অর্পিতা ঘোষের পরে তৃণমূলের আরও ৪ সাংসদের ইস্তফার সম্ভাবনা! জটিল অঙ্কে লক্ষ্যভেদ অভিষেক-প্রশান্ত কিশোরের
২০২৪-এর লক্ষ্যে জটিল অঙ্ক। লক্ষ্যভেদের চেষ্টা ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) এবং তৃণমূলের (Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। সূত্রের খবর সেই অঙ্কে
২০২৪-এর লক্ষ্যে জটিল অঙ্ক। লক্ষ্যভেদের চেষ্টা ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) এবং তৃণমূলের (Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। সূত্রের খবর সেই অঙ্কে রাজ্যসভা থেকে তৃণমূলের আরও চারজন সদস্য ইস্তফা দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছেন।

রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অর্পিতা ঘোষ
মাস কয়েক আগে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূলের অর্পিতা ঘোষ। সেই সময় ঘাসফুল শিবিরের অনেকের কাছে প্রশ্ন ছিল কেন এই ইস্তফা। পরে অঙ্ক সামনে আসে। মানস ভুঁইয়ার ছেড়ে দেওয়া আসনে অসমের সুস্মিতা দেবকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পরে তৃণমূল অর্পিতা ঘোষের আসনে রাজ্যসভায় পাঠায় গোয়ার লুইজিনো ফেলেইরোকে। অঙ্কটা হল কংগ্রেসকে ভেঙে রাজ্যে রাজ্যে সংগঠন বৃদ্ধি। পশ্চিমবঙ্গে থেকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছে প্রাক্তন আমলা এবং নরেন্দ্র মোদীর ঘোর বিরোধী বলে পরিচিত জহর সরকারকে। তাঁর ক্ষেত্রে তৃণমূলের অঙ্কটা অবশ্যই অন্য।

রাজ্যসভায় 'নিষ্ক্রিয়'দের সরানোর পরিকল্প
তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভা এমন অনেকেই রয়েছেন, সেভাবে তাঁদেরকে সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়নি অনেকদিন কিংবা কোনও দিন। এঁদের সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের বলেই পরিচিত। তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁদেরকে পছন্দ করতেন বলে পাঠিয়েছিলেন রাজ্যসভায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে পরবর্তী অঙ্ক কষতে নেমে পড়েন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেই অনুযায়ী চলছে বর্তমানের তৃণমূল। তৃণমূল দেখেছে, অর্পিতা ঘোষকে রাজ্যসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া পরে ত্রিপুরায় তাঁকে আরও সক্রিয়ভাবে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে আরও অনেক সাংসদকে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিতে দেখতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে নির্দিষ্ট সময়ের পরিস্থিতির ওপরে, বদলে যেতে পারে নেতাদের নামও। কেননা এব্যাপারে তৃণমূল এখনও কোনও পাকা সিদ্ধান্ত নেয়নি।

শান্তা ছেত্রী
পাহাড়ের এই নেত্রী একটা সময়ে ছিলেন জিএনএলএফ সুপ্রিমো সুভাষ ঘিসিং-এ কাছের। পাহাড়ে জিএনএলএফ-এর শক্তি কমে যাওয়া এবং তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন তিনি। পাহাড়ের প্রতিনিধি হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠান ২০১৭ সালে। রাজ্যসভায় তাঁর কার্যকালের মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত।

আবীর বিশ্বাস
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আনন্দমোহন বিশ্বাসের ছেলে আবীর বিশ্বাস। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নবদ্বীপের সাংসদ ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের জন্য বিধানসভা যান আবীর বিশ্বাস। আইনজীবী উচ্চশিক্ষিত আবীর বিশ্বাসকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভায় পাঠান ২০১৮ সালে। তাঁর কার্যকালের মেয়াদ রয়েছে ২০২৪ পর্যন্ত।

সুব্রত বক্সি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব কাছের। তৃণমূলের কোর গ্রুপের অন্যতম সদস্য। দলের রাজ্য সভাপতি। ২০১১ তে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে পূর্তমন্ত্রী-পরিবহনমন্ত্রী করা হয়েছিল তাঁকে। পরে ২০১১ সালের ডিসেম্বর দক্ষিণ কলকাতা থেকে লোকসভা যান তিনি। ফের ২০১৪ সালে লোকসভায় যান তিনি। ২০১৯-এ নিজের আপত্তিতে তাঁকে লোকসভায় তাঁকে টিকিট না দেওয়া হলেও, ২০২০-তে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কার্যকালের মেয়াদ রয়েছে ২০২৬ পর্যন্ত। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে তাঁকে সক্রিয়ভাবে পাওয়া গিয়েছিল।

শুভাশিস চক্রবর্তী
পেশায় আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে রয়েছেন। তিনিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের বলেই পরিচিত। ২০১৮ সালে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায় তৃণমূল।

বদলে কপিল সিবালের মতো অনেককেই রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে
এখনও কংগ্রেসে থাকলেও অভিষেক মনু সিংভিকে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গ থেকেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট কিংবা হাইকোর্টে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিংবা তৃণমূলের কোনও বড় মামলা হলেই ডাক পড়ে একটা সময়ে গান্ধী পরিবার ঘনিষ্ঠ এই আইনজীবীর। সেরকমই অপরজন হলেন কপিল সিবাল। মনমোহন সিং মন্ত্রিসভায় অন্যতম এই সদস্য বর্তমানে এই নেতা প্রবল রাহুল বিরোধী এবং কংগ্রেসের জি-২৩ গোষ্ঠীর অন্যতম নেতা। আবার তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও খুব ভাল। রাজ্যসভায় তাঁর মতো বলিয়ে-কইয়ে নেতার সংখ্যা হাতে গোনা। এখন মোদী সরকারকে আক্রমণ করতে এইরকম লোককেই পছন্দ তৃণমূলের। ফলে ভবিষ্যতে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এছাড়াও উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া নেতাদেরও এই তালিকায় পাওয়া যেতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications