রাত অবধি ৪০ কোটি, বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে আরও কত? পাহাড় প্রমান টাকা নিতে ট্রাক
শুক্রবার যদি নাটকের প্রথম পর্ব দেখে থাকে, তাহলে বুধবার দ্বিতীয় পর্ব দেখল বাংলার মানুষ। ক্লাইম্যাক্স হয়ত এখনও অনেক বাকি! প্রথমটা না দ্বিতীয়টা, কোনটা বেশি থ্রিলিং, তা নিয়েই চলছে জোর আলোচনা। রাত যত বাড়ছে, ততই উত্তেজনা বাড়
শুক্রবার যদি নাটকের প্রথম পর্ব দেখে থাকে, তাহলে বুধবার দ্বিতীয় পর্ব দেখল বাংলার মানুষ। ক্লাইম্যাক্স হয়ত এখনও অনেক বাকি! প্রথমটা না দ্বিতীয়টা, কোনটা বেশি থ্রিলিং, তা নিয়েই চলছে জোর আলোচনা। রাত যত বাড়ছে, ততই উত্তেজনা বাড়ছে বেলঘরিয়ার ক্লাব টাউন অ্য়াপার্টমেন্টে।

পাশের ফ্ল্যাটে রাশি রাশি নোটের বান্ডিল দেখতে ছুটছেন প্রতিবেশীরা। ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে টাকা নিয়ে যাওয়ার ট্রাক।
বুধবার সকাল সকাল জোকা ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্য়ায়কে। তার কিছুক্ষণ পরই সিজিও কমপ্লেক্স থেকে একাধি টিম ছড়িয়ে পড়ে শহর ও শহর সংলগ্ন একাধিক জায়গায়। না ইতস্তত নয়, তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কিছু নির্দিষ্ট জায়গাতেই গিয়েছিল তারা। তবে দিনের শেষে যে এরকম একটা ছবি ফের দেখা যাবে, সেটা বাংলার মানুষ অনুমান করেননি।
বেলঘরিয়ার ক্লাব টাউনে দুটি ফ্ল্যাট অর্পিতার। দুটিতেই চলছিল তল্লাশি। প্রথম থেকেই কোনও অস্বাভাবিক গন্ধ এসেছিল তদন্তকারীদের নাকে। প্রস্তুতিও ছিল টানটান। তারপর বেলা বাড়তেই সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে পড়ল আরও একটি টিম। ওই আবাসনে হাজির হল আরও একদল আধিকারিক। কেন্দ্রীয় বাহিনী মুড়ে ফেলল গোটা আবাসন। ভিতরে কী চলছে কিছুই জানা যায়নি তখনও। শুধু কিছু বাক্সের কথা শোনা যাচ্ছিল।

সন্ধ্যা নামার আগেই ইডি-র নাগালে চলে এল সেই 'গুপ্তধন'। পড়ে আছে ৫০০ আর ২০০০ টাকার ভুরি ভুরি নোট। সেখানেই শেষ নয়। একগুচ্ছ সোনার বার, রুপোর কয়েন, কী নেই সেখানে! ব্য়াঙ্ক থেকে এল টাকা গোনার মেশিন। রাত পর্যন্ত প্রায় ৪০ কোটি টাকা উদ্ধারের খবর এসেছে, সোনা মিলেছে প্রায় ৫ কেজি। নিয়োগ দুর্নীতির টাকা? নাকি টাকার উৎস আসলে অন্য কিছু? এই প্রশ্নের উত্তর কবে মিলবে জানা নেই। তবে, আপাতত সোশ্যাল মিডিয়া ছয়লাপ টাকা উদ্ধারের সেই ছবিতে।
অন্যদিকে ১৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদের পর ছাড়া পেলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বহিষ্কৃত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। নিয়োগ দুর্নীতিতে যাঁদের নাম জড়িয়েছে, তাঁদের মধ্যে মানিকের নাম অন্যতম। বুধবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল তাঁকে। রাত ১২ টার পর ছাড়া পান তিনি। জানা যাচ্ছে, একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে মানিককে জেরা করা হয়। বিশেষ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে মানিকের সই করা বেশ কিছু সুপারিশ পত্র পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা।
সেগুলিকে সামনে রেখেই মানিককে জেরা করা হয়েছে ইডি সূত্রে খবর। ফের তাঁকে আবারও ডাকা হবে বলে জানা যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications