বসিরহাটে ঝামেলা তো কী হয়েছে, সাংসদের বিয়েটা তো আগে!

উনি নিশ্চিত যে বসিরহাট নিরাপদেই থাকবে। উনি, অর্থাৎ বসিরহাটের নব্য নির্বাচিত সাংসদ নুসরত জাহান, যিনি বিপুল ভোটে এবারের লোকসভা নির্বাচনে জিতেছেন উত্তর ২৪ পরগনার এই সংবেদনশীল কেন্দ্রটি থেকে।

উনি নিশ্চিত যে বসিরহাট নিরাপদেই থাকবে। উনি, অর্থাৎ বসিরহাটের নব্য নির্বাচিত সাংসদ নুসরত জাহান, যিনি বিপুল ভোটে এবারের লোকসভা নির্বাচনে জিতেছেন উত্তর ২৪ পরগনার এই সংবেদনশীল কেন্দ্রটি থেকে। সম্প্রতি ওই কেন্দ্রের অন্তর্গত সন্দেশখালিতে তুমুল হানাহানি, খুন-জখমের পরে এই বক্তব্য রাখেন নুসরত; যদিও সাংসদ নিজে সেখানে যাননি।

অপরদিকে, টলিউডের অন্যতম ব্যস্ত এই নায়িকা এখন মনোনিবেশ করছেন তাঁর নিজের ডেস্টিনেশন ওয়েডিং-এর উপরে। আর কিছুদিন পরেই তুরস্কে সম্পন্ন হবে নুসরতের বিয়ে। এরই মধ্যে বন্ধু মিমি, যিনিও এবারে জিতেছেন যাদবপুর কেন্দ্র থেকে, ঘটা করে আয়োজন করলেন নুসরতের আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠান; সংবাদমাধ্যমে বেরিয়েছে সেখানে কী মেনু ছিল, তার ফিরিস্তিও।

বিয়ে করছেন করুন, কিন্তু দায়িত্ববোধ?

বিয়ে করছেন করুন, কিন্তু দায়িত্ববোধ?

নুসরত বিয়ে করছেন, ভালো কথা। আমরা তাঁকে তাঁর সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্যে শুভেচ্ছে জানালাম আগাম। কিন্তু নিজের কেন্দ্রে যে খুনোখুনির রাজনীতি চলছে, তার কী হবে? বলা হচ্ছে প্রশাসনই নাকি চায়নি সাংসদ সেখানে পা রাখুন এই পরিস্থিতিতে। তাজ্জব! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো গণদরদী নেত্রীর দলের সাংসদ হয়ে তাঁকে কী না বলা হচ্ছে ওই জায়গায় না যেতে?

বসিরহাট এলাকায় অদূর অতীতেও ঝামেলা কম হয়নি। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ দেখা গিয়েছে এর আগেও। দু'হাজার সতেরোতে বাদুড়িয়ার ঘটনা এখনও মানুষ ভোলেনি। তা সেই এলাকায় একজন অনামী অরাজনৈতিক লোককে লোকসভার প্রার্থী করা হয়েছিল কী ভেবে? স্রেফ তাঁর সংখ্যালঘু পরিচয়টিই কি বড় ছিল সেখানে, যেহেতু বসিরহাটে যথেষ্ট বড় সংখ্যক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ থাকে?

সাংসদকে আড়াল করতে হবে কেন? আর তাহলে তিনি সাংসদ কেন?

সাংসদকে আড়াল করতে হবে কেন? আর তাহলে তিনি সাংসদ কেন?

যদি নুসরত রাজনীতির চ্যালেঞ্জ নাই নিতে পারেন; যদি বিপুল ভোটে জিতেও প্রশাসন তাঁকে আড়াল করে রাখতে চায়, তাহলে সাংসদ হয়ে কী লাভ হল অভিনেত্রীর? যদি একান্তেই তাঁকে সাংসদ করতে হত, কোনও সুরক্ষিত এবং অপেক্ষাকৃত কম সমস্যা-সংকুল কেন্দ্র তাঁকে দিলেই পারতেন দলনেত্রী। এই লোক-হাসানোর অর্থ কী?

গণপরিসরে এসে ব্যাক্তিগতকে আর বড় করে দেখা যায় না

গণপরিসরে এসে ব্যাক্তিগতকে আর বড় করে দেখা যায় না

নুসরতের বিয়ের প্রসঙ্গে বলতে হয় একটিই কথা। বিয়ে করা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কতটা ধুমধাম করবেন, কোথায় করবেন তা তিনিই জানেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধিত্বের একটি গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এক বড় বিপদের সময়ে ড্যাং ড্যাং করে বিদেশ পাড়ি দেওয়া সাত-পাকে বাঁধা পড়তে, এ কেমন কথা? রাজনীতি তুচ্ছতাচ্ছিল্যের বিষয় নয়। যদি এই ক্ষেত্রে গণসেবা করতে হয়, তাহলে কোমর বেঁধে নামাটাই আসল। ব্যাক্তিগত সুখ-আহ্লাদকেও সেখানে পিছনের সারিতে ঠেলতে হয়। অন্তত রাজনীতিতে নিবেদিত প্রাণ নেতারা তাই করেন।

পরিযায়ী পক্ষীর গপ্পো

পরিযায়ী পক্ষীর গপ্পো

সমস্যা হল নুসরত এবং তাঁর মতো অন্যান্যরা যাঁরা রাজনীতিতে আসেন ভোটে জিততে, কোনওদিনই রাজনীতি করতে আসেন না। পরিযায়ী পক্ষীর মতো মাথায় বসে সুযোগ-সুবিধা-শিরোনাম পেয়ে পাঁচ বছর চালিয়ে দেন। দলের নেতৃত্বের কাছে তাঁদের কিছু উপকারিতা থাকে এবং সেই জন্যেই তাঁদের ঘটা করে ডেকে এনে নির্বাচনে দাঁড় করানো হয়। কিন্তু আসল বিষয়টি হচ্ছে এই তৈরী করা নেতাদের গুরুত্ব কিছুই নয়। তাঁরা নিজেদের ক্ষেত্রে আসলে কতটা কাজ করছেন না করছেন তাতে দলের কিছুই এসে যায় না। কারণ তাঁদের মুখ দেখিয়ে দলের পকেটে ভোটটি তদ্দিনে চলে এসেছে। আর সেলেব্রিটিদের কী বা এসে গেল কোথায় কী হচ্ছে না হচ্ছে দিয়ে? তাঁদের নিজস্ব কোনও সাংগঠনিক ক্ষমতা বা জোর কিছুই নেই; যা কিছু করে ওই দলই। তাছাড়া, অতশত ঝক্কি-ঝামেলা পোহানোর সঙ্গে অভ্যস্তও তাঁরা নন। আর তাই চরম বিপদেও তাঁরা কিছু শ্রুতিমধুর বুলি আউড়েই খালাস।

মার খায় শুধু পথে পড়ে থাকা গণতন্ত্র।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+