বুথে থাকুক রাজ্য পুলিশও! কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাংলা ভাষা বোঝে না, কমিশনে তৃণমূল
কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলা ভাষা বোঝে না। তাই তাদের সঙ্গে রাজ্য পুলিশের প্রতিনিধি রাখার আর্জি জানাল তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে এবার বাংলায় নির্বাচন হবে। গত কয়েকমাস ধরে এমনটাই মন্তব্য শোনা যায় বিজেপি নেতাদের মুখে। সেই মতো ভোটের আগেই বাংলায় পা রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে ইতিমধ্যে টহল শুরু হয়েছে।
প্রথম দফার ভোটের আগে বাংলায় চলে আসবে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের দাবি, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে থাকবে না রাজ্য পুলিশ। বিরোধীদের দাবি মেনে একেবারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে হবে এবার বাংলার ভোট। আর তাতেই আপত্তি তৃণমূলের!

বাংলা ভাষা জানে না কেন্দ্রীয় বাহিনী!
সুষ্ঠ এবং অবাধ নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হ তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। এদিন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, যশবন্ত সিনহা, প্রতিমা মণ্ডল ও নাদিমুল হক। কমিশন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমা মণ্ডল বলেন, 'যেহেতু কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলা বোঝে না তাই কমিশনের কাছে আমার আর্জি ছিল, এক জন অন্তত রাজ্য পুলিশ দেওয়া হোক। তাহলে বিশেষত মহিলা ভোটারদের সুবিধা হবে।' তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করার ব্যাপারে কোনও বাধা নেই কমিশনের তরফে।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক-রুট মার্চ দেখে ভয় পান গ্রামের মানুষ
এদিন মহুয়া মৈত্র বলেন, একে ভাষা বোঝা যায় না, তার মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক বা রুট মার্চ করা দেখে ভয় পেয়ে যান গ্রামের মানুষ। ফলে সমস্ত বুথে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে এতে ভোটারদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মহুয়া জানান, বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন। প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পর্যবেক্ষকদের নিয়েও কমিশনের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাংসদ।

বাঙালি পর্যবেক্ষক!
নতুন করে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। অনেকে বলছেন, করোনার সেকেন্ড ওয়েভ আসছে। সেক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। করোনার নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা সব জায়গায় তা দেখার জন্যে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সৌগত রায়। আর তিনি যেন বাঙালি হয় সে বিষয়টিও কমিশনের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সৌগতবাবু বলেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে কমিশন ভেবে দেখার আশ্বাস দিয়েছে তাঁদের।

৯৫৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগতে পারে
ভোট ঘোষণার আগেই বাংলায় চলে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে এরিয়া ডোমিনেশনের কাজ চলছে। তবে বাহিনী আরও প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার জন্যই ৯৫৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানালেন বিশেষ পর্যবেক্ষকরা। আট দফার জন্য এই পরিমাণ বাহিনী চাওয়া হবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম দফাতেই এই বাহিনী চেয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। আট দফায় ভোটই রাজ্যের জন্য নজিরবিহীন। আর এই পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরও নেই রাজ্যে।

বাহিনী মোতায়েনের নকশা তৈরি
ইতিমধ্যে বাহিনীকে কীভাবে কাজে লাগানো হবে সেই নকশা তৈরি করে ফেলেছেন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষকরা। এছাড়াও বাংলার কোন জেলায় কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে তার একটা প্রাথমিক নকশা তৈরি করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম সহ জঙ্গলমহলে প্রতি বুথেই থাকবে এক সেকসন অর্থাৎ বাহিনীর আট জন করে বাহিনী থাকবে বলে খবর। গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় ক্যুইক রেসপন্স টিমের সংখ্যা এবার দ্বিগুন থাকবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। পোস্টাল ব্যালটে ভোটের জন্য রাখা হচ্ছে ৪ জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। ভোট শেষের পর রাজনৈতিক সংঘর্ষ মোকাবিলা করতে রাখা হবে ৫ কোম্পানি বাহিনী।












Click it and Unblock the Notifications