গতবার ‘গৃহযুদ্ধে’ হার মানতে হয়েছিল, এবার যুদ্ধ ‘ছায়াসঙ্গী’র বিরুদ্ধে, একঝলকে রায়গঞ্জ
জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও রায়গঞ্জে ভোট হবে দ্বিতীয় দফায়। তার আগে তিন কেন্দ্রের ভোট ইতিহাসের দিকে আরও একটিবার ফিরে দেখা। একঝলকে রায়গঞ্জের ভোট ইতিহাস।
প্রথম দফায় দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। এবার ২০১৯-এর লোকসভা যুদ্ধে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের অপেক্ষা। এই দফায় বাংলায় তিনটি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও রায়গঞ্জে ভোট হবে এই দ্বিতীয় দফায়। তার আগে তিন কেন্দ্রের ভোট ইতিহাসের দিকে আরও একটিবার ফিরে দেখা। একঝলকে রায়গঞ্জের ভোট ইতিহাস।

রায়গঞ্জ
বাংলার ৪২ লোকসভার কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচ নম্বর লোকসভা কেন্দ্র হল এই রায়গঞ্জ। সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে গঠিত এই লোকসভা আসনটি বরাবরই কংগ্রেসের শক্তঘাঁটি। তবে মাঝেমধ্যে কংগ্রেসি-কোন্দল কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করে গিয়েছে বামফ্রন্ট তথা সিপিএম।

কোন কোন বিধানসভা
রায়গঞ্জলোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র হল- ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, করণদিঘি, হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ ও রায়গঞ্জ। এই সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রই উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত।

১৯৫২ থেকে ১৯৭২-এর উপনির্বাচন
২০ বছরে রায়গঞ্জে ছ-টি নির্বাচন হয়েছে। যদিও প্রথম দুই নির্বাচনে এই কেন্দ্রের নাম ছিল পশ্চিম দিনাজপুর। ৬২ সাল থেকে নাম হয় রায়গঞ্জ। ছটি নির্বাচনেই এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয় কংগ্রেস। প্রথম নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে সাংসদ হন সুশীলরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। দ্বিতীয় নির্বাচনে দু-জন সাংসদ হন এই কেন্দ্র থেকে। একজন সেলকু মারদি, অন্যজন চপলাকান্তি ভট্টাচার্য। এই চপলাকান্তি ভট্টাচার্যই পরের দুই নির্বাচনে জয়ী হন। ৭১-এ জয়ী হন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পরের বছর নির্বাচনে জয়ী হন মায়া রায়।

১৯৭৭-এর নির্বাচনে
১৯৭৭ সালে নির্বাচনে এই কেন্দ্র কংগ্রেস রাজের অবসান হয়। ৭৭-এর নির্বাচনে ভারতীয় লোকদলের প্রার্থী হিসেবে মহম্মদ হায়াত আলি সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি ভারতীয় লোকদলের প্রতিনিধিত্ব করেন। এবং ভারতীয় লোকদল কংগ্রেসকে ভেঙে প্রথমবার রায়গঞ্জে পরিবর্তন আনে।

১৯৮০ থেকে ১৯৯৮
১৯৮০ থেকে ১৯৮৯-তিনটি নির্বাচনে রায়গঞ্জ কেন্দ্র ছিল কংগ্রেসের দখলে। কংগ্রেসের গোলাম ইয়াজদানি এই কেন্দ্র থেকে পর পর তিনবার জিতে হ্যাটট্রিক করেন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনে পর পর জয়ী হন সিপিএম। সাংসদ নির্বাচিত হন সিপিএমের সুপ্রত মুখোপাধ্যায়।

১৯৯৯ থেকে ২০০৯
১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনে পের কংগ্রেসি রাজ প্রতিষ্ঠা হয়। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি পরপর দুবার এই কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন। তাঁর অসুস্থতার পর ২০০৯ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন প্রিয়-জায়া দীপা দাশমুন্সি। ২০১৪ সালে তিনি ‘গৃহযুদ্ধে' পরাজিত হন চতুর্মুখী লড়াইয়ে।

২০১৪ নির্বাচনের ফল
২০১৪ সালে রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হন সিপিএমের মহম্মদ সেলিম। তিনি কংগ্রেসের দীপা দাশমুন্সিকে পরাজিত করেন মাত্র ১,৬৩৪ ভোটে। এই কেন্দ্রে তৃতীয় হন বিজেপির নিমু ভৌমিক। চতুর্থ হন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রিয়রঞ্জনের ভাই সত্যরঞ্জন দাসমুন্সি।

২০১৪ সালে কার কত ভোট
২০১৪ সালে সিপিএম পেয়েছিল ৩,১৭,৫১৫ ভোট। কংগ্রেস পেয়েছিল ৩,১৫,৮৮১ ভোট, বিজেপি পেয়েছিল ২,০৩,১২১ ভোট। আর তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ভোট পান ১,৯২,৬৩৪। এসপি প্রার্থী ৩২ হাজার ভোট পান আর নোটায় পড়ে ১০ হাজারেরও বেশি ভোট।

২০১৯-এ কারা প্রার্থী
সিপিএম এবার সিটিং এমপি মহম্মদ সেলিমকে প্রার্থী করেছে। কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন দীপা দাশমুন্সিই। আর তৃণমূল প্রার্থী করেছে একসময়ে দীপা দাশমুন্সির ছায়াসঙ্গী কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে নাম লেখানো বিধায়ক কানাইলাল আগরওয়ালকে। বিজেপির প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী।












Click it and Unblock the Notifications