এবার একলা চলো! সবং-ভোটে চওড়া বিভেদ, বাম-কং মধুচন্দ্রিমায় ইতি বিধানসভায়
বামফ্রন্ট সবংয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর সুরেই সুর মিলিয়ে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বামেদের ছেড়ে একলা চলার বার্তা দিলেন দলকে।
সবংয়ের বিধানসভায় বামফ্রন্ট একতরফা প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। এবার বিধানসভাতেও বামেদের ছেড়ে একলা চলার পথে এগোতে শুরু করলেন অধীর-মান্নানরা। বামফ্রন্ট সবংয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর সুরেই সুর মিলিয়ে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বামেদের ছেড়ে একলা চলার বার্তা দিলেন দলকে।

সবং উপনির্বাচনে জোট ভেঙে একতরফা প্রার্থী ঘোষণার জেরে বাম-কংগ্রেসের ছন্দ কেটে গেছে বিধানসভাতেও। দুই পক্ষই পৃথক পৃথকভাবে কর্মসূচি নিচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। তা নিয়ে চলছে দু-পক্ষের চাপানউতোরও। অধীর চৌধুরী যেমন সিপিএম তথা বামফ্রন্টকে বিশ্বাসঘাতক বলে উল্লেখ করেছেন, তেমনই মহম্মদ সেলিম পাল্টা দিয়েছেন অধীরের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।
এই নিয়ে বাদানুবাদের মধ্যে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই সবং বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তাঁদের প্রার্থীর নাম একপ্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছে। তাঁরা এবার চিরঞ্জীব ভৌমিক নামে স্থানীয় এক যুব কংগ্রেস নেতাকে প্রার্থী করছে সবং বিধানসভায়। তাঁর নাম অনুমোদনের জন্য এআইসিসি-র কাছে পাঠানোও হয়ে গিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে স্রেফ একটি নাম জমা পড়ায় পরিষ্কার যে চিরঞ্জীবই প্রার্থী হচ্ছেন সবং-এ।
এই প্রার্থী বাছাই পর্বেই উঠে এসেছে সিপিএম প্রসঙ্গ। কারণ গত ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়েছিল কংগ্রেস। এই কেন্দ্র থেকে মানস ভুঁইয়া বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি পরবর্তী সময়ে তৃণমূলে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। সেই কারণেই এবারও জয় সুনিশ্চিত করতে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করার দিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী।

কার্যত তাঁর সেই ডাক অস্বীকার করে আগেভাগে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেয় বামফ্রন্ট। এবং বুঝিয়ে দেয় তাঁরা আর কংগ্রেসের সঙ্গে জোটধর্ম এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় না। ফলে এই কেন্দ্রে বিরোধীদের ভোট ভাগাভাগিতে তৃণমূল অনেকটাই সুবিধাজনক জায়গায় চলে যায়। বামফ্রন্টের কাছে ধাক্কা খেয়ে কংগ্রেসও পৃথক প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তারই প্রভাব এসে পড়েছে বিধানসভায়। চলতি বিধানসভায় মঙ্গলবার একসঙ্গে মুলতবি প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা ছিল বাম ও কংগ্রেসের। কিন্তু বামফ্রন্টের প্রতি বিধায়কদের উষ্মা দেখে আবদুল মান্নান জানিয়ে দেন, তাঁরা পৃথকভাবেই মুলতবি প্রস্তাব আনবেন। সেই নির্দেশ মেনেই বাম-কংগ্রেস একই কর্মসূচি পৃথকভাবে নিতে শুরু করে। বুধবারও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে একই ভাবে বিধানসভা ওয়াকআউট করে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস।












Click it and Unblock the Notifications