বামেদের মানবিক উদ্যোগের পাশে অপর্ণা! সাহায্য শ্রমজীবী ক্যান্টিনকে
বামেদের মানবিক উদ্যোগের পাশে অপর্ণা! সাহায্য শ্রমজীবী ক্যান্টিনকে
২০০ দিন পূর্ণ করল যাদবপুরের শ্রমজীবী ক্যান্টিন (shramajibi canteen) । অতিমারী পরিস্থিতি শুরু হওয়ার সময় থেকেই এলাকার বামপন্থী মানুষদের সহযোগিতায় এই শ্রমজীবী ক্যান্টিন চালু করা হয়। এরপর একাধিক জায়গায় এর শাখা খোলা হয়। এদিকে রাজ্যের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ভিডিও বার্তায় শ্রমজীবী ক্যান্টিনের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন রাজ্যে পরিবর্তনের মুখ অপর্ণা সেন (aparna sen)।

শ্রমজীবী ক্যান্টিনের পাশে অপর্ণা সেন
এদিন এক ভিডিও বার্তায় শ্রমজীবী ক্যান্টিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী, পরিচালক অপর্ণা সেন। এদিন এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শ্রমজীবী ক্যান্টিনের বিষয়টি তিনি দেবজ্যোতি মিশ্রের কাছ থেকেই প্রথম শোনেন। তিনি বলেন, প্রথমেই বিষয়টি তাঁর ভাল লেগেছিল। প্রথমেই এই উদ্যোগের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন অপর্ণা, ২০০ দিন পূর্ণ করার জন্য। তিনি বলেন, এই কজা কোনওভাবেই সহজ নয়। বয়সজনিত কারণে তিনি সোমবার ২০০ দিনের পূর্তিতে যেতে পারেননি। এই ক্যান্টিনের জন্য তাঁর মতো করে অর্থ সাহায্য করার কথা জানিয়েছেন তিনি। অনেক শুভেচ্ছা, অনেক অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

বাম ছাত্র যুবদের পদযাত্রা
অতিমারী পরিস্থিতির শুরুতে যে উদ্যোগ বাম ছাত্র যুবরা নিয়েছিলেন, তা এখনও চলছে যাদবপুরে। দেখতে দেখতে তা ২০০ দিন অতিক্রান্ত। শ্রমজীবী ক্যান্টিনের ২০০ দিনের পূর্তিতে যাদবপুরের এইটবি স্ট্যান্ড থেকে পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল কেউ খাবে, কেউ খাবে না, তা হবে না তা হবে না। এদিনের পদযাত্রায় ছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকাণ্ড মিশ্র, সুজন চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিমের মতো নেতারা। ছিলেন অভিনেতা বাদশা মৈত্র, পরিচালক অনিক দত্তও।

শ্রমজীবী ক্যান্টিনের বৈশিষ্ট্য
এই শ্রমজীবী ক্যান্টিন থেকে প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে ২০ টাকা লাঞ্চের প্যাকেট দেওয়া হয়। মেনুতে থাকে ভাত, দুরকমের তরকারিষ কোনও কোনও দিন ডিমও থাকে। কোনও সংগঠন কিংবা কোনও ব্যক্তি অর্থ সাহায্য করলে কোনও কোনও দিন মাছ কিংবা মাংসও মেনুতে থাকে। যাদের অবস্থ খুব খারাপ তাদের বিনামূল্যে খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়। সেই সংখ্যাটা ৭৫ থেকে ১০০-র মধ্যে ঘোরাফেরা করে। যাদবপুরের ছাত্র ও যুবদের মধ্যে প্রায় ৭৫ জন কর্মী এখানে যুক্ত রয়েছেন।

রাজ্যে পরিবর্তনের মুখ ছিলেন অপর্ণা
২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের অন্যতম মুখ ছিলেন অপর্ণা সেন। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম ইস্যুতে তৃণমূলের আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁকে জঙ্গলমহলেও যেতে দেখা গিয়েছিল। মুসলিম, দলিত ও অন্য সংখ্যালঘুদের গণপিটুনির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন, যেসব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা, তাঁদের মধ্যেও ছিলেন অপর্ণা সেন। চিকিৎসকদের আন্দোলনে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অপর্ণা সেন। তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অপর্ণা সেন বলেছিলেন তিনি উগ্র মানবতাবাদী। ইস্যুভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। তিনি বলেছিলেন, কোন ও রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে সমর্থন তিনি করেন না।












Click it and Unblock the Notifications