করোনার গুজবে অতিষ্ঠ, অসহায় নামি চিকিৎসক! প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ
করোনা যোদ্ধাদের সম্মানের কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী সবাই। কিন্তু তা কি বিজ্ঞাপনী চমক? প্রতিবেশীদের কার্যকলাপে প্রশাসনিক উদাসীনতাকেই সামনে আনছে।
করোনা যোদ্ধাদের সম্মানের কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী সবাই। কিন্তু তা কি বিজ্ঞাপনী চমক? প্রতিবেশীদের কার্যকলাপে প্রশাসনিক উদাসীনতাকেই সামনে আনছে। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কনসালট্যান্ট সার্জেন অলোক শী। জীবনে কোনওদিন পরীক্ষায় দ্বিতীয় হননি। প্রাইভেটে এতো রোগীর চাপ যে তমলুক হাসপাতালে আর সময় দিতে না পেরে কাজ ছেড়েছেন। থাকেন জেলাশাসকের দফতরের পাশেই। গুজবে দিন দশেক ধরে তিনিই নিজের বাড়িতে কোণঠাসা। করোনা হয়েছে এই গুজবের ঠেলায় বাড়ির পরিচারিকা থেকেগৃহ শিক্ষক, গাড়ির ড্রাইভার সকলেই আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁর মেয়ের সামনেই পরীক্ষা, মাস্টার মশাইরা আসা বন্ধ করে দেওয়া সমস্যা তীব্রতর হয়েছে। ডাক্তারবাবুর কথায়, এ তো দেখছি করোনার চেয়ে গুজবের সংক্রমণ ছড়ায় ঢের বেশি গতিতে!
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হরিপদ মাইতির কথায়, ডাক্তার শীর খবরে অবাক হওয়ার কোনও কারণ নেই। মানুষ স্বাভাবিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হলেও এমন অমানুষ হচ্ছে কেন বুঝতে পারছিনা! চিকিৎসক পুত্রের কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ডাক্তার ছেলে বাড়িতে তখন আসেনি, কিন্তু সারা মহকুমায় রটিয়ে দেওয়া হল তিনি নাকি ছেলেকে বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছেন। এমনকী তাঁরও নাকি করোনা হয়েছে। থানায় অনেক ফোন করা হয়েছে, হাসপাতালে জানানো হয়েছে, বিএমওএইচের ফোন বলে তাঁকে পরীক্ষা করার কথা বলেছেন। তাঁকে সামাজিকভাবে বয়কট করার চেষ্টা হয়েছে। ছেলেকে দেড়মাস কলকাতা থেকে বাড়ি আনতে পারেননি। চিকিৎসক শীর উপর এই নোংরামির অভিযোগ করে তীব্র প্রতিবাদ করছেন হরিপদ মাইতি। সুস্থ সমাজে এটা চলতে পারে না। সমষ্টিগত প্রতিবাদ দরকার বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর কথায় মিডিয়াকে এগিয়ে আসতে হবে, প্রশাসন তো আসবেই। চিকিৎসকের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আলোকবাবু, সবাই তাঁর সঙ্গেই আছেন। একদিন ন্যায়ের জয় হবে।
তবে স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করছেন প্রশাসনিক উদাসীনতার। চিকিৎসকদের নিয়ে গুজব অনেক সময় ঈর্ষায় চক্রান্ত করেও রটানো হয়। তমলুক, মহিষাদলে আকছার তা হয়। তবে বর্তমানে তো রাজ্যে মহামারী আইন লাগু রয়েছে। করোনা যুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে থাকা যোদ্ধাদের যেখানে রাজ্য সরকার সংবর্ধনা দেয়, সেখানে অলোকবাবুর মতো অবস্থা দেখে প্রশাসনিক উদাসীনতাই চোখে পড়ে, মন্তব্য করেছেন বহু মানুষ।












Click it and Unblock the Notifications