পাকিস্তান-যোগে সিধুর মুখ্যমন্ত্রিত্বের সম্ভাবনায় কাঁটা বিছোলেন ক্যাপ্টেন অমরিন্দর
সম্প্রতি পঞ্জাব কংগ্রেসে গোষ্ঠীকোন্দল চরম আকার নিয়েছে। যে পঞ্জাবে বিগত পাঁচ বছর ধরে কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, সেই পঞ্জাবে এবার কংগ্রেস ভরাডুবির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি পঞ্জাব কংগ্রেসে গোষ্ঠীকোন্দল চরম আকার নিয়েছে। যে পঞ্জাবে বিগত পাঁচ বছর ধরে কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, সেই পঞ্জাবে এবার কংগ্রেস ভরাডুবির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন পঞ্জাব কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান মুখ ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। তিনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে তোপ দেগেছেন পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধুর বিরুদ্ধে। সিধুর সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

একটা সময়ে বিজেপিতে ছিলেন নভজ্যোৎ সিং সিধু। ২০১৭ সালের আগে অমরিন্দর সিংয়ের হাত ধরেই তাঁর কংগ্রেসে আসা। অমরিন্দর সিংয়ের মন্ত্রিসভাতেও ছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সিধুকে সরে যেতে হয় মন্ত্রিত্ব থেকে। ধিকিধিকি বিদ্রোহের আগুন জ্বলতে শুরু করে পঞ্জাব প্রদেশে। বিদ্রোহ সামাল দিতে নভজ্যোৎ সিং সিধুকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়।
কিন্তু তাতেও জোড়ো লাগেনি কংগ্রেসের ভাঙা সংসার। শেষ অমরিন্দর সিংয়ের পদত্যাগ পর্যন্ত গড়িয়ে যায় বিষয়টি। এদিন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই তিনি টার্গেট করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভপাতি নভজ্যোৎ সিং সিধুকে। অমিরন্দর সিং বলেন, নভজ্যোৎ সিং সিধু একজন অযোগ্য ব্যক্তি। তিনি কংগ্রেসের বিপর্যয় কারণ হতে চলেছেন। আমি পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর জন্য তার নামের বিরোধিতা করব।
এখানেই শেষ নয়। অমরিন্দর সিং সিধুর বিরুদ্ধে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে, তা জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী হবে। উল্লেখ্য, নভজ্যোৎ সিং সিধুর ইমরান খান সখ্যতা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তখন মন্ত্রিসভার সদস্য নভজ্যোৎ সিং সিধুর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অমরিন্দর সিং। এখন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রিত্ব খুইয়ে তিনি টার্গেট করলেন সেই সিধুকেই। পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগকেই হাতিয়ার করলেন।
অমরিন্দর সিং বলেন, মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারালেও দেশ, রাজ্য ও দলের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই মনে করি, নভজ্যোৎ সিং সিধুকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করলে দেশের সুরক্ষা বিঘ্নিত হতে পারে। কারণ সিধুর সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ রয়েছে। সেই সত্যিটাকে মাথায় রাখতে হবে। তা না হলে দেশ, রাজ্য এবং দল বিপদে। তিনি এই কথা বলে একসঙ্গে দলকেও সাবধান করেছেন। আর একইসঙ্গে সিধুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পিছনে কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছেন ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং।












Click it and Unblock the Notifications