বাচনী যুদ্ধে গোহারা হয়েছে বিজেপি। বাংলায় পরিবর্তন দূরে থাক ১০০ আসন অতিক্রম করতে পারেনি বিজেপি। এবার বঙ্গ বিজেপি সেই ক্ষতে প্রলেপ লাগাতে চাইছে ত্রিপুরা পুরভোটে ক্লিন সুইপ করে।

অক্সিজেন পেতে চাইছে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব
ত্রিপুরা পুরভোটে ৯৯ শতাংশ আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। বিরোধীদের মধ্যে বামফ্রন্ট তিনটি আসনে, তৃণমূল ও টিপ্রা একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। কোনও পুর পরিষদ বা নগর পঞ্চায়েতে জয় পায়নি কোনও বিরোধী দল। আগরতলা পুর নিগমের নির্বাচনে বিজেপি সবকটি আসনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে। এই অবস্থায় ত্রিপুরার সাফল্য থেকে অক্সিজেন পেতে চাইছে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব।

ত্রিপুরা বিজেপির সাফল্য প্রচার হবে বাংলায়
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর উপনির্বাচনেও শোচনীয় হার হয়েছে বিজেপির। সামনে পুরসভা নির্বাচন। তার আগে বঙ্গ বিজেপি ত্রিপুরার সাফল্যকে হাতিয়ার করতে চাইছে। বাংলার প্রচারে বিজেপি নেতৃত্ব ত্রিপুরার সাফল্যকে তুলে ধরে প্রচারে ঝড় তুলতে বদ্ধপরিকর। বিজেপি নেতৃত্ব ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরা বিজেপির সাফল্য প্রচার করা হবে বাংলায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে।

কলকাতা পুরসভা দখলকে পাখির চোখ বিজেপির
আগামী ১৯ ডিসেম্বের কলকাতা পুরসভার ভোট। তারপর রাজ্যের বাকি পুরসভায় ভোট হবে। এই ভোট থেকেই বিজেপি ঘুরে দাঁড়াতে তৈরি হচ্ছে। তাই সাবধানে তারা পা ফেলতে চাইছে। বিজেপি চাইছে না পচা শামুকে পা কাটুক। তাই সবদিক ভেবেচিন্তে প্রার্থী ঘোষণা করে কলকাতা পুরসভা দখলকে পাখির চোখ করতে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি।

ত্রিপুরা যদি পারে কেন বাংলার মানুষ পারবে না
কলকাতা পুরসভা ভোটের পর রাজ্যের শতাধিক পুরসভা ভোট হবে। এই পুরসভা নির্বাচন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ত্রিপুরার সাফল্যকে তাঁরা তুলে ধরবেন প্রচারে। ত্রিপুরার মানুষ যদি পারে কেন বাংলার মানুষ পারবে না অপশাসন দূর করতে। সিপিএমের অপশাসন দূর করতে বিজেপি ২০১৮-য় ত্রিপুরায় ক্ষমতায় এসেছিল। তারপর বিজেপির রাজত্বে ত্রিপুরাবাসী উন্নয়নের পথ খুঁজে পেয়েছে। তাই বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রথম পুরসভা ভোটে তাঁদের ঢেলে ভোট দিয়েছেন মানুষ। তার প্রতিফলন এবার বাংলার ভোটে ফেলতে চাইছে বিজেপি।

ত্রিপুরার সাফল্য দেখিয়ে বাংলার মানুষের মন পরিবর্তনের চেষ্টা
কিন্তু বিজেপিকে তো ২০২১-এর নির্বাচনে রিজেক্ট করে দিয়েছে বাংলার মানুষ। বাংলায় ৩ থেকে বেড়ে ৭৭ আসন প্রাপ্তির পরিসংখ্যান বিজেপি দেখালেও যে স্বপ্ন নিয়ে তারা নির্বাচনী যুদ্ধে নেমেছিল, তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি। শাসক তৃণমূলকে ভেঙে দ্বিখণ্ডিত করে দিয়েও বিজেপি সাফল্যের দেখা পায়নি বাংলায়। এমনকী তৃণমূলকে বিভিন্ন দিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণ করলেও বাংলার মানুষ বিজেপিকে বেছে নেয়নি। তাঁরা ফের সুযোগ দিয়েছে তৃণমূলকেই। এই অবস্থায় বিজেপি কি পারবে ত্রিপুরার সাফল্য দেখিয়ে বাংলার মানুষের মন পরিবর্তন করতে।

গেরুয়া-ঝড়ে বিজেপির ৯৯ শতাংশ আসন দখল
বাংলায় ব্যর্থ হয়ে বিজেপি নেতারা ত্রিপুরার সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে টুইটে নিশানা করছে তৃণমূলকে। তৃণমূল তিনমাসে ত্রিপুরায় বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। ত্রিপুরার পুর নির্বাচনে গড় ২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় সেরা হয়েছে তৃণমূল। যদিও আসন সংখ্যার নিরিখে বামফ্রন্ট দ্বিতীয় স্থানে ত্রিপুরায়। আদতে গেরুয়া-ঝড়ে বিজেপি ৯৯ শতাংশ আসনে জিতে সব পুরসভারই দখল নিয়েছে। বিরোধীদের হাতে কিছু নেই।

ত্রিপুরায় মানুষ তাঁদের রায় জানাতে ব্যর্থ হয়েছে
বামফ্রন্ট বা কংগ্রেস মনে করছে এসবই বিজেপি আর তৃণমূলের গোপন আঁতাতের ফল। বিজেপি চেয়েছে তৃণমূলকে বিরোধী আসনে বসাতে। তাই তৃণমূলকে এনে বিরোধী ভোট ভাগ করে বিজেপি নিজেদের আসন মজবুত করার পাশাপাশি কংগ্রেস বা বামফ্রন্টের প্রতিরোধ শক্তিকে খর্ব করে দিতে চেয়েছে। তার থেকেও বড় কথা, ত্রিপুরায় মানুষ তাঁদের রায় জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপি তাদের মতো করে ভোট করিয়েছে।

ত্রিপুরা পুরভোটের ফেল বিজেপি-তৃণমূল ও অন্যান্যরা
আগরতলা পুরনিগম-সহ ত্রিপুরায় ১৩টি পুরসভা এবং ৬টি নগর পঞ্চায়েতের নির্বাচনে ৩৩৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি ৩২৯টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে। বামফ্রন্ট জিতেছে ৩টি ওয়ার্ডে, ১টি তৃণমূল, ১টি টিপ্রা এবং কংগ্রেস শূন্য। ১১২টিতে আগেই জিতে গিয়েছিল বিজেপি। ২২২টির ফলাফল এদিন প্রকাশিত হয়। পুরসভার ফলাফল প্রকাশ হতেই শুধু গেরুয়া ঝড়। বিজেপি ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে, তৃণমূল ২৪ শতাংশ আর বামেরা ১৮ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications