শুভেন্দুর একটা ইঙ্গিতেই চুরমার হয়ে যেতে পারে তৃণমূল! অধীর প্রতীক্ষায় শাসক-বিধায়করা
শুভেন্দুর একটা ইঙ্গিতেই চুরমার হয়ে যাবে তৃণমূল! অধীর প্রতীক্ষায় শাসক-বিধায়করা
২০১৯-এ সিঙ্গুর হাতছাড়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম এখনও হাতে রয়েছে তৃণমূলের। কিন্তু সম্প্রতি যেভাবে নন্দীগ্রামের মুক্তিসূর্য শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে নন্দীগ্রাম কী হবে, কেউ জানে না। বাংলায় পরিবর্তন এসেছিল যে দুই আন্দোলনের হাত ধরে, সেই দুটো ক্ষেত্রই এখন তৃণমূল হারাতে বসেছে।

অশান্তির আগুন ছড়াচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসে
তৃণমূলে অবহেলিত শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে অনেক বিধায়ক-নেতা-মন্ত্রী যে স্বপ্ন দেখছেন, তার টুকরো টুকরো আভাসর মিলতে শুরু করেছে। শুভেন্দুর সঙ্গে দূরত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গেও দূরত্ব বাড়ছে তৃণমূলের। শাসকদলে অশান্তির আগুন ছড়াচ্ছে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে।

তিন বছর ধরে বিজেপির টার্গেটে যিনি
২০১৯-এ বিজেপির কাছে ঝটকা খাওয়ার পর ২০২১-এ তৃণমূলকে আরও সঙ্ঘবদ্ধভাবে দেখা যাবে, এটাই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু আদতে তা দেখা যায়নি। বরং তৃণমূলে অশান্তি বেড়েছে। অনেক নেতা তৃণমূলে বিক্ষুব্ধের তালিকায় চলে গিয়েছে। আর সবথেকে বড় কথা এই তালিকায় এমন একজন নেতা রয়েছেন, যিনি তিন বছর ধরে বিজেপির টার্গেটে ছিলেন।

শুভেন্দুও যদি বিক্ষুব্ধের তালিকায় চলে যান...
শুভেন্দু যদি তৃণমূলের বিক্ষুব্ধের তালিকায় চলে যান তবে ২০২১-এর আগে পোয়াবারো বিজেপি বা অন্যান্য বিরোধী দলের। তৃণমূলে বিভাজন রেখা বাড়বে। মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদানের পর তৃণমূলের তাঁর অনেক অনুগামী ইতিমধ্যে দল ছেড়েছে। অনেকে এখনও অপেক্ষায় রয়েছে। তারপর শুভেন্দু যদি দলে বিদ্রোহীদের নেতা হন, আর কত বিক্ষুব্ধ লাইন দিতে পারে, তার একটা সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।

তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক মিহির গোস্বামীর বার্তা
অমিত শাহ সম্প্রতি বলে গিয়েছেন শুধু শুভেন্দু বা সৌরভকে নিয়ে কেন ভাবছেন। এই তালিকা অনেক দীর্ঘ। আর তারপরই তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক মিহির গোস্বামী আবার অমিত শাহ ডাকলে দেখা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলে না গেলেও অধিকারী পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকবে।

রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যেরও সরাসরি দলবদলের বার্তা
শুধু মিহির গোস্বামীতে সীমাবদ্ধ নেই শাসকদলের প্রতি বিদ্রোহ। মিহির গোস্বামীর পাশাপাশি হুগলির রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যও সরাসরি দলবদলের বার্তায় বিদ্রোহের আগুন জ্বেলেছেন। প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার বিরুদ্ধে অনেক সিটিং এমএলএ-র বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। এই অবস্থায় সবার বিক্ষোভ যদি একজায়গায় সম্মিলীত হয়, তাহলে তৃণমূলের পক্ষে তা ক্ষতিকারকই হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে যদি পৃথক মঞ্চ হয়!
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই বিধায়কের দল যদি তৃণমূল ছেড়ে পৃথক মঞ্চও গড়ে, তবে বুমেরাং হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ২০২১-এ নির্বাচন যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিততে হয়, তবে যত শীঘ্র সম্ভব তাঁকে নিজেকে ময়দানে নামতে হবে। দলের কোন্দল মেটাতে হবে। শুধু ভাইপো অভিষেক আর ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের ভরসায় থাকলে ভরাডুবি অবশ্যম্ভাবী।












Click it and Unblock the Notifications