Ami Banglar Digital Joddha: বিধানসভা ভোটের আগে বড় চমক, বাংলা-বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঝড় তুলতে অভিষেকের নয়া উদ্যোগ
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের আইটি সেলের পাশাপাশি ডিজিটাল দুনিয়ায় ঝড় তুলে বিজেপির আইটি সেলের মোকাবিলায় এবার সাধারণ নাগরিকদের আহ্বান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঘোষণা করলেন নতুন উদ্যোগ- আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা-র।
অভিষেকের কথায়, বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য নিয়ে যাঁরা গর্ব করেন তাঁরা হাতে তুলে নিন মোবাইল। সত্য, তথ্য, যুক্তি আর বাংলার গৌরবের মিশেলে বাংলা-বিরোধী, দিল্লির জমিদারদের জবাব দিতে।

অভিষেক বলেন, বন্দুক বা তলোয়ার দিয়ে নয়, মোবাইল, সমাজমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সত্যের বার্তা দিয়ে লড়তে হবে। যারা বাংলার আত্মসম্মান নষ্ট করে বা আত্মসম্মানে আঘাত করে, মিথ্যা ও ঘৃণার রাজনীতি ছড়ায়, সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করে তাদের তথ্য, পরিসংখ্যান, যুক্তি দিয়ে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গৌরবের কথা তুলে ধরে জবাব দিতে হবে। বাংলা-বিরোধী দিল্লির জমিদাররা দেশ তথা বিশ্ব দরবারে বাংলাকে ভুলভাবে উপস্থাপিত করছে। বাংলার বিরোধীরা বাংলার গৌরব নষ্টের প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত।
তৃণমূলের এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, "আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলা আজ বহিরাগত বাংলা-বিরোধী জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত ও কালিমালিপ্ত-যারা মিথ্যা ও অপপ্রচারকে হাতিয়ার করে বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, বিশেষ করে এই মুহূর্তে যখন এই লড়াই ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এখন আমাদের দায়িত্ব হল বাংলার অধিকার, মর্যাদা ও সত্য রক্ষার জন্য দৃঢ়তার সঙ্গে সামনে এগিয়ে আসা। তাই আমি শুরু করছি 'আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা'-একটি জনশক্তিনির্ভর, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ডিজিটাল আন্দোলন। যার লক্ষ্য বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য-পরিচয়কে রক্ষা করা, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা এবং বাংলার গর্ব ও অগ্রগতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া - ভারতের প্রতিটি প্রান্তে এবং সমগ্র বিশ্বে।
যে সকল তরুণ-তরুণী বাংলাকে অপমানিত হতে দিতে চায় না, তাঁদের উদ্দেশে আমার আহ্বান - এটাই আপনাদের সময়। ডিজিটাল যোদ্ধা হিসেবে যোগ দিয়ে বাংলার ভবিষ্যতকে আরও শক্তিশালী করুন। লিঙ্কে গিয়ে রেজিস্টার করুন এবং দেখিয়ে দিন বিশ্বকে-যখন বাংলার মানুষ একত্রে গর্জন করে, তখন কী অসাধ্য সাধন করা যায়।"
অভিষেক বলেন, আমার এই ভিডিও তরুণ ক্রিয়েটরদের জন্য যাঁরা আত্মসম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে গর্বের বাংলার মাটির জন্য লড়াই করছেন। আমাদের বাংলার পুণ্যভূমি স্বাধীনতার আগে থেকেই নির্ভীকতা, সাহস, বীরত্ব, আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের কথা নিজেই বলে এসেছে। ব্রিটিশ শাসন থেকে যখন গোটা দেশ মুক্তির পথ অনুসন্ধান করছিল, তখন বাংলার সংগ্রামী মাটির সন্তান- সন্ততিরা ভারতকে জাগরণের দিশা দেখান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মহামানবের জন্ম দিয়েছে এই মাটি। তাঁরা জাতিকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন, প্রতিবাদের ভাষা ও সহমর্মিতা বোধ শেখান। বাংলাকে বিশ্ব দরকারে পৌঁছন। অনেকের আত্মবলিদানের কথাও স্মরণ করেন অভিষেক।
এরপরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, লড়াইয়ের ময়দান বদলেছে। রাজপথে, সংসদের কক্ষে, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টেই এখন সব সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি মুহূর্তে লড়াই চলছে। মোবাইল স্ক্রিনে, সমাজমাধ্যমে, ডিজিটাল দুনিয়ায়। বাংলা বিরোধীরা, দিল্লির জমিদাররা, বাংলার ভাষা বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতি মুহূর্তে মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে, কুৎসা রটাচ্ছে, বাংলার নামে অপপ্রচার করছে। ইচ্ছাকৃতভাবে পুণ্যভূমি বাংলার সম্মান নষ্টের প্রচেষ্টা চলছে দিনের পর দিন। বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, এরা বাংলায় বসবাস করে না, ভাষা জানে না, কথা বলতে জানে না, পড়তে পারে না, বাংলার হৃদস্পন্দন বোঝে না। তাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। সে কারণেই আমি বিশেষ উদ্যোগ চালু করছি- আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা। এই বাহিনী নতুন সৃষ্টিতে বিশ্বাসী, স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। মাতৃভূমির কৃষ্টি, সংস্কৃতি রক্ষার্থে সদা জাগ্রত, সদা প্রস্তুত। যে যুবসমাজ বাংলার মর্যাদায় বিশ্বাস রাখেন তাঁরা এতে যোগ দিন, তিলতিল করে গড়ে তুলুন। ভাবনাকে বিশ্ব দরবারে প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দিন। আপনারা অনেক বেশি তীক্ষ্ণ, টেকনোলজির মাধ্যমে দ্রুত সংযুক্ত, আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাংলার অপমান নিজের অপমান মনে করে সত্যকে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে অভিষেক বলেন, ফোনই একমাত্র অস্ত্র। যুক্তি হলো ঢাল। আর ভালোবাসা হলো বাংলার শক্তি।












Click it and Unblock the Notifications