লক্ষ্যভেদ করে নায়ক অর্জুন, স্রেফ ফুঁ দিয়ে ওড়ালেন পদ্মে ফোটা ‘মিরজাফর’ মুকুলকে
এক-একটা ইভিএম বাক্স খুলতেই জয়ের ব্যবধান বোড়ে চলল হু হু করে। লড়াইয়ের কোনও সুযোগই দিলেন না অর্জুল-সুনীল জুটি।
প্রথম সুযোগেই ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকালেন তৃণমূলের সুনীল সিং। অর্জুনের ক্যারিশ্মায় মুকুল-হাওয়া উধাও হয়ে গেল নোয়াপাড়ায়। এক-একটা ইভিএম বাক্স খুলতেই জয়ের ব্যবধান বোড়ে চলল হু হু করে। লড়াইয়ের কোনও সুযোগই দিলেন না অর্জুল-সুনীল জুটি। সেই রাম-বামের লড়াই চলল দ্বিতীয়-তৃতীয় স্থানের জন্য।

নোয়াপাড়া কেন্দ্রে এবার সুনীল সিংয়ের জয়ের ব্যবধান ৬৩,০১৮। এই কেন্দ্রের গতবার অর্থাৎ ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের মঞ্জু বসু বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মাত্র ১০৯৫ ভোটে। এবার সেই কেন্দ্র কংগ্রেসের কাছ থেকে তৃণমূল ছিনিয়ে আনল বিপুল ভোট পেয়ে। গতবারের তুলনায় ৩৩ হাজার ২৭৬টি ভোট বেশি পেয়েছেন সুনীল সিং।
বিজেপি যেখানে ভোট বাড়াতে সমর্থ হয়েছে ১৫ হাজার। সেখানে দ্বিগুনেরও বেশি বোট বাড়িয়ে অর্জুন সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসার প্রতি আস্থা রাখলেন। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন মমতার হাত মাথার উপর থেকে সরে যাওয়ার পর মুকুল রায় কোনও ফ্যাক্টর নয়। স্রেফ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে তাও প্রমাণ করে দিলেন ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মে ফোটা মুকুলকে।

এই জয়ের ফলে সাত বছর পর নোয়াপাড়া পুনর্দখল করল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০৬ ও ২০১১ ভোটে পর পর দুবার এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মঞ্জু বসু। তাঁর হ্যাটট্রিক আটকে দিয়ে ২০১৬-য় জয়ী হয়েছিলেন বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী মধুসূদন ঘোষ। এবার মঞ্জু বসুকে প্রার্থী করার টোপ দিয়েছিলেন মুকুল রায়। এমনকী তাঁকে দলে যোগদান না কিরয়েই বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণাও করে দিয়েছিলেন। ভোটের আগেই মুখ পুড়িয়েছিল বিজেপি। শেষপর্যন্ত এই কেন্দ্রে বিজেপি ধরাশায়ী হল তৃণমূলের কাছে।
এবার তৃণমূল প্রার্থী সুনীল সিং তাঁর বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পথে শুধু ভোটের ব্যবধান বাড়াননি, তৃণমূলের ভোটও বাড়িয়েছেন। ২০১১-র নিরিখে তিনি যেমন জয়ের ব্যবধান বাড়িয়েছেন প্রায় ২২ হাজার। তেমনই ২০১৬-র নিরিখে ভোট বাড়িয়েছে বিপুল।
সুনীল সিং এই জয় উৎসর্গ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর উৎসর্গ করেছেন মা-মাটি-মানুষকে। অর্জুন সিং জানিয়েছে, তৃণমূল সারা বছর সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকার সুফল পেয়েছে। সেই কারণেই ভোটের ব্যবধান বেড়েছে হু হু করে। এই অর্জুনই মুকুল রায়ের দলত্যাগের পর মিরজাফর বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন। এবার সেই মিরজাফরকে তিনি উড়িয়ে দিলেন ভোট-যুদ্ধে।












Click it and Unblock the Notifications