বাবুল কি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন, নাকি বিজেপিকে বিদায় জানাবেন, জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে
বাবুল কি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন, নাকি বিজেপিকে বিদায় জানাবেন, জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে
২০১৪ সালে বাবুল সুপ্রিয় আসানসোল থেকে জেতার পর মন্ত্রী হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায়। তারপর ২০১৯-এর পরও বাবুল মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু দু-বছরের মধ্যেই বাবুলে অনাস্থা দেখার বিজেপি। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হল। তাতেই জল্পনার পারদ চড়েছে। বাবুলের টুইট নানা জল্পনার বাতাবরণ তৈরি করছে।

বাবুল সুপ্রিয় ও বঙ্গ বিজেপির মধ্যে বাকযুদ্ধে জল্পনা
কোনও কোনও মহলে জোর চর্চা চলছে বাবুল সুপ্রিয় রাজনীতি ছাড়তে পারেন। কেউ কেউ বলছেন, নিদেনপক্ষে বিজেপিও ছাড়তে পারেন তিনি। মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফার পর তাঁকে সংগঠনের কাজে লাগানোর বার্তা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বিজেপি। কিন্তু সাংগঠনিক রদবদলের আগে বাবুল সুপ্রিয় ও বঙ্গ বিজেপির মধ্যে বাকযুদ্ধ তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেবে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

চারজনকে বাংলা থেকে মন্ত্রী করে বাদ প্রথম দুজনকে
এবার বিজেপি বাংলা থেকে ১৮ জন সাংসদ পেয়েছিল। তার মধ্যে অন্তত ৪-৫ জন মন্ত্রী হবে, এমনটা মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল। কিন্তু সেই দুজনকেই মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকী বাংলার বিধানসভা ভোটের আগেও মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়নি বাংলার সাংসদদের। এবার চারজনকে বাংলা থেকে মন্ত্রী করা হয়, সেখানে বাদ দেওয়া হল প্রথম দুজনকে।

দিলীপ ঘোষ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছেন বাবুল প্রসঙ্গে
বাবুল মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর জল্পনা ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বাবুল সতর্কিতও হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। এর মধ্যে দিলীপ ঘোষ তাঁকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন। বাবুল হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন। পরে যদিও দিলীপ ঘোষ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে বলেন, তিনি বলতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন।

বাবুল মূলত দুটি পদক্ষেপ নিতে পারেন, জল্পনা
বাবুল মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর তাঁকে সাংগঠনিক কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি। কিন্তু তাঁর মন কি বসবে সংগঠনের কাজে। তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বাবুল মূলত দুটি পদক্ষেপ নিতে পারেন। এক, রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া। দুই, বিজেপি ছেড়ে দেওয়া। আবার তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের দিকে পা বাড়াবেন কি না, সেটা নিয়েও সংশয় থেকে যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাবুলের ‘ঝালমুড়ি’র রসায়ন
যদিও আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রসায়ন অন্যরকম ছিল। ঝালমুড়ি তাঁর অন্যতম প্রমাণ। বাবুল সুপ্রিয় নানা সময়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে, রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন। বর্তমানে সেই আক্রমণের ঝাঁঝ বেড়েছে। কিন্তু বাবুলের বিরুদ্ধে সে অর্থে ঝাঁঝালো আক্রমণ শানাতে দেখা যায়নি মমতা-ব্রিগেডকে।

রাজনীতি ভিন্ন বাবুলের একটা বিরাট জগৎ রয়েছে
বাবুল সুপ্রিয় মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। বলেছিলেন- ওরা আবার কী দোষ করল। বাবুল আর দেবশ্রীর কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাবুল সুপ্রিয়কে রাজনীতিতে এনেছিলেন স্বয়ং মোদী। তিনি তাঁকে সরিয়ে দেওযার পর বাবুল অপমানিত হয়েছেন। তাঁর মোদী-ভিন্ন কোনও বিজেপি যোগ নেই। তাই বাবুল ইচ্ছা করলে বিজেপি ছাড়তে পারেন আবার রাজনীতিও ছাড়তে পারেন। কারণ রাজনীতি ভিন্ন তাঁর একটা বিরাট জগৎ রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications