মুকুলের পর অর্জুনের ঘরওয়াপসি বড় ঝটকা বিজেপির! সবুজ-বাংলায় ফিকে হচ্ছে গেরুয়া
মুকুলের পর অর্জুনের ঘরওয়াপসি বড় ঝটকা বিজেপির! সবুজ-বাংলায় ফিকে হচ্ছে গেরুয়া
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই গ্রহণ লেগেছে বিজেপিতে। এক এক করে হেভিওয়েট নেতারা দল ছাড়ছেন। নির্বাচনের পরেই বিজেপিতে ইন্দ্রপতন হয়েছিল মুকুল রায়কে দিয়ে। পাঁচ-পাঁচজন বিধায়ক হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির। বিজেপি ছেড়েছেন বাবুল সুপ্রিয়, জয়প্রকাশ মজুমদারের মতো নেতারা। আবার রাজীব-সব্যসাচীদেরও ঘরওয়াপসি হয়েছে। এবার ঘরে ফিরলেন অর্জুন সিং।

অর্জুনের ‘গাণ্ডীব’ও হাতছাড়া বিজেপির
মুকুল রায়ের পর অর্জুন সিং দক্ষ সংগঠক ও সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে তৃণমূলে কামব্যাক করলেন। মুকুল রায় যেমন বিজেপিতে গিয়ে একা হাতে সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। একাধিক নেতাদকে দল ভাঙিয়ে এনে তৃণমূলের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিলেন, তেমনই অর্জুন সিংও তাঁর গড়ে রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বিজেপিতে গিয়ে। ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তৃণমূলের কর্তৃত্ব। এবার সেই অস্ত্রও হাতছাড়া হল বিজেপির।

মুকুলের মতো অর্জুনও সাংগঠনিক দক্ষ
২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে তৃণমূল ছেড়েছিলেন অর্জুন সিং। মুকুল রায়ের হাত ধরে দিল্লিতে গিয়ে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। তারপর বিজেপির সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীকে হারিয়ে। এবং ভাটপাড়াতেও তিনি তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী মদন মিত্রকে হারিয়ে নিজের পুত্র পবন সিংকে বিধায়ক বানিয়েছিলেন। পরিচয় রেখেছিলেন তিনি একা হাতে ফলাফল ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। মোট কথা, ভাটপাড়া বা বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তাঁর ক্যারিশ্মা ছিল প্রশ্নাতীত।

অর্জুনের যোগদানে বিজেপির পালে হাওয়া লেগেছিল
মুকুল রায়ের হাত ধরে অর্জুন সিং তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে আচমকাই পদ পরিবর্তন হতে শুরু করেছিল। মুকুল রায়ের কাঁচরাপাড়া থেকে অর্জুনের ভাটপাড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পুরসভাগুলি দখল করে নিয়েছিল বিজেপি। কিছু গ্রাম পঞ্চায়েতেও শাসন কায়েম করেছিল তারা। যদিও তৃণমূল কিছুদিন পরেই সেসব পুনরুদ্ধার করে। কিন্তু তৃণমূলের গড়ে বিজেপি শক্ত ভিত গড়তে পারে অর্জুন সিংয়ের সৌজন্যেই।

বিজেপিতে কোনও ভবিষ্যৎ নেই, একুশেউ বুঝেছেন অর্জুন
অর্জুন সিং ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিজেপিতে কাটিয়েছেন। সম্প্রতি পুরসভা ভোটে বিজেপির শোচনীয় হারের পর থেকেই অর্জুন সিং বুঝে যান বিজেপিতে কোনও ভবিষ্যৎ নেই। বিজেপির নতুন নেতৃত্ব লড়াইয়ের জায়গা থেকে সরে গিয়েছে। ফলে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন। এবং বিজেপির সংগঠনের সমালোচনা শুরু করেন। পাটশিল্পে বঞ্চনা নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনার পর বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলেন। তারপর তিনি নিজে তৃণমূলে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নেন।

অর্জুনের পিছনে জনসমর্থন রয়েছে, অনুগামীও কম নয়
বিজেপির সঙ্গে সব সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে অর্জুন সিং তিন বছর পর ফিরলেন ঘরে। অর্জুনের ঘরওয়াপসি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছিল কয়েকদিন ধরে। রবিবারই হয়ে গেল সেই দলবদল। একুশের নির্বাচন শেষে মুকুল পরবর্তী সবথেকে বড় দলবদল বলেও অত্যুক্তি হয় না। কেননা অর্জুন সিং সাংগঠনিক দিকে থেকে শক্তিশালী একজন নেতা। তাঁর পিছনে জনসমর্থন রয়েছে। তাঁর অনুগামীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

মুকুলের সঙ্গে সঙ্গে অনুগামীরা যেমন ভিড় করেন
মুকুল রায় যেমন যখন যে দলে গিয়েছেন, তাঁর অনুগামীরা ভিড় করেছেন। তাঁর তৃণমূল ছাড়ার পরই অনুগামী নেতাদের তিনি নিয়ে যান বিজেপিতে। তেমনই তৃণমূলে ঘরওয়াপসির পরও দেখা গিয়েছে, তাঁরা একে একে ফিরে এসেছেন তৃণমূলে। এখনও কয়েকজন রয়ে গিয়েছেন বিজেপিতে। তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হয়, তাও দেখার আগ্রহে রয়েছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। মুকুলের মতো অর্জুনের অনুগামীরাও ভিড় বাড়াবেন এবার।

মুকুল রায়ের পর যাঁরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে
মুকুল রায়ের পর আরও চার বিধায়ক বিজেপি ছেড়েছেন। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তাঁর অনুগামী বলে পরিচিত বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, বিষ্ণুপুরের তন্ময় বসু, কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায় এবং রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। তারপর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছেন মুকুল-অনুগামী সব্যসাচী দত্ত এবং অভিষেকের হাত ধরে ফিরেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এবার সেই অভিষেকের হাত ধরেই তৃণমূলে ফিরলেন আরও এক প্রাক্তনী অর্জুন সিং।

বিজেপি নেতারাও ভিড়েছেন তৃণমূলের পথে
এর মাঝে বিজেপিতে ভাঙন ধরে বাবুল সুপ্রিয়র মতো প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর দলবদলে। বাবুল সুপ্রিয় বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেন। তিনি বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক হয়েছেন। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের ফাঁকা আসনে জিতে তিনি বিধানসভায় গিয়েছেন। আর তারই পথ ধরে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন জয়প্রকাশ মজুমদারও। এছাড়া নীচুস্তরের আরও অগণিত নেতা-নেত্রী রয়েছেন যাঁদের দলবদলে রক্তক্ষরণ অব্যাহত রয়েছে বিজেপিতে।

আরও এক বিধায়ককে হারাতে চলেছে বিজেপি
এদিন অর্জুন সিংয়ের দলবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিধায়ক-পুত্র পবন সিংকে নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনিও যোগ দেবেন তৃণমূলে। এদিন অর্জুন সিং সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন সে কথা। ফলে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা আরও কমে যাবে। মুকুল রায় যেমন তাঁর পুত্র শুভ্রাংশুকে নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে, বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংও তাঁর বিধায়ক-পুত্রকে তৃণমূলে আনবেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কথায়, ২০২৩ সালের মধ্যে বিজেপি শূন্য হয়ে যাবে উত্তর ২৪ পরগনা।












Click it and Unblock the Notifications