বাবুলের বড় ‘সুযোগ’ কি মমতার মন্ত্রিসভায়, বিজেপি ছাড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে গুঞ্জন
বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে যোগ দিয়ে কোনও রাখঢাক না করেই বলে দিলেন, এবার তিনি আসানসোলের সাংসদ পদও ছেড়ে দেবেন। আর সোমবারই তিনি দেখা করবেন দলীয় সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কিন্তু তারপর কী হবে?
বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে যোগ দিয়ে কোনও রাখঢাক না করেই বলে দিলেন, এবার তিনি আসানসোলের সাংসদ পদও ছেড়ে দেবেন। আর সোমবারই তিনি দেখা করবেন দলীয় সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কিন্তু তারপর কী হবে? জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। বাবুল সুপ্রিয় বড় সুযোগ বলতে কী বুঝিয়েছেন? তিনি কি তবে রাজ্য মন্ত্রিসভায় আসতে চলেছেন?

বাংলার জন্য বড় সুযোগ পেয়েছি, তা হারাতে চাই না
বাবুলের মুখে সাফ কথা, আমি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছি মানে সমস্ত নিয়ম মেনেই যোগ দেব। আসানসোলে আমি বিজেপির টিকিটে জিতে এসেছি। তাই সাংসদ পদ ছেড়েই আসব। আর বলেছেন বাংলার জন্য বড় সুযোগ পেয়েছি, তা হারাতে চাই না। তাই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন বাবুল।

সিদ্ধান্ত বদল করে আমি গর্বিত, বললেন বাবুল
তাঁর এই কথাতেই রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। তিনি বাংলার জন্য কাজের বড় সুযোগ পেতে চলেছেন। আবার তিনদিনের মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠকে তিনি যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেবেন বলেও জানান। তার আগে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। বাবুল বলছেন এত ভালো সুযোগ পাবে ভাবিনি। সেজন্য সিদ্ধান্ত বদল করে আমি গর্বিত।

হৃদয় থেকেই রাজনীতি ছেড়েছিলেন, তবু...
বাবুল বলেছেন, এসবই তিন-চারদিনের মধ্যে হয়েছে। নইলে আমার রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণায় কোনও খাদ ছিল না। আমি হৃদয় থেকেই রাজনীতি ছেড়েছিলাম। কিন্তু যে সুযোগ পেতে চলেছি, তা হাতছাড়া করতে চাই না। তাঁর এই কথার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে তৃণমূল পরিকল্পনাও তৈরি করে ফেলেছে। বাবুলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফার পর তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে কে প্রার্থী হবেন, তাও চূড়ান্ত।

রাজ্যসভার সাংসদ পদেও বাবুলকে নিয়ে জল্পনা
শুক্রবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে যোগ দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। তারপর সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন উত্তরে তিনি জানান সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবেন তিনি। তারপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তাঁর এই ঘোষণার পর রাজ্যসভার সাংসদ পদেও তাঁর নাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে যায়।

বাবুলের জন্যই কি অর্পিতা ঘোষের ইস্তফা
অর্পিতা ঘোষ সম্প্রতি রাজ্যসভার সাসংদ পদ ছেড়েছেন। তৃণমূল তাঁকে সাংগঠনিক পদে এনেছে চটজলদি। আর তারপরেই বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। স্বভাবতই তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্যই অর্পিতা ঘোষকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বাবুল সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ এবং বাগ্মী। তাঁকে সংসদে ব্যবহার করতে রাজ্যসভায় নিয়ে যেতে পারে তৃণমূল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় বাবুল!
বাবুল ইঙ্গিত দিয়েছেন দিন তিনেকের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত হয়ে যাবে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় তাঁকে জায়গা দেওয়া হতে পারে। সেই বড় সুযোগের কথাই বলেছেন বাবুল সুপ্রিয়। বাংলার হয়ে কাজ করার আর কোন বড় সুযোগ থাকতে পারে, তা নিয়ে চর্চা চালাচ্ছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

রাজ্যের মন্ত্রী করার অফারেই কি তৃণমূলে মজলেন বাবুল
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বিজেপিকে একটা ঝটকা দিতেই বাবুল সুপ্রিয়কে তৃণমূলে নিয়ে আসা। আর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া বাবুলকে আনতে তৃণমূলকে তো একতটা টোপ দিতেই হত। সাংসদ পদে রয়েছেন বাবুল। তাই সাংসদের বদলে সাংসদ- এই রফায় বাবুল ভিড়ত না। তাই রাজ্যের মন্ত্রী করার অফার দেওয়া হয়েছে তাঁকে- এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।

বাবুলকে নিয়ে চমক দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আর রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনেক শূন্যস্থান রয়েছে। অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আর মন্ত্রী থাকতে চাইছে না। ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে গুরুতর অসুস্থ। তারপর রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বয়স হয়েছে। তাঁরে উপর একাধিক দফতরের বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে। আরও অনেকের হাতে একাধিক দফতর রয়েছে। তাই বাবুল সুপ্রিয়কে মন্ত্রিসভায় নিয়ে চমক দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাবুলকে নিয়ে গুঞ্জন বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে
বাবুল সুপ্রিয় সাত বছর সাসংদ রয়েছেন। সংসদীয় রাজনীতিতে তিনি যেমন অভিজ্ঞ তেমনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন সাত বছর। মাত্র মাস দুয়েক আগে তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপরই দূরত্ব বাড়িয়ে বাবুল এখন তৃণমূলে। বাবুল এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভাতেও এবার জায়গা করে নিতে পারেন বলেই গুঞ্জন রাজ্য রাজনীতিতে।












Click it and Unblock the Notifications