অর্জুনের ঘরওয়াপসি কি আসন্ন! নাটকীয় সিদ্ধান্তে সম্ভাবনার দুয়ার খোলাই রেখেছে তৃণমূল
এবার কি তবে ঘরে ফিরছেন অর্জুন সিং! ২০১৯-এ লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে তিনি তৃণমূল ছেড়েছিলেন। মুকুল রায়ের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। তারপর সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর কেটে গিয়েছে তিন বছর।
এবার কি তবে ঘরে ফিরছেন অর্জুন সিং! ২০১৯-এ লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে তিনি তৃণমূল ছেড়েছিলেন। মুকুল রায়ের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। তারপর সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর কেটে গিয়েছে তিন বছর। বিজেপি-পর্বের ইতি ঘটিয়ে অর্জুন এবার ফিরতে চলেছে ঘরে। অন্তত এমনটাই রটনা রাজনৈতিক মহলে।

অর্জুনের ঘরওয়াপসি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা!
বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন নাটকীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে অর্জুনের ঘরওয়াপসি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই তারা মনে করছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই তিনি ফিরতে পারেন তৃণমূলে। মুকুল রায়, বাবুল সুপ্রিয়র পর হেভিওয়েট অর্জুন সিংকে সাড়ম্বরে শামিল করা হতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসে।

তৃণমূলে ফিরতে পারেন অর্জুন, গুঞ্জন
প্রায় মাস খানেক ধরে অর্জুন সিং যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে চলেছেন, তাতে জল্পনার পারদ চড়ছিল। তিনি তৃণমূলে ফিরতে পারেন, এমন গুঞ্জন উঠে পড়েছিল রাজনৈতিক মহলে। শেষপর্যন্ত তা সত্যি হতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তবে যতক্ষণ না তিনি যোগ দিচ্ছেন, ততক্ষণ চূড়ান্ত বলা যায় না এসব ব্যাপারে। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে রবিবার দুপুর পর্যন্ত।

তৃণমূলে কি ছেলেকে নিয়েই প্রবেশ অর্জুনের?
আবারও এমনও রটনা শুরু হয়েছে যে, অর্জুন সিং একা নন, তিনি তাঁর বিধায়ক-পুত্র পবন সিংকে নিয়ে যোগ দিতে পারেন তৃণমূলে। ঠিক যেভাবে মুকুল রায় তাঁর পুত্র শুভ্রাংশুকে নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে, সেভাবেই ফের তৃণমূলের আকাশে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং ও তাঁর বিধায়ক-পুত্র পবন সিং।

বিজেপি ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেসে ঘরওয়াপসি
বিজেপি ভাঙনের মুখে পড়েছে একুশের নির্বাচনের পর থেকেই। একে একে অনেকেই দল ছেড়েছেন। অনেকে ফিরে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এবার সেই পথ ধরতে চলেছেন সাংসদ অর্জুন সিং। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি বিজেপির সংগঠন নিয়ে তিনি যেরূপ বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন, তাতে স্পষ্ট হয়েছে জল্পনা।

বেআব্রু হয়ে গেল বিজেপির রক্ষণ
অর্জুন সিং ধাপে ধাপে জল্পনা বাড়িয়েই চলছিলেন। তাঁকে নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। প্রথমে পাটশিল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করেছেন তিনি। তারপর টুইট করে বা কখনও বা ফেসবুক পোস্টে তিনি অনুযোগ করে আসছিলেন। শুক্রবার তিনি সরাসরি মুখ খুললেন বিজেপির সংগঠন নিয়ে। তাতেই বেআব্রু হয়ে গেল বিজেপির রক্ষণ।

বঙ্গ বিজেপির সংগঠন নিয়ে কটাক্ষ অর্জুনের
অর্জুন সিং বঙ্গ বিজেপির সংগঠন নিয়ে বলেন, বিজেপির সংগঠন এমনই যে, চেয়ার আছে পায়া নেই, কলম আছে কালি নেই। তার আগে ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, সমুদ্রের নিজস্ব শক্তি থাকলেও, মাঝি কি ক্লান্ত হয়? আবার সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন, অনেকে জীবন হাতে করে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু দল তাঁদের দেখেনি। তার ফলেই প্রতিদিন সংগঠন ভেঙে চলেছে, বিজেপির সংগঠনে রক্তক্ষরণ চলছে।

তৃণমূলে ওয়েলকাম অর্জুনকে, পোস্টার
এর মধ্যে আবার অর্জুনের তৃণমূলে ফেরার আগেই ওয়েলকাম পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে গোটা বারাকপুর। ফলে তৃণমূল দরজা খুলে বসেই আছে, তা বলাই যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছবি দিয়ে তার পোস্টার সাঁটা হয়েছে বারাকপুরের মোড়ে মোড়ে। তার সঙ্গে রয়েছে তৃণমূলের প্রতীকও। অর্জুন অবশ্য এসব উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এসব কোনও এক শ্রেণির মানুষ করছেন বদনাম করার জন্য।

রাজনীতিতে কোনও কিছুই শেষ কথা নয়
সম্প্রতি অর্জুন সিং পাটশিল্প নিয়ে সরব হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী পীযুষ গোয়েলের সঙ্গেও সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছিলেন। পাটের দামের ঊর্ধ্বসীমা নিয়ে তিনি সরব হন। তা প্রত্যাহারের আর্জি জানান। এছাড়া শ্রমিক-স্বার্থে তিনি প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি এবং বকেয়া পাওয়া নিয়েও সরব হন। তারপর থেকেই জটিল হতে শুরু করে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক। এর মধ্যে একাধিকবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। অর্জুন জল্পনা বাড়িয়ে বলেছিলেন, রাজনীতিতে কোনও কিছুই শেষ কথা নয়।












Click it and Unblock the Notifications