ওস্তাদ ঘাবড়াবেন না, কাবুলে এখন অন্য তালিবান! কলকাতায় ফিরে মুগ্ধতার গল্প শোনালেন অধ্যাপক তমাল
ওস্তাদ ঘাবড়াবেন না, কাবুলে এখন অন্য তালিবান! কলকাতায় ফিরে মুগ্ধতার গল্প শোনালেন অধ্যাপক তমাল
রবিবার রাতে কলকাতায় ফিরেছেন নিমতার যুবক তমাল ভট্টাচার্য। সকালে কাবুল থেকে গাজিয়াবাদ, তারপর কলকাতা। সেখানে তিনি গিয়েছিলেন, অধ্যাপনা করতে। তিনি কাবুল (kabul) কিংবা তালিবান (taliban) সম্পর্কে যা বললেন, তা বর্তমানে সংবাদ মাধ্যমে যে খবর সম্প্রচারিত হচ্ছে তার প্রায় বিপরীত ধর্মী। জানালেন শান্তিপূর্ণভাবেই ক্ষমতার হস্তান্তর হয়েছে সেখানে।

বাড়িতে উৎকণ্ঠার অবসান, বায়ুসেনাকে ধন্যবাদ
মার্চে কাবুলে গিয়েছিলেন নিমতার ওলাইচণ্ডীতলার বাসিন্দা তমাল। কাবুল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরেই একের পর এক প্রদেশ দখল করতে শুরু করে তালিবানরা। তারপর তালিবানরা এগিয়ে আসতে থাকে কাবুলের দিকে। গত রবিবার তালিবানরা কাবুলে ঢুকে পড়ে। এই খবর পাওয়ার পর থেকেই উৎকণ্ঠায় ছিলেন তমাল ভট্টাচার্যের পরিবারের সদস্যরা। এরপর রবিবার রাতে বাড়ি ফেরার পরে সব উৎকণ্ঠার অবসান। যদিও গত কয়েক দিনে বাড়ির লোকের ভয় দূর করতে ভিডিওকল করেছেন, আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে বাড়ির লোককে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন তমাল
কলকাতায় ফেরার পরে তমাল বায়ুসেনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ধন্যাবাদ জানিয়েছেন মোদী সরকারকেও। তিনি বলেছেন একটা অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছিল সেখানে। তবে তালিবানদের প্রধান তাঁদের সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, কোনও ক্ষতি করা হবে না। তিনি বলেন, তালিবানদের তরফে বলা হয়েছে তারা নতুন দেশ তৈরি করতে চায়। তারা আর গজ শতাব্দীর ৯০ দশকের তালিবানরা এক নয় বলেও তাঁদের জানানো হয়েছিল।

ওস্তাদ ঘাবড়াবেন না
গত রবিবার গাড়িতে করে অন্যসবার সঙ্গে নিজের বাসস্থানের দিকে ফিরছিলেন তমাল ভট্টাচার্য এবং তাঁর সহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেই সময় রাস্তাতেই তারা দেখেন প্রচুর বাইক ও গাড়ি। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, তালিবানরা শহরের উপকণ্ঠে উপস্থিত হয়েছে। এরপর তালিবানরা ঢোকার পরে তাঁদের পরিচয় পেয়েই বলে, ওস্তাদ চিন্তা করবেন না, ঘাবড়াবেন না। কিচ্ছু হবে না। তালিবানদের তরফে তাঁদের পর্যান্ত নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি বলে দেওয়া হয়, এর মধ্যে যাতে কোনও তৃতীয় পক্ষ ঢুকে হামলা না চালাতে পারে, তা তারা নিশ্চিত করছে। তারা কোনওভাবেই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেননি বলেই জানিয়েছেন। তাঁদেরকে সবসময় ঘিরে থাকত ৫ তালিব যোদ্ধা। তাঁরা যাতে বাইরে কোথাও না যান সেদিকেও নজর রাখা হয়েছিল। কাবুলে শান্তিপূর্ণভাবেই ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তালিবানরা বন্ধু
শনিবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয় তালিবানরা প্রায় দেড়শোজনকে অপহৃত করেছে। সেই দলে তমাল ভট্টাচার্যও ছিলেন। তিনি বলেছেন, কোনওভাবেই সেই ঘটনাকে অপহরণ বলা যাবে না। তাদের নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট-সহ সব নথি পরীক্ষার করা হয়েছে। তালিবানরা তাঁদের সঙ্গে ক্রিকেট পর্যন্ত খেলেছে। দলে থাকা মহিলাদের সঙ্গে কোনও খারাপ ব্যবহার তালিবানরা করেনি বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, কাবুলে কোনও সমস্যা নেই। সব দোকান-বাজার খোলা। তালিবানদের আন্তরিকতা, ভালবাসা, সহযোগিতায় তিনি কিংবা তাঁদের অন্য সহকর্মীরা আশ্বস্ত বলে জানিয়েছে তমাল। তবে তিনি সেখানে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর কাছে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, তালিবানরা কি নারী বিদ্বেষী? তমালের স্পষ্ট কথা, তালিবানরা ইসলামি শরিয়তি আইন মেনে চলে। সেখানে কোথাও বলা নেই মেয়েরা স্কুলে যেতে পারবে না। আফগানিস্তানে প্রচুর শিক্ষিত মহিলা আছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। মহিলারা বিভিন্ন জায়গায় কাজও করেন। প্রচুর মহিলা শিক্ষকতা করেন, তাঁরা তালিবান কাবুলে আসার পরে কাজ করে চলেছেন।

তালিবানদের সাহায্যেই দেশে ফেরা
তমাল জানিয়েছে, তালিবানদের তিনরকমের পদ রয়েছে। তালিবান অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, তালিবান ফাইটার্স এবং তালিবান ল অ্যান্ড ফোর্সেস। এদের সাহায্যেই দেশে ফেরা বলে জানিয়েছেন তিনি। যাঁদের কাছে পাসপোর্ট নেই, হারিয়ে গিয়েছে, তাঁদেরকেও বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে তালিবানরা। তাঁদেরকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে বাড়তি বন্দোবস্ত করা হয়েছিল তালিবানদের তরফে। খাবার থেকে জল সবই দেওয়া হয়েছে। তালিবানদের সম্পর্কে যা প্রচার করা হয়, তা একেবারেই ঠিক নয় বলেই দাবি করেছেন তিনি।
তালিবানদের গুলিতে মৃত্যুর অভিযোগ প্রসঙ্গ তমাল বলেছেন, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা একেবারে অন্য কারণে। তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে বারবারই বলতে চেয়েছেন, তালিবানদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা তৈরি করা হয়েছে।
কেননা তাঁরা তালিবানদের কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছেন, অন্য কিছু নয়।












Click it and Unblock the Notifications