দেবশ্রী কোথায়, রজত মজুমদারের দিকে আঙুল ওঠে এখনও

কে দেবশ্রী রায়চৌধুরী?
বেহালার বেচারাম চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা ওই কিশোরী ১৯৮৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। থানায় ডায়েরি করার পরও যখন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসেছিল পুলিশ, তখন দেবশ্রীর বাবা শ্যামাপদ রায়চৌধুরী সিআইডি-র দ্বারস্থ হন। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের নির্দেশে মামলার তদন্তভার যায় রজত মজুমদারের কাছে। তিনি তখন সিআইডির এসএসপি। রজতবাবুই তদন্ত শুরু করেন। জানা যায়, মেয়েটি একজন যুবকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে ওডিশায়। তাদের ধরতে রজতবাবুর নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল ওডিশায় যায়।
এর পরই ঘটনা দ্রুত মোড় নেয়। যখন ওডিশা থেকে তাদের কলকাতায় আনা হচ্ছিল, তখন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় দেবশ্রী। রজতবাবু জানিয়েছিলেন, মেয়েটি চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সঙ্গে তার প্রেমিকও আত্মঘাতী হয়েছে। কিন্তু ওডিশা পুলিশ জানিয়েছিল, তন্নতন্ন করে খুঁজেও শব পাওয়া যায়নি। তখন থেকেই রজতবাবুর দিকে আঙুল উঠেছিল। যদিও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যানি।
মেয়ের এই পরিণতির পর বাবা শ্যামাপদ চৌধুরী নিজেই খুঁজতে বেরোন। মেয়ে মারা গিয়েছে, এই দাবিতে তিনি সহমত ছিলেন না। কিন্তু ১৯৮৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হাওড়ায় একটি হোটেলের ঘরে শ্যামাপদবাবুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রেও পুলিশের দাবি ছিল, শ্যামাপদবাবু আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর স্ত্রী শক্তি রায়চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, দু'টি ক্ষেত্রেই রজত মজুমদার জড়িত। প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে রাজি ছিল না পুলিশ।
এর পর এক শুভ্যানুধায়ীর উদ্যোগে শ্যামাপদবাবুর স্ত্রী তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দ্বারস্থ হন। শক্তিদেবীর করুণ অবস্থা দেখে বুদ্ধবাবুই তাঁকে একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। ২০০৫ সালে অবসর নেন ওই মহিলা।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বামফ্রন্ট আমলে সিপিএমের একাংশের ঘনিষ্ঠ ছিলেন রজত মজুমদার। তাই তিনি পার পেয়ে গিয়েছিলেন। নতুন জমানাতেও তৃণমূলের অন্দরে সেঁধিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। যতদিন রাজ্য পুলিশের 'সিট' তদন্ত করছিল, তিনি নিশ্চিন্ত ছিলেন রজতবাবু। শেষ পর্যন্ত সিবিআইয়ের জাল ধরাই পড়লেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications