প্রায় ৩২ হাজার চাকরি বাতিল! রায় সংশোধন করে জানালেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়
প্রাথমিক শিক্ষকে চাকরি বাতিলের সংখ্যা কমল। রায় সংশোধন করলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। গত শুক্রবার ৩৬ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন বিচারপতি। কিন্তু আজ মঙ্গলবার সেই সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধন করে নেওয়া হয়েছে।
আর সেই মতো প্রায় চাকরি বাতিলের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার বলে জানিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
বলে রাখা প্রয়োজন, 'টাইপোগ্রাফি' ভুল নিয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মামলকারীদের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।

আজ মঙ্গলবার সেই রায় সংশোধন করে নেওয়া হয়। এদিন মামলার শুনানিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। বলেন, দুটি ভুলের কথা বলা হয়েছে। সেই মতো দুটি ভুলই সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।
শুধু তাই নয়, এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় আরও বলেন যে, ২০১৬ র নিয়োগ প্রক্রিয়া এত বেআইনিভাবে হয়েছে যে সেটা বাতিল করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। এত ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে যে কে বৈধভাবে পেয়েছে আর কে অবৈধ ভাবে পেয়েছে সেটা খুঁজে বের করা সম্ভব নয় বলেও এদিন মামলাতে পর্যবেক্ষণ করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
মামলার শুনানিতেই বিচারপতির প্রশ্ন, যে দালালরা গ্রেফতার হয়েছেন এবং যারা গ্রেফতার হবে তাদের হাতে এত কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে পেয়েছেন ? এক্ষেত্রে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা হচ্ছে, হয়তো হবেও। আমি কি করতে পারি? মন্তব্য বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

এদিন এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্যারা টিচার থেকে প্রাথমিক শিক্ষক হওয়া এবং বর্তমানে চাকরি হারাদের বড় অংশ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্যেই এদিন একের পর এক পর্যবেক্ষণ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের। পর্যবেক্ষণে বলেন, আমি কোন মন্তব্য করলে সেটা রাজনৈতিক মন্তব্য বলে মনে হতে পারে, তাই আমি কোন মন্তব্য করছি না তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলার কথা বলেন বিচারপতি গাঙ্গুলি।
বলে রাখা প্রয়োজন, এহেন নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েও ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাতারাতি দু'লাখ মানুষের চাকরি চলে গিয়েছে। অনেকেই ফোন করছেন। পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মানসিক চাপ বাড়ছে। কেউ যদি কিছু ঘটিয়ে ফেলে তখন কি হবে।

তবে এই সরকার মানবিক। ফলে সবার পাশে থাকার বার্তা দেন প্রশাসনিক প্রধান। ইতিমধ্যে নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।












Click it and Unblock the Notifications