আনিসের বাবাকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের, কী এমন ঘটল রিপোর্ট পেশের দিন
আনিসের বাবাকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের, কী এমন ঘটল রিপোর্ট পেশের দিন
হাওড়ার আমতার ছাত্র নেতা আনিস খান মৃত্যু-রহস্যের তদন্তে সিবিআইকে চেয়েছিলেন আনিসের বাবা সালেম খান। তাঁর প্রবল আপত্তি ছিল রাজ্য পুলিশ বা সিটের তদন্তে। তারপর হাইকোর্টে নির্দেশে সিটের তদন্ত জারি থাকে। সেই তদন্ত রিপোর্ট পেশের দিনেই ঘটল বিপত্তি। হাইকোর্টের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করে বসলেন আনিসের বাবা। তার জেরেই আনিসের বাবা সালেম খানকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। সোমবার আনিস-কাণ্ডে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার কথা ছিল সিটের। কিন্তু বিচারপতি রাজশেখর মান্থারা উপস্থিত না থাকায় শুনানি হয়নি। ফলে রিপোর্ট পেশ করাও যায়নি। সেই রিপোর্ট পেশ না হওয়ায় এবং বিচারপতি অনুপস্থিত থাকায় বিচারপ্রার্থী আনিসের বাবা গর্জে ওঠেন হাইকোর্টের বিরুদ্ধে। বিচারপতির বিরুদ্ধে মোক্ষম অভিযোগ আনেন।
একদিন পর অর্থাৎ মঙ্গলবার যথারীতি আদালতে উপস্থিত হল বিচারপতি রাজশেৎ মান্থারা। এদিনই সিট মুখবন্ধ খামে ৮২ পাতার রিপোর্ট পেশ করে কলকাতা হাইকোর্টে। তার আগে ঘটে যায় একপ্রস্থ নাটক। সোমবার এজলাসে বিচারপতি রাজশেখর মান্থারের অনুপস্থিতি নিয়ে আনিস খানের বাবা সালেম খান বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তার জেরে বিচারপতি মামলা থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার বিচারপতি এজলাসে বসেই নজর ঘোরান সোমবারের ঘটনায়। আনিসের বাবা সালেম খানের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি চান। পরে আইনজীবীদের অনুরোধে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। কিন্তু তিনি নির্দেশ দেন, আনিস খান হত্যা মামলায় তাঁর বাবাকে হলফনামা দিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। পরবর্তী শুনানির মধ্যে তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থার।
সোমবার এজলাসে গরহাজির ছিলেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থার। তা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন আমতার প্রয়াত ছাত্রনেতা আনিস খানের বাবা সালেম খান। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর চাপে এজলাসে বসেননি বিচারপতি রাজশেখর মান্থার। তারপরই এদিন তা বিচারপতির নজরে আসে। এরপর এদিন এজলাসে বসেই তিনি হলফনামা দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেন দেন সালেম খানকে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার আনিস-কাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হয় মুখবন্ধ খামে। সিট জানায়, মোট ৮২ পাতার রিপোর্ট পেশ করা হল আদালতে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় ফরেনসিক দলের রিপোর্ট এবং পেন ড্রাইভের মাধ্যমে রিপোর্ট জমা দেন। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী সোমবার অর্থাৎ ২৫ এপ্রিল।












Click it and Unblock the Notifications