সুপ্রিম রায়ে মামলা সরছে! বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া নির্দেশগুলিতে প্রভাব পড়বে?
তিনি যোগ্য প্রার্থীদের কাছে ভগবান! কেউ বলেন তিনি নাকি গরীবের ত্রাতা। তাঁর একটা নির্দেশেই চাকরি গিয়েছে খোদ মন্ত্রী কন্যার। শুধু তাই নয়, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকরি গিয়েছে অসংখ্য চাকরি প্রার্থীর।
আর এই লড়াইয়ে শেষ দেখে ছাড়বেন বলে মন্তব্য করেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকি মাথায় বন্দুক ঠেকিয়েও তাঁকে রোখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের একটা রায়ে হঠাত সবকিছু যেন বদলে দিয়েছে মুহূর্তে।

নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে। চোখে জল যোগ্য প্রার্থীদের। সমস্ত আশাই ভেঙে গেল বলছেন যোগ্যরা। কিন্তু সত্যিই কি সব আশা শেষ হয়ে গেল? আইনজীবীরা বলছেন একটা ধোঁয়াশা এখনও রয়েছে।
আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলছেন সম্ভবত সমস্ত নিয়োগ দুর্নীতি মামলা থেকে সরানো হয়নি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা শুনানি করতে পারবেন না বিচারপতি। তবে সবটাই নির্দেশনামা আসলে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
কার্যত ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ও। আর তাই আজ শুক্রবার কোনও প্রাথমিক মামলা শোনেননি তিনি। আদালতে বসেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নামা দেখতে চেয়েছেন।
ফলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় নির্দেশ দেন সেদিকে নজর সবার। তবে সুপ্রিম কোর্টের এহেন নির্দেশ সামনে আসার পরেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে যে সব রায় দিয়েছে সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

যদিও আইনজীবীদের একাংশের মতে, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং প্রাথমিক পর্ষদের একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ ওঠায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই সমস্ত তদন্তেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে একে একে গ্রেফতার হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্যের মতও একাধিক প্রভাবশালী। এমনকি গ্রেফতার হয়েছেন শাসকদলের একাধিক নেতা।
বিচারপতি সরে গেলেও সেই মামলা চলবে বলেই দাবি আইনজীবীদের। এমনকি পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতিতেও সিবিআই এবং ইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। যদিও আজ এই মামলাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়াও বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিমন্ত্রীর মেয়ের চাকরি গিয়েছে। চাকরি গিয়েছে একাধিক অযোগ্য প্রার্থীর।

যদিও কিছু মামলাতে সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশও দিয়েছে। ফলে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের যে নির্দেশ রয়েছে যে মামলায় সেভাবে এগবে বলে জানাচ্ছেন আইনজীবীরা। আইনজীবীদের অন্য একাংশের দাবি, প্রক্রিয়া অনুযায়ী একটা সময়ের পর একটা মামলা থেকে সরতেই হয় বিচারপতিদের। সেওক্ষেত্রে বিচারপতি গাঙ্গুলীকেও একদিন সরতেই হতো। এতে রায়ের উপর কোনও প্রভাব পড়ে না। সংবাদমাধ্যমে একটা জানিয়েছেন আইনজীবী কৌস্তব বাগচী।












Click it and Unblock the Notifications