একসময়ের সিপিএম গড়ে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ বিজেপির! ফিরে দেখা বোলপুরের ভোট ইতিহাস
প্রথম তিন দফায় ১০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। এবার ২০১৯-এর লোকসভা যুদ্ধে চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণের অপেক্ষা।
প্রথম তিন দফায় ১০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। এবার ২০১৯-এর লোকসভা যুদ্ধে চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণের অপেক্ষা। এই দফায় বাংলায় আটটি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। বহরমপুর, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, বর্ধমান পূর্ব, বর্ধমান-দুর্গাপুর, আসানসোল, বীরভূম ও বোলপুরে ভোট হবে এই দফায়। তার আগে ফিরে দেখা বোলপুরের ভোট-ইতিহাস।

একনজরে বোলপুর
বাংলার ৪২ টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৪১ নম্বর কেন্দ্র হল বোলপুর। ১৯৭১-এর থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত এই কেন্দ্রের সাংসদ নির্বাচিত ছিলেন সিপিএম-এর শরদিশ রায়। তিনি কংগ্রেসের নীহার দত্তকে পরাজিত করেছিলেন। তার আগে এই কেন্দ্রটি কংগ্রেসের দখলে ছিল। কিন্তু ১৯৮৫ সালেই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। বিপক্ষে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। উপনির্বাচনে দেড়গুণের বেশি ভোটে কংগ্রেস প্রার্থী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়কে পরাজিত করেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। এরপর থেকে টানা ২০০৯ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। ২০০৪-এর ভোটে জেতার পর লোকসভার অধ্যক্ষও হয়েছিলেন তিনি।

কোন কোন বিধানসভা
বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র। যার মধ্যে চারটি বীরভূম জেলায় অবস্থিত। কেন্দ্রগুলি হল, বোলপুর, নানুর, লাভপুর এবং ময়ূরেশ্বর। বাকি তিনটি কেন্দ্র পাশের জেলা পূর্ব বর্ধমানের মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্রগুলি হল কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট এবং আউসগ্রাম।

১৯৭১ থেকে ২০১৪
১৯৭১-এ এই কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন শরদিশ রায়। ১৯৮৫ তে এই কেন্দ্রের সাংসদ হন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। এরপর থেকে নির্বাচন গুলিতে নিজের সঙ্গে নিকটবর্তী প্রার্থীর ব্যবধান বাড়িয়ে গিয়েছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। ১৯৮৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে তাঁর ব্যবধান ছিল ১৬৩,৫৯৩। ১৯৯১-এ কংগ্রেস প্রার্থী জীবন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যবধান ছিল প্রায় ২ লক্ষ ২৬ হাজারের বেশি। ১৯৯৬ সালে সিপিএম প্রার্থী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেস প্রার্থীর ব্যবধান ছিল ২ লক্ষ ৫৩ হাজারের বেশি। ১৯৯৮-এর নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌর হরি চন্দ্রের সঙ্গে তাঁর ব্যবধান ছিল ২ লক্ষ ৫১ হাজারের বেশি। ১৯৯৯ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন সুনীতি চট্টরাজ। ওই নির্বাচনে তাঁর সঙ্গে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যবধান ছিল ১ লক্ষ ৮৬ হাজারের বেশি। ২০০৪-এর নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাঝিকে ৩ লক্ষ ১০ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। ২০০৯ সালে বোলপুর কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী বদল করে। কেন্দ্রটি সংরক্ষিতও হয়ে যায় ২০০৯ সাল থেকে। এতদিন বীরভূম কেন্দ্র থেকে জয়ী প্রার্থী রামচন্দ্র ডোমকে বোলপুরের প্রার্থী করা হয়। তিনি তৃণমূলের অসিত মালকে একলক্ষ ২৬ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে দেন।

২০১৪-র নির্বাচনের ফল
২০১৪ সালে ওই কেন্দ্রে নতুন প্রার্থী দেয় তৃণমূল। বিশ্বভারতীয় অধ্যাপক অনুপম হাজরাকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তিনি সিপিএম প্রার্থী রামচন্দ্র ডোমকে ২ লক্ষ ৩৬ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে দেন।

২০১৪ সালে কার ভোট কত
২০১৪ সালে বোলপুর কেন্দ্রে ভোটদাতার সংখ্যা ছিল ১,৫৩৮,৪২৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৭৯৮,৩৮৪ জন এবং মহিলা ছিলেন ৭৪০,০৪৫ জন। সব মিলিয়ে ভোট দিয়েছিলেন ১,৩০৪,৭৫৬ জন। ভোটদানের হার ছিল ৮৫ শতাংশ।

২০১৯-এ প্রার্থী কারা
বোলপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের তরফ থেকে এবারের প্রার্থী অসিত মাল। সিপিএমের তরফে প্রার্থী রামচন্দ্র ডোম এবং বিজেপির তরফে প্রার্থী রামপ্রসাদ দাস।












Click it and Unblock the Notifications