মাঠে লুকিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হল না, গরু খোঁজার মতো খুঁজে আরাবুলকে গ্রেফতার করল পুলিশ
ফের গ্রেফতার আরাবুল। ভাঙড়ের ত্রাস এখন পুলিশের হেফাজতে। একটা নৃশংস হত্যাকে কেন্দ্র করে যখন উত্তপ্ত ভাঙড়ের পরিস্থিতি তখনই গ্রেফতার করা হল তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাকে।
ফের গ্রেফতার আরাবুল। ভাঙড়ের ত্রাস এখন পুলিশের হেফাজতে। একটা নৃশংস হত্যাকে কেন্দ্র করে যখন উত্তপ্ত ভাঙড়ের পরিস্থিতি তখনই গ্রেফতার করা হল তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাকে। তবে এই গ্রেফতার আরাবুলকে বাঁচাতে না ভাঙড়ের মানুষের স্বতস্ফূর্ত প্রতিবাদকে প্রশমিত করার জন্য- তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। জানা গিয়েছে, বাড়ির পিছনের মাঠে আত্মগোপন করে ছিল আরাবুল। তার সঙ্গে ছিল আরও এক সঙ্গী। পুলিশ প্রায় গরু খোঁজার মতোই আরাবুলকে খুঁজে বের করে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য আরাবুলের গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শনিবার বারুইপুর আদালতে তোলা হবে আরাবুলকে। আপাতত তিনি পুলিশ হেফাজতে। রাতে তাকে কাশীপুর থানায় রাখা হবে। তবে, আরাবুলের বাকি সঙ্গীদের খোঁজ পুলিশ পায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি মিছিল লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল আরাবুলের আশ্রয়ে থাকা দুষ্কৃতী খুদে। এদিনের ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ সে। অভিযোগ আরাবুল ও তার ছেলে হাকিমুলের নেতৃত্বে জাহির, আব্বাস, সুভাষ মনোজ, বাসু, খাতিপ, সুফিয়ানরা মিছিলকে নিশানা করে বোমা ছুঁড়েছে এবং গুলি চালিয়েছে। জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত এবং পরিবেশ রক্ষা কমিটির দাবি এরা সকলেই দুষ্কৃতী এবং এদের মধ্যে কয়েক জন বহিরাগত দুষ্কৃতী। এই দুষ্কৃতীদের সঙ্গে সঙ্গে পলাতক আরাবুলের ছেলে হাকিমুল।
আরাবুলকে গ্রেফতার করলেও আদপে কি থামবে ভাঙড়ের সন্ত্রাস? এই নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হতেই ভাঙড় উত্তপ্ত হতে শুরু করেছিল। আরাবুল বাহিনী চোরাগোপ্তা হামলায় জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির লোকেদের আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছিল। ভোটের দিন যতই কাছে এসেছে ততই বেড়েছে এই সন্ত্রাসের মাত্রা। জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির লোকেদের অপহরণ করে ভয় দেখানো থেকে শুরু করে মারধর কিছুই বাদ দেয়নি আরাবুল বাহিনী। তার বাড়ির খামারে যে জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির বহু লোককে ধরে রেখেছে সে কথা নিজের মুখেই স্বীকার করেছিল আরাবুল। জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির এক প্রার্থীকে হুমকি দিতে গিয়ে এই স্বীকারোক্তি ছিল ভাঙড়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতার।
পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে এবং তা যে কোনও দিন হাতের বাইরে চলে যেতে পারে তার খবরও পুলিশের কাছে ছিল বলে সূত্রের খবর। কিন্তু, এরপরও পুলিশের মদতেই আরাবুল বাহিনী ভাঙড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ। তাই আরাবুলের গ্রেফতারি শুধুমাত্র 'আই-ওয়াশ' না সত্যিকারেই আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে, অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে আরাবুল আগেই এমন সব অপরাধ করেছেন যে তাতে তার গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু, তা না করে আরাবুলকে কেন আরও বাড়তে দেওয়া হল? এমন প্রশ্নও উঠেছে। ভাঙড়ের এইসব মানুষের দাবি, আগে থেকে সরকার কড়া হলে হয়তো এই দিনের প্রাণহানিকে সম্ভবত রোখা যেত।












Click it and Unblock the Notifications