কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেও অধীর প্রণম্য, বায়রনের পথপ্রদর্শক অভিষেক
মুর্শিদাবাদ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার কর্মসূচিতে গিয়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন কংগ্রেসের একমাত্র বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। তারপর থেকেই তাঁর বিশ্বাসযোগত্যা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চলেছে রাজনৈতিক মহল।
বুধবার মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে ফিরে বায়রন বিশ্বাস মুখ খুললেন তা নিয়ে। তিনি যেমন তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করা নিয়ে সরব হলেন, তেমনি সাফ জানিয়ে দিলেন তাঁর কাছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী আর তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্যোস পাধ্যায়ের ফারাক কোথায়!

বায়রন জানান, অধীর চৌধুরী তাঁর কাছে প্রণম্য। কিন্তু তাঁর পথ প্রদর্শক অভিষেক বন্যোয়সপাধ্যায়ই। অর্থাৎ অধীর চৌধুরী যে তাঁকে টিকিট দিয়েছেন, বিধায়ক বানিয়েছেন, তা তিনি অস্বীকার করছেন না। তাই তাঁকে প্রণাম জানিয়েই তিনি বলেছেন এখন অভিষেকের দেখানো পথে হাঁটবেন। অভিষেকের পথ অনুসরণ করেই চলবেন।
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের জয় যখন রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল, তখনই মাত্র তিন মাসের মধ্যে তৃণমূলে যোগদান করে বায়রন বিশ্বাস বিষয়টিকে লঘু করে দেন। তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসিয়েছিল কংগ্রেস। তারপর রাজ্যজুড়ে আলোচনা সাগরদিঘি মডেল প্রয়োগ হবে বাংলায়। কিন্তু বায়রন জল ঢেলে দেন সেই আগ্রহে।
২০২১-এ একটি আসনও জিততে পারেনি কংগ্রেস। সেই খরা কাটিয়ে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে জিতে কংগ্রেসের একমাত্র বিধায়ক হিসেবে ২০২৩-এ বিধানসভা পা রেখেছিলেন বায়রন বিশ্বাস। কিন্তু তিন মাস কাটতে না কাটতেই তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে।

ফের দল ভাঙার পুরনো খেলায় মেতে উঠল তৃণমূল। আবারও কংগ্রেস বিধায়ককে ভাঙিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে শূন্য করার পরিকল্পনা কার্যকর করল। দলবদলের পর বৃহস্পতিবার সাগরদিঘিতে তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে প্রস্তুত সাগরদিঘি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস।
সাগরদিঘিতে পা রাখার আগে তৃণমূল যখন তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন, তখনই তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছে জেলাজুড়ে। বাম-কংগ্রেস তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনে শামিল হয়েছে। সবাই চান, তিনি পদত্যাগ করে পুনরায় নির্বাচনে লড়ুন। এই প্রশ্নের মুখে বায়রন জানান, আমার দলত্যাগের জন্য দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হয় না।
বায়রন সাফ জানিয়ে দেন, পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। যদি নিয়ম অনুযায়ী দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হত আমার বিরুদ্ধে, আমি নিয়ম মেনে পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়াতাম। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কংগ্রেসের টিকিটে জিতে তৃণমূলকে যোগ দিয়ে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সাগরদিগির মানুষ তাঁকে ক্ষমা করবে না।












Click it and Unblock the Notifications