ব্রিগেডের মঞ্চে ঐক্যের ফাটল বোজাতে আলিমুদ্দিনের ফোন আব্বাসকে! জেদের জায়গায় কংগ্রেস-আইএসএফ
বিধানসভা ভোটের আগে শেষ ব্রিগেড বামেদের! কর্মীদের চাঙ্গা করতে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই সভা বামেদের। তবে এবার ব্রিগেডে কোনও চমক নেই। তাই যেভাবেই হোক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ময়দানে চেয়েছিলেন তাঁরা। ফলে একটা খামতি থেকেই গ
বিধানসভা ভোটের আগে শেষ ব্রিগেড বামেদের! কর্মীদের চাঙ্গা করতে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই সভা বামেদের। তবে এবার ব্রিগেডে কোনও চমক নেই। তাই যেভাবেই হোক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ময়দানে চেয়েছিলেন তাঁরা। ফলে একটা খামতি থেকেই গিয়েছে।
রবিবার ব্রিগেডের মঞ্চে বাম, কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের নেতারা হাত ধরাধরি করে দাঁড়ালেও ঐক্যের ফাটল থেকেই যাবে। ব্রিগেড থেকেই তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে মহাজোটের ঘোষণার কথা ছিল বামেদের। তা সম্ভব কিনা থেকেই যাচ্ছেন প্রশ্নটা।

আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমস্যা কংগ্রেস-আব্বাসের!
ইতিমধ্যে আব্বাসকে ৩০টি আসন ছেঁড়েছে বামেরা। ভাঙর, নন্দীগ্রামের মতো আসন ছেড়েছে। এবার কংগ্রেসের পালা। একসঙ্গে ভোটে লড়তে ৩০ থেকে ৪০টি আসন বাম এবং কংগ্রেসের কাছে চায় আব্বাসে সিদ্দিকি। বামেরা আসন সমকঝোতায় রাজি হলেও এখনও বেঁকে কংগ্রেস। ব্রিগেডের আগেই এই সমস্যা মেটানোর চূড়ান্ত সময়সীমা কংগ্রেসকে দেয় ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। কিন্তু ব্রিগেডের আগের রাতেও সেই সমস্যা মেটানো যায়নি বলে খবর। শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক হয়। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হন খোদ আলিমুদ্দিনের ম্যানেজাররা।

আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ
জানা যায়, এদিন আলিমুদ্দিনে বৈঠকে বসে সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। বৈঠক চলাকালীন আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। খোদ বাম এক নেতা এই ফোন করেন বলে জানা যায়। কিন্তু কংগ্রেস ও আইএসএফ দু'পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় জোটপ্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায় বলে খবর। কেউ কারোর জায়গা ছাড়তে নারাজ বলে খবর। জানা গিয়েছে, ব্রিগেড সমাবেশের পরে ফের কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের মধ্যেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। দুই দলের দ্বন্দ্ব যে স্পষ্ট এদিন স্বীকার করে নিয়েছেন অধীর চৌধুরী ও মহম্মদ সেলিমের মত জোটের শীর্ষনেতৃত্ব। সমাবেশের পরে ফের বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। ফলে রবিবার ব্রিগেডে কোথাও জোট ঐক্যে ধাক্কা খাবে না তো? প্রশ্ন রাজনৈতিকমহলের।

বক্তব্য রাখবেন তো আব্বাস?
জানা গিয়েছে, রবিবার ময়দানে সভাপতিত্ব করবেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সিপিএমের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখার কথা সীতারাম ইয়েচুরি, সূর্যকান্ত মিশ্র ও সংখ্যালঘু নেতা মহম্মদ সেলিমের। কংগ্রেসের পক্ষ বক্তা তালিকায় রয়েছেন ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল ও অধীর চৌধুরীর। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট জোটে যোগ দেওয়ায় তাঁদের পক্ষে বক্তব্য রাখবেন পীরজাদা আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকি। এছাড়াও বাম শরিকদের পক্ষ থেকে একজন করে বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন। তবে রাজনৈতিকমহলের আশঙ্কা, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সমস্যা থাকায় আব্বাস আসবেন তো? না তাঁর প্রতিনিধি পাঠাবেন? আতংকে রয়েছেন ম্যানেজাররা

কংগ্রেসের জেতা আসন দাবি করেছে আইএসএফ
সিপিএমের সঙ্গে শরিকদের মন কষাকষি হলেও আব্বাসের দলকে বেশ কিছু আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে তারা। কিন্তু কংগ্রেস এই জট কাটাতে পারছে না। কংগ্রেসের জেতা আসন দাবি করেছে আইএসএফ, তা ছাড়তে নারাজ কংগ্রেস। তাই জটিনতা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। পুরনো অবস্থানেই অনড় রয়েছে উভমালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুর। চারটি জেলাতেই কংগ্রেসের দাপট রয়েছে। এই জেলাগুলিতে আব্বাসের দলকে বেশি আসন ছাড়লে সাংগঠনির শক্তি দুর্বল হবে। বিশেষ করে দুই জেলা মালদহ ও মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক এখনও অব্যাহত। আব্বাসের দলের সঙ্গে ভোটের সমাকরণ তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য মিলতে পারে, তা অবশ্য মানছে কংগ্রেসও।












Click it and Unblock the Notifications