গোডাউন যেন শ্মশানভূমি! আগুন নিভলেও কাটেনি আতঙ্ক, এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ, পোড়া দেহাংশের খোঁজে ছুটছেন পরিজনেরা
প্রায় দেড় দিন পেরিয়ে গেছে। এখনও পুরোপুরি নেভেনি আগুন। রবিবার রাত ১টার কিছুক্ষন পরে আনন্দপুরের একটি মোমো কারখানার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আজ বিকেলেও কোথাও কোথাও আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যেই তিনটি পোড়া কঙ্কালসহ মোট আটটি ঝলসানো দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে।

গোডাউনের বাইরে এখন শুধুই কান্না আর উৎকণ্ঠার আওয়াজ। নিখোঁজ আত্মীয়দের খোঁজে ভিড় করছেন পরিবার-পরিজনেরা। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এখনও ভিতরে একাধিক মানুষ আটকে থাকতে পারেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলেছে নিখোঁজের তালিকাও।
ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে এখনও কালো ধোঁয়া উঠছে। ছাইয়ের স্তূপ পেরিয়ে চলছে উদ্ধারকার্য। গোডাউনের চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে যে, ভিতরে ঢুকে খোঁজ চালাতে গিয়ে উদ্ধারকারীরা কিছু কিছু হাড়ের টুকরো পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছেন। গোডাউনটি যেন এখন এক শ্মশানভূমিতে পরিণত হয়েছে।
অনুমান করা হচ্ছে যে, রবিবার রাতে আগুন লাগার সময় গোডাউনের ভিতরে প্রায় ৩০ জন ছিলেন। কয়েকজন কোনওরকমে বেরোতে পারলেও বাকিরা আটকে পড়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি যে, সামনের দরজা দিয়ে বেরোতে গেলে লোহার বিম ভেঙে পড়ার কারণে পথ বন্ধ হয়ে যায়। পিছনের দিকে যেতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডারের বাধার মুখে পড়েন শ্রমিকরা।
এরপর কয়েকজন একটি ঘরে আশ্রয় নেন এবং শেষবারের মতো সবাই পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কিন্তু আগুন ধীরে ধীরে সেই ঘরটিতেও ছড়িয়ে পড়ে। তারপর আর তাঁদের বেরোনোর কোনও সুযোগ হয়নি। তবে, ঠিক কতজন ভিতরে ছিলেন তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
গোটা শহর জুড়ে এখন শোক আর আতঙ্কের আবহ। উদ্ধারকার্য চলছে, আর বাইরে অপেক্ষায় বসে রয়েছে অসহায় পরিবারগুলি।












Click it and Unblock the Notifications