স্বাধীনতা সংগ্রামীর হাতে টানা রথ এবার ঘুরলো না বসিরহাটে
স্বাধীনতা সংগ্রামীর হাতে টানা রথ এবার ঘুরলো না বসিরহাটে
করোনা আতঙ্কে এবছর রথের চাকা ঘুরল না বসিরহাটে। রথের চাকা না ঘোরায় উদ্যোক্তা থেকে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকের মন খারাপ। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বড় বড় জমায়েত, মিছিল মিটিং, ধর্মিয় স্থান বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই নিয়ম মানতে গিয়ে বেশ কিছু অনুষ্ঠান ও পুজোও বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সমস্ত ধর্মিয়স্থান খুলতে শুরু করেছে। রাজ্যে আনলক ওয়ান চালু হয়েছে। দোকানপাট, হাট বাজার খুলছে। জনজীবন অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এবারে রথের চাকা ঘুরছে না, কারণ একটাই করোনা আতঙ্ক।

বসিরহাটে রথের দড়ি টানতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। পুরীর রথযাত্রা উৎসবও এবারে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পুরীর রথ বন্ধ রাখায় বসিরহাটেরর রাথযাত্রার উদ্যোক্তারাও তার বাইরে যেতে চাইছেন না। তাই বসিরহাটের শহর, শহরতলি ও গ্রামের রথযাত্রা এবার বন্ধ থাকছে।
বসিরহাট শহরের বড় কালীবাড়ি দেশপ্রিয় ব্যায়ায় সমিতির রথ উৎসব বহু বছরের পুরোনো। দীর্ঘ ৯০ বছর আগে বসিরহাটের স্বাধীনতা সংগ্রামী ভট্টি মিত্র প্রথম জগন্নাথ দেবের পুজোর পাশাপাশি রথযাত্রার প্রচলন শুরু করেছিলেন। এই উৎসব বসিরহাটের বাসিন্দাদের কাছে আলাদা মাত্রা বহন করে। রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে এলাকায় বিশাল মেলা বসে। মেলায় বহু মানুষের আর্থিক উপার্জন হয়। কিন্তু এবার কোভিড ১৯ আতঙ্কে রথযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
মাসির বাড়ি যাওয়া আর হবে না। রথটিকে ব্যারিকেডে ঘিরে রাখা হয়েছে। তবে রথ উৎসবে সেভাবে জাঁকজমক না হলেও, নিয়মাচারে কোন ত্রুটি থাকবে না। ভক্ত তথা সাধারণ মানুষের জন্য থাকবে না কোন অনুষ্ঠান। আবার সাতদিন পর প্রথা মেনে পুজো সম্পন্ন হবে। প্রথা মেনে সব কিছু হলেও সাধারণ মানুষের কোন রকম অংশগ্রহণ থাকবে না। সেবাইতরা জানিয়েছেন, "করোনা সংক্রমণের জন্যই তাঁরা সমস্ত রকম নিয়মাচার মেনে বাড়িতেই পুজো করবেন। শুধুমাত্র মাসির বাড়ি যাবার যে প্রথা সেটা নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখান থেকে ফের সাত দিন পর নিয়ম রক্ষা করা হবে।" এবছর কোনও মেলাও বসছে না। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, রথ মানেই বসিরহাটে একটা উৎসব। এবছর তার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় স্বভাবতই বিমর্ষ তারা।












Click it and Unblock the Notifications