বাংলার ‘জনমত’ এখনও বিজেপির বিপক্ষে! মুকুল রায়ের হিসেবের দিকে চেয়ে মোদী-শাহরা
বাংলার ‘জনমত’ এখনও বিজেপির বিপক্ষে! মুকুলের মাস্টারস্ট্রোকের অপেক্ষায় শাহ
বাংলার জনমত এখনও বিজেপির বিপক্ষেই রয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রিপোর্ট দেখে তাই বেশ চিন্তায় রয়েছেন অমিত শাহ। বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি দলীয় কিছু সমীক্ষাতেও বাংলা নিয়ে দুঃসংবাদ উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ ভিন্ন রাস্তা নিলেন। তিনি মুকুল রায়কে ভরসা করলেন সঠিক পরিস্থিতি জানতে।

বাংলার ভোটে মুকুলের রিপোর্টে ভরসা বিজেপির
সম্প্রতি প্রথম সারির এক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সমীক্ষা রিপোর্ট বিজেপির পক্ষে হতাশাজনক ছিল। তা অমিত শাহের কানেও পৌঁছতেই বাংলার ভোট তিনি তাঁর নিজস্ব টিমগুলির কাছে জানতে চান পরিস্থিতি। সেই রিপোর্টও বিজেপির পক্ষে আশাব্যাঞ্জক নয়। তখনই তিনি মুকুল রায়ের কাছে রিপোর্ট চাইলেন।

ভোট কৌশলীদের সমীক্ষায় হতাশা বিজেপির
একুশের ভোট আর বেশি দূরে নেই। সাকুল্যে ১০ মাস, তারপরেই বাংলায় শুরু হবহে মহাযুদ্ধ। কোন দল জিতবে, কোন দল কতগুলি আসন পাবে, তা নিয়ে চর্চা চলছে অবিরত। রাজনৈতিক দলগুলি্ও নিজস্ব যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত ভোট কৌশলীদের দিয়ে সমীক্ষা করাচ্ছে। সেখানেই বাংলার একটা ছবি উঠে এসেছে ২০২১ নির্বাচনের আগে।

মুকুল কী রিপোর্ট দেন, দেখতে চান অমিত শাহ
অমিত শাহের টিম যে রিপোর্ট দিয়েছে, তা দেখে চিন্তিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে মুকুল রায়কে একটা রিপোর্ট তৈরি করতে বললেন অমিত শাহ। গত দুই নির্বাচনে মুকুল তাঁর টিমের সাহায্য নিয়ে যে রিপোর্ট তৈরি করে দিয়েছিলেন, তা ছিল অব্যর্থ। বিগত দুটি নির্বাচনেই নিজের হিসেব ভজিয়ে দিয়েছেন মুকুল। তাই তাঁর কাছে রিপোর্ট চাইলেন শাহ।

বাংলা যখন পাখির চোখ, মুকুলে আস্থা বিজেপির
২০১৯-এ মুকুল বলেছিলেন তৃণমূল বড়জোর ২০টি আসন পাবে। দেখা গিয়েছে তৃণমূল ২২টি আসন পেয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনেও যেখানে যেখানে ভালো ফল হবে বলে জানিয়েছিলেন, সেখানে বিজেপি ভালো ফল করেছে। মুকুল কৌটিল্য-শাস্ত্রে যে বেশ পারদর্শী তার প্রমাণ আগেই মিলেছে, তাই এবার মুকুল রায়ের কাছেই অমিত শাহ রিপোর্ট চাইলেন।

জনমতে ধাক্কা, যাচাই করতেই মুকুলের খোঁজ
২০১৯-এ যুদ্ধ জয়ের পর নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ- উভয়েই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলা দখলই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে তাঁরা জাল বিছোচ্ছেন গত এক বছর ধরে। বাংলার উপর কেন্দ্রীয় টিমের নজর রয়েছে সর্বদা। তারপর অমিত শাহের নিজস্ব টিমও কাজ করছে বাংলায়। তাদের রিপোর্টে বেহাল অবস্তা জানার পর তা কতদূর সত্য যাচাই করতেই মুকুলের খোঁজ পড়েছে।

জনমত সমীক্ষায় পিছিয়ে বিজেপি
এবিপি-সিএনএক্সের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে বাংলার দখল তৃণমূলের হাতেই থাকবে। তবে তৃণমূলের প্রভাব-প্রতিপত্তি আগের থেকে অনেক কম হবে। এই সমীক্ষা অনুযায়ী তৃণমূল সর্বোচ্চ ১৬৫টি আসন পেতে পারে। আর বিজেপি পেতে পারে সর্বোচ্চ ১০৫টি আসন। যেখানে ম্যাজিক ফিগার হল ১৪৮, সেখানে ১০৫ অনেকটাই কম।

ভোট কৌশলীদের রিপোর্টে নিরাশা শাহের
অমিত শাহের নিজস্ব টিম যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেখানেও তেমন হেরফের নেই। বরং বিজেপির অন্দরের রিপোর্ট আরও খারাপ বেসরকারি সংস্থার জনমত সমীক্ষার থেকে। তৃণমূল আরও বেশি আসন পেতে পারে বেসরকারি ওই সংস্থার সমীক্ষার থেকে। বিজেপি ১০০ টপকাবে না বলেই ধারণা অমিত শাহের টিমের।

২০১৯ এর সঙ্গে ২০২১-এর তুলনায়
চিন্তায় পড়েছেন অমিত শাহ। কেন গেরুয়া শিবির থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন, তা জানতে চাইছেন তিনি। বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্টে লোকসভার তুলনায় বিজেপির ভোট শতাংশও কমে যাচ্ছে প্রায় ৮ শতাংশ। তৃণমূলেরও কমে যাচ্ছে ভোট শতাংশ, তবে তিন শতাংশের ব্যবধান বেড়ে হচ্ছে ৬ শতাংশ। এটা যথেষ্ট চিন্তার।












Click it and Unblock the Notifications