Anubrata Mondal: অনুব্রত বাড়িতে ঢুকতে দিলেন না মন্ত্রী চন্দ্রনাথ ও বিধায়ক বিকাশকে, 'বাঘ'-এর চোখে দেখা গেল জল
Anubrata Mondal: গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত অনুব্রত মণ্ডল জামিন পাওয়ার পর আজ সকালে পৌঁছেছেন বোলপুরের নীচুপট্টির বাড়িকে। তৃণমূলের বীরভূমের জেলা সভাপতিকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন অনুগামীরা।
এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেল, যখন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা ও বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীকে অনুব্রত তাঁর বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দিলেন না। অনুব্রত ও তাঁর কন্যা সুকন্যার চোখে দেখা গেল জলও।

আজ বোলপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করবেন। অনুব্রতর সঙ্গে দেখা করে দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দলনেত্রী আলোচনা করতে পারেন বলেও জল্পনা রয়েছে। বাড়িতে ঢোকার সময় অনুব্রত এদিন জানান, তিনি 'দিদি'র সঙ্গেই আছেন। পায়ে ব্যথা রয়েছে। শরীর ভালো থাকলে তিনি দেখা করবেন 'দিদি'র সঙ্গে।
গ্রেফতারির আগে থেকেই অনুব্রত ও কাজল শেখের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে সরগরম ছিল বীরভূম। এমনকী তার প্রভাব পড়ে পূর্ব বর্ধমানের কয়েকটি বিধানসভা এলাকাতেও, যেগুলির দায়িত্বে ছিলেন অনুব্রত। অনুব্রতর গ্রেফতারির পর জেলার রাজনীতিতে কাজল শেখের দাপট বাড়তে থাকে জেলার রাজনীতিতে। পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সাফল্যও পায় তৃণমূল।
কাজল এখন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি। অনুব্রত তিহাড় জেলে থাকলেও তিনিই দলের সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তনে ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দেবে কিনা তা নিয়ে চর্চা রয়েছে। সেই আবহেই দলের সাংগঠনিক বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতে পারেন মমতা।
মমতা বরাবরই অনুব্রতর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। জেলবন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়েছে, কেড়ে নেওয়া হয়েছে দলের সাংগঠনিক পদ। অবশ্য তাঁরা বিধায়ক রয়েছেন। অনুব্রত জেলে থাকলেও দলের সভাপতিই রয়েছেন। মমতা তাঁর খোঁজ নিতে তিহাড় জেলে পাঠিয়েছিলেন দোলা সেনদেরও।
তবে বীরভূমে তৃণমূলের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ল যখন অনুব্রত বাড়ির দরজা থেকে ফিরতে হলো রাজ্যের মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা ও সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীকে। তৃণমূল সূত্রে খবর, অনুব্রতর বিপদের সময় এই দুজনই দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন।
অনুব্রত বাড়ি ফেরার পর তাঁরা দেখা করতে গিয়েছিলেন দলের জেলা সভাপতির সঙ্গে। যদিও কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের মাধ্যমে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়, বাড়িতে প্রবেশাধিকার নেই। স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ে সেখান থেকে ফিরে যান চন্দ্রনাথ ও বিকাশ।
অনুব্রতর সঙ্গে অবশ্য বোলপুরের কোর কমিটির সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছিলেন। সেখানে ছিলেন অনুব্রত-কন্যা সুকন্যা। ছিলেন আরও কয়েকজন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে হঠাৎ অনব্রত ও সুকন্যাকে কাঁদতেও দেখা যায়। তবে মন্ত্রী ও বিধায়ককে অনুব্রতর বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জেলা রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, মমতা বুঝিয়ে সব পক্ষকে এককাট্টা অবস্থায় আনতে পারেন কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications