শান্তিনিকেতনে এবার বসন্ত উৎসব আশ্রম প্রাঙ্গনের বাইরে, ব্যস্ত ছাত্রছাত্রীরা
শান্তিনিকেতনের আশ্রম প্রাঙ্গণের বাইরে, পৌষ মেলা মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হবে বসন্ত উত্সব । আশ্রম প্রাঙ্গণের বাইরে হলেও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত প্রথা মেনেই পালিত হচ্ছে এই উত্সব ।
শান্তিনিকেতনের আশ্রম প্রাঙ্গণের বাইরে, পৌষ মেলা মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হবে বসন্ত উত্সব । আশ্রম প্রাঙ্গণের বাইরে হলেও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরাচরিত প্রথা মেনেই পালিত হচ্ছে এই উত্সব । তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তৈরি করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রছাত্রীরা, বিশেষ করে কলাভবনের ছাত্রছাত্রীরা প্রথা মেনেই শুরু করে দিয়েছে আলপনা আঁকার কাজ ।

এই বছর বসন্ত উত্সব করা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রথমে বিশ্বভারতী কতৃপক্ষ জানিয়েছিল যে বসন্ত পঞ্চমীতে নয়, অন্য কোন দিন তা পালিত হবে । এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে পিছু হটে কতৃপক্ষ জানিয়েছিল যে নির্ধারিত দিন তা পালিত হবে কিন্তু বাইরের কারোর প্রবেশাধিকার থাকবে না । এই বসন্ত উত্সব সীমাবদ্ধ থাকবে ছাত্র ছাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে । এই নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয় । পরে জেলার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সবাই আসতে পারেন ।কিন্তু এই বার বসন্ত উত্সব অনুষ্ঠান আশ্রম প্রাঙ্গণে র বদলে হবে পৌষ মেলা মাঠে ।
বসন্ত উত্সব অনুষ্ঠানের জায়গা বদল করা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এর আগেও বহু বার বসন্ত উত্সব অনুষ্ঠানের জায়গা বদল করা হয়েছে । 1907 সালে কবিপুত্র শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্ত পঞ্চমীতে আম্রকুঞ্জে এই উত্সবের সূচনা করেন । আশির দশকে আম্রকুঞ্জের বদলে বসন্ত উত্সব অনুষ্ঠান শুরু হয় গৌর প্রাঙ্গণে । কিন্তু লোক সমাগম বাড়তে থাকে । তার জন্য 2007 সালে সেটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আশ্রম প্রাঙ্গণে।
কর্তৃপক্ষ ও শান্তিনিকেতনের প্রবীণ মানুষ অনেকেই মনে করছেন যে বাইরের যারা আসছেন তারা প্রথা মেনে বসন্ত উত্সব অনুষ্ঠানে আসছেন না । আসছেন হুল্লোড় করতে । তাই বসন্ত উত্সব অনুষ্ঠান শেষ হবার আগেই তারা রঙ নিয়ে খেলা শুরু করে দিচ্ছেন। তার ফলে শুরু হচ্ছে বিশৃঙ্খলা । এই ছাড়া এত মানুষের ভিড় হয় যে শান্তিনিকেতন ও বোলপুর এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় ।
পৌষ মেলা মাঠে জায়গা বেশি বলে অনেক মানুষ এলেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না বলেও মনে করছেন অনেকেই ।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুত্ চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে এই বসন্ত উত্সব অনুষ্ঠানে র সাংস্কৃতিক দিকটা দেখবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । বাকি যা যা দেখার তা দেখবে জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ।












Click it and Unblock the Notifications