মমতার শাসনে বাংলা হয়েছে 'মিনি পাকিস্তান'! নাড্ডাকে জমা দেওয়া রিপোর্টে আর কী বলল বিজেপি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম
চার জুন লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরিয়েছে। সেই দিন থেকেই বাংলার বিভিন্ন জায়গায় ভোট পরবর্তী হিংসা চলছে বলে অভিযোগ বিজেপির। তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃতচ্বের তরফে রাজ্যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম পাঠানো হযেছিল। চার সদস্যের সেই দল বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
বিজেপি সভাপতির কাছে জমা দেওয়া রিপোর্টে টিমের তরফে বড় অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাংলা এখন মিনি পাকিস্তান হয়ে গিয়েছে।

নাড্ডা কমিটি তৈরি করেছিলেন
পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করতে বিজেপি সভাপতি রাজ্যসভার সাংসদ বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে ১৫ জুন একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ, উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন ডিজিপি ব্রিজলাল এবং সাসদ কবিতা পতিদার। এই চার নেতানেত্রী পশ্চিমবঙ্গ সফরের পরে রিপোর্ট তৈরি করে এবং শুক্রবার দলের সভাপতি জেপি নেড্ডার কাছে সেই রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।
রিপোর্টে অভিযোগ
বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের রিপোর্টে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ রাজনৈতিক হিংসার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে প্রাণহানি, শ্লীলতাহানি এবং মহিলা ও শিশুদের ওপরে হামলার ঘটনা এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দঁড়িয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। গণতন্ত্রের উৎসব ধৃষ্টতায় পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মমতাই হিংসার প্রতীক
রিপোর্টে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করতে সব ধরনের নাগরিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। প্রতিটি নির্বাচনে তিনি মানবতাকে ধ্বংস করছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহিলা হলেও, রাজনৈতিক চাপে পুলিশ গণধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত করছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাজ্যে হিংসায় মুখ্যমন্ত্রী নীবর দর্শক থাকছেন এবং তিনি হিংসার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠছেন, বলা হয়েছে রিপোর্টে।
বাংলা মিনি পাকিস্তান
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ মিনি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। সেখানে বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে দেশবিরোধীদের মতো আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাজ্যে দেশের সংবিধান এবং গণতন্ত্রকে শ্বাসরোধ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সারা দেশের কোথাও রাজনৈতিক হিংসা না হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা সেখানে ভোট দিতে পারেন না। বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে মনোনয়ন দাখিল করার অনুমতি দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরামর্শ
বাংলায় হিংসা বন্ধ করতে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের মেয়াদ বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়াও বিজেপির অফিসগুলির নিরাপত্তা বাড়ানো, সন্ত্রাস কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের সাহায্য নিয়ে ঘরছাড়া দলীয় কর্মীদের বাড়িতে ফেরানোর কথাও বলা হয়েছে।
রিপোর্টে সরকারি কর্মী ও আধিকারিকরা যাঁরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দেন, তাঁদেরকে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও তোলা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন অংশে তৃণমূল অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications