সিঁদুরে মেঘ দেখে তৃণমূলে আতঙ্ক! ঠেকে শিখে ‘বিরোধী’ কাজলকে বুকে টানলেন কেষ্ট
বীরভূমে দুটি আসনেই তৃণমূল জিতেছে ঠিকই, কিন্তু বিজেপি দিয়েছে তুমুল লড়াই। বিজেপির এই বাড়বাড়ন্তকে রুখতে বিরোধী গোষ্ঠীর নেতারা হাত মেলালেন।
বিজেপি বাড়ছে বাংলায়। এমনকী অনুব্রতর বীরভূমেও বিজেপির বাড়বাড়ন্তে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে তৃণমূল। বীরভূমে দুটি আসনেই তৃণমূল জিতেছে ঠিকই, কিন্তু বিজেপি দিয়েছে তুমুল লড়াই। বিজেপির এই বাড়বাড়ন্তকে রুখতে বিরোধী গোষ্ঠীর নেতারা হাত মেলালেন। বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে ধরা পড়ল সেই ছবি।

অনুব্রত-কাজল হাতে হাত
বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও তৃণমূল নেতা কাজল শেখের দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক মহলে সর্বজনবিদিত। কিন্তু বিজেপির বাড়বাড়ন্ত দুই নেতাকে এক জায়গায় এনে দিয়েছে। অনুব্রত মণ্ডল বিরোধ ভুলে ডেকে পাঠিয়েছেন কাজন শেখকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের নির্দেশ মেনে অনুব্রত নিজের ঘরে ডেকে কাজলের সঙ্গে ‘সেটিং' করে নিয়েছেন।

কাজল শেখের গুরুত্ব বৃদ্ধি
এতদিন কাজল শেখের মতো নেতাকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে দেওয়ার পর ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সক্রিয় করে তুলতে উদ্যোগী হলেন অনুব্রত মণ্ডল স্বয়ং। তিনি কাজল শেখকে ডেকে এনে নানুর ব্লকের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দিলেন। কাজল শেখ এলাকায় তৃণমূলের দক্ষ সংগঠন বলে পরিচিত। এই অবস্থায় তৃণমূলের ঐক্য ফের জোরদার হল।

অন্য বিক্ষুব্ধদেরও আহ্বান
শুধু কাজল শেখই নন, মিহির গোস্বামীদের মতো বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আহ্বান জানানো হয়েছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে নৈতিক হার হয়েছে তৃণমূলের। ২০১৯-র লোকসভায় ধাক্কা খাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ২০২১-এর লড়াইয়ের আগে ঠেকে শিখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিমান ভুলে দলের কাজে
তৃণমূল অভিমানী নেতাদের কাছে আর্জি জানিয়েছে। মূলস্রোতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন পুরনো বা বিক্ষুব্ধ নেতাদের। দ্বন্দ্ব ভুলে অভিমান ভুলে দলের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফিরহাদ নিজে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করেছেন। দলের প্রতিটি স্তরের অভিমান করে দূরে সরে থাকা নেতা-নেত্রীদের আহ্বান জানিয়েছেন মূলস্রোতে ফেরার।

শোভন-কাজল-মিহিরদের বার্তা
কলকাতার বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিম যেমন প্রাক্তন মেয়র শোভনকে ফোন করেছেন, তেমনই অনুব্রত মণ্ডলও নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছেন বিরুদ্ধে গোষ্ঠীন নেতা কাজল শেখকে। আহ্বনা জানানো হয়েছে কোচবিহারের বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার। তৃণমূল যে ঠেকে শিখছে, তা দলের এই ভূমিকা থেকেই স্পষ্ট।












Click it and Unblock the Notifications