অবিভক্ত দিনাজপুরের প্রাচীন ঐতিহ্য! শতবর্ষ পেরনো বিনশিরার রথযাত্রাকে ঘিরে ব্যাপক উদ্দীপনা
উত্তরবঙ্গের সুপ্রাচীন জগন্নাথ দেবের মন্দির অধিষ্ঠিত দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকের বিনশিরা গ্রামে। অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার বিশাল প্রাচীন সমৃদ্ধশালী গ্রাম ছিল এই বিনশিরা। হিলি-বালুরঘাটগামী ৫১২নং জাতীয় সড়ক ধরে তিওড় প্রাচী মোড় থেকে দক্ষিণমুখী দক্ষিণ দিনাজপুরের সব থেকে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাটি হয়ে আসছে।
শতাব্দী প্রাচীন এই রথযাত্রার সূচনা করেন স্বর্গীয় সর্বেশ্বর লাহা। লাহা ও বৈষ্ণব সম্প্রদায় অধ্যুষিত প্রাচীন সমৃদ্ধশালী একটি জনপদের নাম বিনশিরা। দিনাজপুরের রাজা জগদীশনাথ রায়বাহাদুরের অধীনে এই বিনশিরা গ্রামের প্রভাব প্রতিপত্তিশালী মাননীয় সর্বেশ্বর লাহা ছিলেন খাজনাদার (পাটালি)। তার ৩৩০০ বিঘা জমি ছিল। তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন বিনশিরার রথ।

লোকমুখে শোনা যায়, ১৯২১ সাল নাগাদে রথযাত্রার দিন জনৈক এক বাউল-বৈষ্ণব সাধক সর্বেশ্বর লাহার বাড়িতে তার আতিথিয়েতা গ্রহণ করেন। সেই সাধকের অলৌকিক প্রভাবে সর্বেশ্বর লাহা মোহিত হয়ে পরেন এবং দীর্ঘ কয়েকমাস তিনি অভিভূত হয়ে থাকেন। এরপর তিনি বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করেন এবং আপন ভদ্রাসনে শ্রীশ্রীজগন্নাথ দেবের মন্দির ও নাটমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন।
জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা এই ত্রিবিগ্রহ সমন্বিত মন্দিরে নিত্য পূজা-অর্চনা এবং সেবার ব্যবস্থা করেন। পরের বছর ১৯২২ সাল থেকে তিনি জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব এবং মেলার গোড়াপত্তন করেন। মন্দিরের পূজার্চনা এবং আনুষঙ্গিক খরচ বহনের জন্য তিনি প্রায় ১৩০০ বিঘা ভুসম্পত্তি ভগবান জগন্নাথ দেবের নামে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে দান করেন। এই জমির আয় থেকেই ত্রিবিগ্রহের নিত্যপূজা, সেবা, অতিথি আপ্যায়ন, মন্দির সংস্কার ও সারা বছর ধরে নানান উৎসবের ব্যয়ভার বহন করা হতো।
পরবর্তীতে সর্বেশ্বর লাহার মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র নিতাই চন্দ্র দাস লাহা এবং শুধাংশু লাহা এই দেবোত্তর সম্পত্তির অছি ও সেবাইত হিসেবে নিযুক্ত হন । এ বছরও মহাসমারোহে এই দিনটি উদযাপিত হচ্ছে যাকে ঘিরে স্থানীয় ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তদের উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষণীয়।












Click it and Unblock the Notifications